হঠাৎ করে ফুরিয়ে যাওয়া এক রাজকুমারের গল্প : ‘দিল বেচারা’ কোনো ছবি নয়, আবেগের চিত্রায়ণ

0
110

পরিচালনা : মুকেশ ছাবড়া 

অভিনয় : সুশান্ত সিং রাজপুত, সঞ্জনা সাংভি, স্বস্তিকা মুখার্জি, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, সইফ আলি খান

রেটিং : ——

দেবলীনা ব্যানার্জী : ২৪ জুলাই, এই দিনটির জন্য অধীর আগ্রহে বসে ছিল গোটা দেশ। সাম্প্রতিক অতীতে এমন অপেক্ষা প্রেক্ষাগৃহে কোনো ছবির মুক্তির জন্যও দর্শক করেছে কিনা সন্দেহ। ঠিক সন্ধে সাড়ে সাতটায় ডিজনি হটস্টার ফোনে, ল্যাপটপে খুলে ‘দিল বেচারা’র জন্য বসেছিল তামাম ভারতীয়।

 

ঝড়ের গতিতে বেড়ে গেছে এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ভিউয়ারশিপ। অপেক্ষার অবসানে ইমানুয়াল রাজকুমার জুনিয়ার ও কিজি বসুর প্রেমকাহিনী ফুটে উঠেছে পর্দায়। ফুটে উঠেছে ফুরিয়ে যাওয়া এক জীবনের গল্প, ‘এক থা রাজা এক থি রানি.. দোনো মর গয়ে.. খতম কাহানি’৷ বাস্তবে ‘দিল বেচারা’ কোনো ছবি নয়, এ এক আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

আশ্চর্যজনক ভাবে হঠাৎ করে চলে যাওয়া সুশান্তের না বলা কথা যেন বাঙ্ময় হয়ে উঠেছে এ ছবিতে। বাস্তব আর পর্দার গল্পের মধ্যে এত মিল কি করে সম্ভব!  সত্যিই অবাক হতে হয়। ডিজনি হটস্টারে মুক্তির তিন ঘন্টার মধ্যে আইএমডিবি-তে ১০/১০ রেটিং পেয়েছে ‘দিল বেচারা’। কেবল বলিউড না হলিউডের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।

বেঁচে থাকতে যে ভালবাসার অপেক্ষা ছিল, না থেকে সেই ভালোবাসায় ভর করে গড়ে দিলেন একের পর এক ইতিহাস। মুক্তির আগে থেকেই জানা ছিল ‘দিল বেচারা’র রিভিউ করতে যাওয়া হাস্যকর। এ আবেগের কোনো মাপজোখ সম্ভব নয়। ‘দিল বেচারা’ ছবি মানেই সুশান্ত সিং রাজপুত আর তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি।

এলোমেলো চুল, মায়াভরা দুই চোখ, অফুরন্ত পাগলামি, জীবনের সব কষ্ট হাসতে হাসতে আড়াল করা – এসবেরই প্রতীক সুশান্ত নিজে ও তাঁর শেষ ছবি ‘দিল বেচারা’। সুশান্ত-ভক্তরা ইতিমধ্যেই ছবির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। পরিচালক মুকেশ ছাবড়ার প্রথম ছবি ‘দিল বেচারা’ দুই ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের প্রেম, ইচ্ছে পূরণের গল্প৷ কিজি বসু (সঞ্জনা সাংভি) আর ম্যানি (সুশান্ত) দুজনেই ভুগছেন ক্যানসারে৷ হেল্প সেন্টারে দুজনের আলাপ, বন্ধুত্ব, প্রেম৷

একটা আধখানা গানের পূরণ হওয়ার পিছনে ছুটছেন দু’জনে৷ এই গান আসলে তাঁদের দুজনের আধখানা জীবনের রূপক৷ এই জার্নিটা একটা ক্যামেরায় বন্দি করছিলেন ছবিতে সুশান্তের বন্ধু জেপি৷ সেও ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে অন্ধ হয়ে যায়৷ তবে শ্যুট থেমে থাকে না, চলতে থাকে ক্যামেরার গল্প৷ ঠিক বাস্তবের মতো সিনেমাতেও, ম্যানি ওরফে সুশান্তের মৃত্যুর পর পর্দায় ফুটে ওঠে সেই ক্যামেরায় বন্দি গল্প!

‘এক থা রাজা এক থি রানি………  খতম কাহানি’ – প্রেমিকা কিজির এই কথাকে সত্যি হতে দেয়নি ইম্যানুয়েল রাজকুমার জুনিয়র ওরফে ম্যানি। সব হিসেব ওলট-পালট করে দিয়েছে প্রেমিকা কিজির জীবনে।গোটা সিনেমাজুড়ে একটা মৃত্যুভয় তাড়া করে বেড়ালেও কোথাও যেন ক্ষণস্থায়ী জীবনের স্বাদ,  ম্যানি-কিজির দুষ্টি-মিষ্টি রোম্যান্স, হাসিঠাট্টা, আবেগ দেখে অজান্তেই চোখের কোণ ভিজতে বাধ্য। কিজি বাসুর চরিত্রে সঞ্জনা একদম মানানসই।

কিজির মা-বাবার ভূমিকায় স্বস্তিকা এবং শাশ্বত দুর্দান্ত। জামসেদপুরের সাদামাটা বাঙালি পরিবারের স্নেহময়ী মা স্বস্তিকা আর আদুরে মেয়েকে নিয়ে চিন্তান্বিত বাবার ভূমিকায় শাশ্বত। পুরো গল্পেই দু’জনের চরিত্র বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ছোট চরিত্রে অতিথি শিল্পী হিসেবে নজর কেড়েছেন সইফ আলি খান। সবশেষে ম্যানি হিসেবে সুশান্তের ভুমিকা নিয়ে কিছু নতুন করে বলা গেল না। কারন ছবিতে ম্যানি আর সুশান্ত সিং রাজপুত মিলেমিশে একাত্মা হয়ে উঠেছিল।মৃত্যুকে অপেক্ষা করতে বলে স্বপ্নপূরণের পথে ছুটতে থাকা এক যুবক যেন বাস্তব আর পর্দার গল্পকে এক সুতোয় বেঁধে দিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here