এটা কি কোন রাস্তা? নাকি জল কাদায় পরিপূর্ণ সদ্য লাঙ্গল দেওয়া ধানের জমি! প্রশ্ন এলাকার বাসিন্দাদের

0
35

ইসলামপুর: হেঁটেই যান বা কোন যানবাহনে। হাঁটার ক্ষেত্রে অন্তত এক হাঁটু কাদা জলের পথে পেরোতে হবে দীর্ঘপথ। অথবা  যানবাহনে গেলে অর্ধেকট  চাকাই ডুবেজাবে জলকাদায়। এমনকি যে কোন মুহূর্তে  উল্টে যাওয়ার ঘটনাও  ঘটতে পারে। ফি বছর বর্ষা এলেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে একাধিক এলাকায়। পায়ে হেঁটে কিংবা সাইকেলে করে ওই পিচ্ছিল রাস্তায় চলাফেরা করা তো সম্ভবই নয়। কর্দমাক্ত রাস্তায় আটকে যাচ্ছে গাড়ি কিংবা কখনও তা উল্টেও যাচ্ছে।

আর ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। এসব নিয়েই বছরের-পর-বছর কেটে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই যেন প্রকাশ পাচ্ছে।উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া ব্লকের সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভক্তিয়াডাঙ্গী এবং বিলাতি বাড়ি সহ একাধিক জায়গায় রাস্তা নিয়ে চরম দূর্ভোগে এলাকার বাসিন্দারা। ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। একনজরে দেখে মনে হতেই পারে যে বেশ কিছুক্ষণ আগে ওই জায়গায় ধান লাগানোর জন্য বলদ দিয়ে নাঙ্গল চালানো হয়েছে। ওটি যে আদৌ রাস্তা এমনটা কারোর মনে হতেই পারে না।

ভোট আসে ভোট যায়। প্রতিশ্রুতিও ভেসে যায় বন্যার জলে। কিন্তু রাস্তা নতুনভাবে নির্মিত হয় না এলাকায়। সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সোনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ওই সংসদের সদস্যার প্রতিনিধি চন্দ্রশেখর সিংহ। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত সমিতি ,জেলা পরিষদ কিংবা দিদিকে বলো তে বলেও আদৌ সমস্যার সমাধান হয়নি ।চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির অধীনে অনেকগুলো গ্রাম পঞ্চায়েতে রাস্তার নির্মাণ হলেও এক্ষেত্রে তাদেরটা আদৌ বরাদ্দ হয়েছে কিনা তা পরিষ্কার নয়। অথচ চোপড়া ব্লকে যদি সবচাইতে কোনও খারাপ রাস্তা থাকে তবে এটি সেই রাস্তা।

স্কুল খোলা থাকা অবস্থায় হাজারো পড়ুয়া ওই রাস্তা দিয়েই চলাচল করে।বিলাতিবাড়ি এলাকা থেকে হোসেনপুর মোড় পর্যন্ত এবং ভক্তিয়া ডাঙ্গী থেকে চোপড়ার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা গুলি দেখভালের অভাবে যে অবস্থায় এসে পৌঁছেছে তাতে প্রাণ হাতে করে সবাইকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এমনকি রাত-বিরেতে প্রসূতি মায়েদের অবস্থা চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। তবুও এ বিষয়ে দেখার যেন কেউ নেই। এলাকার বাসিন্দা শশধর কর বলেন, একেই রাস্তার অবস্থা ভীষণ খারাপ তারপর বর্ষার মুহূর্তে কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে জল কাদায় পরিপূর্ণ রাস্তায় গাড়ি উল্টে গিয়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে অনেকেই।  তবুও সমস্যার সমাধান কিছুই হয়নি। অবিলম্বে ওই রাস্তা নতুন করে পাকা করবার দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here