করোনাকালে মধ্যবিত্তদের অতি সাধারণ ভাবে ইমিউনিটি বৃদ্ধির কৌশল

0
292

শেফ দুর্জয় ঘোষ: করোনাকালে এখন মানুষের এস্পেশালি মধ্যবিত্তদের আতঙ্কের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে খাবারদাবার এবং রান্না। এর কারন হল কোন খাবার খেলে শারীরিক অসুখ হবে না বা হবে এবং সেই খাবার বানাতে গেলে প্রতিদিন না হলেও প্রতি সপ্তাহে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজার করাও জরুরি। এই বাজারে গেলে আবার করোনার থাবায় পরে যাওয়ার সম্ভাবনা। প্রতিটা খাবারে রয়েছে বিভিন্ন গুনাগুন। মানুষের এখন দরকার সেই সব খাবার যাতে আছে ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার গুন। এবং এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের সুস্থতা এবং রোগের আক্রমণে দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়া থেকে টিকে থাকতে প্রয়োজন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার রক্ষা কবচ। প্রতিদিনের জীবনে অতি সাধারণ উপলব্ধ হওয়া যে সব খাবার বা খাবারের প্রণালী দিয়ে ইমিউনিটি বৃদ্ধি করা যায় সেই গুলি হল –

গ্রিন-টি এবং চিনি ছাড়া চা:-

গ্রিন-টি দেহের জন্য দারুণ উপকারী। গ্রিন-টি এগুলো অর্গানিক ফারমিং দ্বারা তৈরি হয়। এই চা ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী, ক্যালোরি অনেক কম এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। গ্রিন-টি খেলে দেহের রোগ প্রতিরোধীব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। প্রতিদিন সকালে গ্রিনটি খাওয়ার অভ্যাস করুন। যদি গ্রিন-টি না পান তাহলেও উপায় আছে। সাধারণ চা-এ লেবু দিয়ে চিনি ছাড়া খান। গ্রিন টির মত না হলেও কাছাকাছি গুনাগুন পাবেন অবশ্যই।

প্রতিদিন টম্যাটো এবং লেবু:-

প্রতিদিনের রান্নায় টম্যাটো, লেবু দিয়ে দিন। পাশাপাশি ভালো ভাবে ধুয়ে কাঁচা টম্যাটো এবং লেবু স্যালাড তৈরি করুন। নিয়ম করে এই স্যালাড প্রতিদিন খান। এতে ভিটামিন ই ও ভিটামিন সি দেহে তৈরি হয় এবং শরীরে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

বাড়িতে বানানো চিকেন স্যুপ:-

বাড়িতে বানানো চিকেন স্যুপ মানুষের শরীরের জন্য খুব উপকারী। এই করোনাকালে কোন ভাবেই বাইরের চিকেন স্যুপ বা প্যাকেট যাত চিকেন স্যুপ যেন না খান। বাড়িতেও চিকেন স্যুপ যখন বানাবেন তখন যেন অতি সাধারণ পদ্ধতি অবলম্বন করবেন যেমন শুধু মাত্র ফ্রেস চিকেন, পিয়াজ বাটা, কুশুম ছাড়া ডিম, লবণ এবং সামান্য কাঁচা লঙ্কা দিয়ে তৈরি করুন এই চিকেন স্যুপ। বাড়িতে বানানো চিকেন স্যুপে থাকে কারনোসিন নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ। এই কারনোসিন মানুষের শরীরে ভাইরাসজনিত জ্বরের সংক্রমণ রুখে দিতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন কাঁচা হলুদ:- 

কাঁচা হলুদের গুণ কে না জানে। প্রতিদিনের রান্নায় প্যাকেট যাত হলুদের থেকে কাঁচা হলুদ ছেঁচে ব্যাবহার করুন এতে রান্নায় রাসায়নিক রংএর প্রদুরভাব কমবে। যত বড় কোম্পানির প্যাকেট যাত হলুদই হোক না কেন রাসায়নিক রং তাতে থাকবেই। এই সময়ে যতটা পারাজায় এই রাসায়নিক থেকে দূরে থাকাই ভাল।

স্যালাডেও তরমুজ:-

তরমুজে থাকে গ্লুটাথায়োন নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। এতে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের লড়াই করার সক্ষমতা বাড়ে। প্রতিদিন পারলে স্যালাডে তরমুজ রাখুন। তাতে করে স্যালাডের পানসে স্বাদ থেকে কিছুটা মুক্তি পাবেন এবং শরীরের পক্ষেও খুব ভাল।

আদা আমলকীর চাটনি:-

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভালো উৎস হল আদা। মুশকিল হল আদা কাঁচা খাওয়া যায় না। অন্যদিকে আমলকীতে আছে প্রচুর ভিটামিন সি। আবার আমলকী শারীরিক ফ্যাট কমাতেও সাহায্য করে। তবে আদা কাঁচা খাওয়া যায় না এবং আমলকীও এতখানি টক যে অনেকেই এটি কাঁচা খেতে পারে না। তাহলে উপায় কি? উপায় অবশই আছে। আমলকীর সাথে অল্প আদা ও খেজুর বেটে নিয়ে একটি চাটনি তৈরি করুন ব্যাস। আপনার রসনার তৃপ্তিও হল সাথে আদা ও আমলকীর গুণের উপকারও পেলেন। দুপুরে প্রতিদিনের শেষ পাতে রাখুন এই চাটনি।

সব শেষে টক দই:-

খাওয়ার শেষে মিষ্টি দই খাবারের এক দারুন মাত্রা এনে দেয়। তবে মিষ্টি দইয়ের থেকে টক দই এর গুণ অনেক বেশি। টক দই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ অন্যান্য খনিজ পদার্থের সমাহার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে দারুণ কার্যকর। টকদইয়ে ভাল কিছু ব্যাকটেরিয়া রয়েছে যা দেহের জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। যদি টক দই নিজে লেবু দিয়ে রোজ তৈরি করেন তাহলে ব্যাপারই আলাদা। তবে বাজারের প্যাকেট যাত টক দই খুব একটা মন্দ নয়। তবে কেনার সময় অবশ্যই নামী কোম্পানির এবং আনুসাঙ্গিক সতর্কতা অবশ্যই দেখে নেবেন। টক দই শারীরিক ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে পাশাপাশি টক দই মানুষের শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস গ্রহণে সাহায্য করে। এ দুটি উপাদানই শিশুদের মস্তিষ্ক এবং হাড় গঠনে প্রয়োজনীয়। এই কটি অতি সাধারণ খাবার বা খাবার তৈরির প্রণালী ফলো করলে অবশ্যই আপনি বা আপনারা এই করোনা কালে সুস্থ থাকবেন। শুধু করোনাকালে কেন সারা জীবন সুস্থ থাকবেন। আবার লেখা হবে ভাল থাকবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here