করোনার ভ্যাক্সিন, গোষ্ঠী (herd) ইমিউনিটি, এবং ইমিউনিটির অসম্পূর্ণ ইতিবৃত্ত

0
286
File picture

ডঃ জয়ন্ত ভট্টাচার্যঃ এপ্রিলের পরে ১৪ জুন, ২০২০-তে NDTV-র রিপোর্ট অনুযায়ী চিনে একদিনে সর্বোচ্চ ৫৭ জন নতুন করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে, বেইজিং সহ। যে দেশ থেকে করোনার উৎপত্তি এবং যেখানে কঠোরতম লকডাউনের মধ্য দিয়ে করোনা সংক্রমণকে রোখার চেষ্টা করে সফলও হয়েছে সে দেশে এতদিন পরে আবার সংক্রমণ? তাহলে করোনা প্রতিরোধের ইমিউনিটি কি করোনা আক্রান্ত হবার পরেও গড়ে ওঠে না? প্রশ্ন আসবে আমাদের মনে, মানুষের ইমিউনিটির চরিত্র কেমন?

এ যেন এক মৃত্যুমিছিল চলছে – করোনার মৃত্যুমিছিল। ১৩.০৬.২০২০-তে worldometer-এর তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীতে আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৭৬৫,৮৭৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪২৮,৭৫৩ জনের, সেরে উঠেছে ৩,৯৯৮,৭৫১ জন। এর মধ্যে খোদ আমেরিকাতেই মৃত ১,১৬,৮৩১ জন। সংক্রমণের হারে ভারত এখন ৪র্থ স্থানে – সংক্রমিতের সংখ্যা ৩১০,১৩১, মৃত্যু ঘটেছে ৮,৮৯৫ জনের, সেরে উঠেছে ১৫৪,৬৯৬। কিন্তু ভারতে করোনা সংক্রমণের গ্রাফ এখনো ঊর্ধমুখী বা এক্সপোনেনশিয়াল। তাহলে আমাদের মুক্তির উপায় কি? এখানেই আসবে আমাদের ইমিউন সিস্টেম নিয়ে প্রাথমিক কিছু কথাবার্তার প্রসঙ্গ।

কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস ঘটিত যে ভয়ঙ্কর সংক্রমণের সময় আমরা অতিবাহিত করছি সেটা একেবারেই অচেনা, আগন্তুক। মানুষের শরীরের সাথে এর কোন পূর্ব পরিচয় ছিলনা। আরএনএ ভাইরাস ঘটিত আগে যে মহামারি হয়েছে – যেমন, ২০০২-৩-এ সার্স-কোভ-১ বা ২০১২-তে মূলত মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ মার্স (MERS) – সেগুলোর থেকে এর চরিত্র ভিন্ন। এর গায়ে থাকা স্পাইক প্রোটিনের ফলে সংক্রমণক্ষমতা অনেক বেশি। সাধারণ ফ্লু-র চেয়ে ১০ গুণ বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা। যদি আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি তৈরি করতে পারে তাহলে স্থায়ী সমাধান হবে, যেমনটা হাম, পোলিও বা স্মল পক্সের ক্ষেত্রে হয়েছে – বছরের পরে বছর ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে লাগাতার প্রচার এবং প্রতিটি দেশে সার্বজনীন টীকাকরণের ফলে। বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া এ রোগগুলো এখন পৃথিবী থেকে নির্মূল হয়ে গেছে।

দুভাবে আমরা করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে স্থায়ীপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি গড়ে তোলার কথা ভাবতে পারি। এবং এ দুটোই একমাত্র পরীক্ষিত কার্যকরী পথ।

(১) সমষ্টিগত ইমিউনিটি বা হার্ড ইমিউনিটি – যদি ৭০% থেকে ৯০% জনসংখ্যার  সংক্রমণ ঘটে (১০.০৪.২০২০-তে জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাব্লিক হেলথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী) তাহলে আমরা হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করেছি এমনটা ভাবতে পারি। এরকম একটা পরিসংখ্যান প্রায় অসম্ভব। নিউ ইয়র্কের মতো করোনা-বিধ্বস্ত শহরে যেখানে মৃত্যু হয়েছে ২৪,২৯৯ জনের (সমগ্র ভা্রতের চেয়ে অনেক বেশি) সেখানে শহরের সমগ্র জনসংখ্যার মাত্র ১২.৩ থেকে ১২.৭% আক্রান্ত হয়েছে। ফলে ওখানেও হার্ড ইমিউনিটির কোন ভরসা বৈজ্ঞানিকেরা দেখতে পাচ্ছেন না।

(২) টীকা বা ভ্যাক্সিন।

আমরা দুটো বিষয় নিয়েই একটু বিস্তারে কথা বলি। ভাইরাসের প্রজনন সংখ্যা (রিপ্রোডাকশন নাম্বার) দিয়ে এর গতিপ্রকৃতি এবং সংক্রামিত করার ক্ষমতা মাপা হয়। একে বলা হয় R0 – যা দিয়ে বোঝা যায় একজন সংক্রমিত মানুষ ক’জনের মাঝে এই ভাইরাসকে পৌঁছে দিতে পারে। সংক্রমণের সময় সাধারণভাবে এ সংখ্যা ২-২.৫। চিনের য়ুহানে একসময়ে এটা ৪ অব্দি পৌঁছেছিল। এখন এ সংখ্যা ০.৩২-এর নীচে এসে পৌঁছেছে। এখানে আরো পরিষ্কার করে বলা দরকার – এপিডেমিওলোজির ভাষায় সংখ্যাটি ১-এর নীচে গেলে সম্পূর্ণ সংক্রমণমুক্ত বলা যেতে পারে না। যেটা হয় তাহ’ল সংখ্যাটি ১ এর নিচে গেলে নতুন করে সংক্রমণ হয়ে মহামারীর আকার ধারণ করার ক্ষমতা আর থাকে না।  ১ এর নিচে গেলে নতুন সংক্রমণের সম্ভাবনা কমে যায়, নতুন ক্লাস্টার হবার সম্ভাবনা কমে যায়। একে সঠিক অর্থে সংক্রমণ মুক্ত বলা যায় না। Effective Reproduction Number 0.২৫ মানে আগে যদি R = ২ হয়ে থাকে যেখানে একজন মানুষ দুজনকে সংক্রমণ করছিলো (R = ২ ), এখন উল্টোটা, ৪ জন সংক্রমিত ও আক্রান্ত লোক লাগবে একজনকে রোগ ধরাতে গেলে, অর্থাৎ, খুব বড়  ক্লাস্টার ছাড়া আর রোগ টিকবে না। ফলে সংক্রমণ ছড়াতে প্রায় পারবেনা বললেই চলে। এটা ঠিক সংক্রমণমুক্ত নয়, তবে হার্ড ইমিউনিটি অর্জিত হয়েছে একথা বলা যায়। ক্লাস্টারগুলো খুলে গেলে আবার ছোট বড়  মহামারী হতে পারে, যেমনটা চিনে কিংবা সিঙ্গাপুরে হচ্ছে।  আমরা এ লেখার শুরুতেই চিনের উদাহরণে দেখলাম।

হার্ড ইমিউনিটির ভরসায় আমরা বসে থাকলে সমগ্র দেশ উজাড় হয়ে যেতে বেশি সময় লাগবেনা। সর্বোপরি, এটা একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রক্রিয়া। তাহলে বর্তমান মুহূর্তে আমাদের একমাত্র ভরসার জায়গা হ’ল ভ্যাক্সিন। ১৬ মার্চ, ২০২০-র খবর ছিল ন্যাশনাল ইন্সটিটিউটস অব হেলথ-এর তরফে করোনাভাইরাসের প্রথম ভ্যাক্সিন সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে mRNA-1273।

(প্রথম mRNA-1273 ভ্যাক্সিন দেওয়া হচ্ছে মানুষের শরীরে)

সাধারণভাবে যে ভ্যাক্সিন তৈরি হয় এই ভাক্সিন তার থেকে ভিন্ন। এটা নিউক্লিক অ্যাসিড (ডিএনএ বা আরএনএ, এক্ষেত্রে আরএনএ) ভ্যাক্সিন। এ ভ্যাক্সিন দেওয়া হয় তুলনামূলকভাবে নতুন মাইক্রোনিডল অ্যারে (MNA) পদ্ধতিতে। আমাদের মনে সঙ্গত প্রশ্ন উঠবে এই Microneedle array ব্যাপারটা কি? সহজ করে বললে একজন মানুষের আঙ্গুলের ডগায় একটি প্যাচ (ছোট ব্যান্ড এইডের টুকরোর সাথে তুলনীয়) লাগিয়ে দেওয়া হবে। এতে ৪০০টি ছোট ছোট স্পাইক প্রোটিনের নিডল বা সূঁচ থাকবে। এই সূঁচগুলো ত্বকের উপরিস্তরে (যেখানে ইমিউন প্রতিক্রিয়া সবচেয়ে বেশি ও শক্তিশালী হয়) দ্রবীভূত হবে। এই সূঁচগুলো সবকটাই শুগার এবং প্রোটিন দিয়ে তৈরি। ফলে সহজেই ত্বকে দ্রবীভূত হয়ে যায়।

(মাইক্রোনিডল অ্যারে প্যাচের একটি ছবি)

আরেকটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল যে এই ভ্যাক্সিনকে সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেইনের আলাদা করে প্রয়োজন নেই। এমনকি গামা রশ্মি দিয়ে একে পরিশুদ্ধ করলেও এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়না। উল্লেখ করা দরকার, যেকোন ওষুধ, প্রযুক্তি বা ভ্যাক্সিনকে ৩টি ফেজের ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এখানে ফেজ-১, ২ এবং ৩ কিভাবে হয় জেনে নেওয়া ভালো। ফেজ-১-এ কয়েক ডজন স্বাস্থ্যবান ভলান্টিয়ারকে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ফেজ-২-এ নেওয়া হয় কয়েক’শ মানুষকে। ফেজ-৩-এ সে পরীক্ষা করা হয় কয়েক হাজার মানুষের ওপরে – ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। এখনও অবধি জেনেটিক মেটেরিয়াল – আরএনএ কিংবা ডিএনএ – থেকে তৈরি ভ্যাক্সিন FDA-র অনুমোদন লাভ করেনি। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। একধরনের ইমার্জেন্সি অবস্থা তৈরি হয়েছে। এজন্য সমস্ত সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধী ভ্যাক্সিন তৈরির দৌড়ে ৯০টিরও বেশি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে আমেরিকার মডার্না, চিনের সাইনোবায়োটেক এবং অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীদের সাফল্য অন্যদের থেকে এগিয়ে। কিন্তু আমাদের কাছে চিন্তার বিষয় হল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের প্রথম ভ্যাক্সিন ট্রায়াল সফল হয়নি। মডার্না-র ব্যাপারেও নিশ্চিত করে কিছু বলার মতো অবস্থা এখনো আসেনি। ভ্যাক্সিনের ভবিষ্যৎ এবং কার্যকারিতা নিয়ে নেচার-এর মতো পত্রিকায় মন্তব্য করা হচ্ছে – “The picture is so far murky” (চিত্র এখনো পর্যন্ত অস্পষ্ট)। (Coronavirus Vaccine Trials Have Delivered Their First Results — But Their Promise is Still Unclear – ২৮.0৫.২০২০)

ফলে আরও কিছুদিন অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্কের প্রহর গোণা ছাড়া সামান্য বিকল্পই আমাদের সামনে খোলা আছে, যেমন সবাই জানেন – (১) পার্সোনাল তথা ব্যক্তিগত/সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং তথা সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা (অন্তুত ৬ ফুটের বেশি), (২) যে কোন জিনিস ব্যবহারের আগে এবং পরে সাবান জলে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধোওয়া বা অন্তত ৬০% অ্যালকোহল যুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, (৩) বাইরে বেরোলে আবশ্যিকভাবে ফেস মাস্ক (১০” লম্বা ও ৬” চওড়া টি-শার্টের দুটি খণ্ডকে ভালো করে সেলাই করে) ব্যবহার করা আর ফিরে এসে গরম সাবান জলে ভালো করে ধুয়ে ফেলা কিংবা ওয়াশিং মেশিন চালিয়ে পরিষ্কার করা, (৪) অচেনা জায়গায় বাতানুকুল ঘরে না থাকাই ভালো কারণ এসি-তে internal circulation of air হয় (সেক্ষেত্রে একাধিক ট্রায়ালে দেখা গেছে কারো করোনা সংক্রমণ হয়ে থাকলে অন্যদের সংক্রামিত হবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়), এবং (৪) সামাজিক জমায়েত এড়িয়ে চলা। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী (১০.০৬.২০২০) কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি স্টাডি-তে দেখা গেছে – “Widespread mask-wearing could prevent COVID-19 second waves”। আবার নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত (৮.০৬.২০২০) “Estimating the effctes of non-pharmaceutical interventions on COVID-19 in Europe” গবেষণাপত্রে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে – “Our results show that major non-pharmaceutical interventions and lockdown in particular have had a large effect on reducing transmission. Continued intervention should be considered to keep transmission of SARS-Cov-2 under control.”

এগুলো কতদিন রক্ষা করতে হবে তা আমরা এবং বিজ্ঞানীরা জানেন না। কারণ, ভাইরাসটি এখনো এর শক্তি, সংক্রমণক্ষমতা এবং মারণক্ষমতা হারায়নি। এর প্রায় ২০০টি বিভিন্ন স্ট্রেন পাওয়া গেছে বিভিন্ন অঞ্চলে। এর দ্রুত মিউটেশনের ক্ষমতাও আছে। হিন্দুস্থান টাইমস পত্রিকার খবর (১৩.০৬.২০২০) অনুযায়ী “Covid-19 virus may have mutated to become more infectious and stable: Study” এবং এই স্টাডিটি করা হয়েছে ফ্লোরিডার Scripps Research Institute-এ।

ইমিউনিটির গোড়ার কথা

আমাদের ইমিউন সিস্টেম একটি জটিল নেটওয়ার্ক যার মধ্যে শরিরের শ্বেত কণিকার বিভিন্ন কোশ আছে, আছে রক্তে সংবাহিত প্রোটিন এবং তার বিভিন্ন রূপ যেমন অ্যান্টিবডি, কমপ্লিমেন্ট সিস্টেম, ইন্টারলিউকিন-১। আছে বিভিন্ন ধরনের ন্যাচারাল কিলার সেল। এছাড়াও রয়েছে রয়েছে মানবদেহের লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম বা লসিকাতন্ত্র, প্লিহা, রক্ত মজ্জা বা bone marrow এবং থাইমাস।

এরা সবাই মিলে একজন আরেকজনের সাথে সংযোগ রক্ষা করে এবং জুড়ে কি করে? শরীরকে ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস, টিউমার, ক্যান্সার কোশ এবং অন্যান্য অজানা আক্রমণকারীর হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে যায় শেষ অব্দি। একে আমরা বলি ইমিউনিটি। ভ্যাক্সিন এই ইমিউনিটিকে বাড়িয়ে তোলে। কোন ক্ষেত্রে সারাজীবন এই ইমিউনিটি কাজ করে, যেমন স্মল পক্স। কোন ক্ষেত্রে কয়েক মাস বা এক বছর যেমন, ফ্লু, হেপাটাইটিস, টিটেনাস ইত্যাদি।

নীচের চিত্রটি ইমিউন সিস্টেমের কার্যকলাপের এক রেখাচিত্র বোঝাবে।

প্রধানত দুধরনের ইমিউনিটি হয় – (১) সহজাত বা innate, (২) অ্যাডাপ্টিভ বা অর্জিত। এছাড়াও আরেকধরনের ইমিউনিটির হদিস বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন। একে বলা হচ্ছে “ট্রেইন্ড ইমিউনিটি” – উদ্ভিদে বা অমেরুদণ্ডীদের ক্ষেত্রে একে দেখা গেছে। এই বিশেষ ইমিউনিটিকে মানুষের ক্ষেত্রে ভ্যাক্সিনের কার্যকরী সহযোগী ইমিউনিটি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সায়ান্স পত্রিকায় (২২.০৪.২০১৮) এই বিশেষ ইমিউনিটি সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে মানুষের ইমিউন সিস্টেমের ক্ষেত্রে আগের থেকে “আনরেকগনাইজড” এক নতুন ইতিবাচক চরিত্র।

শরীরে প্রাথমিক আক্রমণের প্রতিরোধ দূর্গ হচ্ছে সহজাত বা innate ইমিউনিটি। এটা নন-স্পেসিফিক বা অনির্দিষ্ট। অজানা আক্রমণকারী দেখলেই শ্বেতকণিকার B cell রে রে করে প্রচুর অ্যান্টিবডি তৈরি করে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আর অ্যাডাপ্টিভ বা অর্জিত ইমিউনিটির ক্ষেত্রে শ্বেতকণিকার T cell অংশগ্রহণ করে। নির্দিষ্টভাবে শত্রুকে চিনে নিয়ে আক্রমণ করে। এর মধ্যে মেমরি সেল থাকে যারা আবার স্মৃতি থেকে বুঝে নেয় শত্রুটিকে আগে দেখেছিল কিনা। সে অনুযায়ী এদের প্রতিরোধের হাতিয়ার সাজায়। নীচের চিত্রদুটি বিষয়গুলো বুঝতে খানিকটা সাহায্য করবে।

এই ইমিউনিটিকে নিয়েই, এদের সংসারকে নিয়েই আমাদের বেঁচে থাকা, সুস্থ থাকা। করোনা আক্রমণের সময়ে একটি ভ্যাক্সিনের সন্ধানে ছুটে চলা যাতে মানব জাতি বাঁচে। এখানে আধুনিক সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এবং তাত্ত্বিক স্লাভোজ জিজেকে-এর একটি উপলব্ধি ভেবে দেখার মতো – “Those in the charge of the state are in panic because they know not only that they are not in control of the situation, but also that we, their subjects, know this. The impotence of power is now laid bare.”(Slavoj Zizek – Pandemic! COVID-19 Shakes the World, Polity Press, 2020) অস্যার্থ, রাষ্ট্র প্রধানেরা এক আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে কারণ তারা এটা জানে যে করোনা-পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। শুধু তাই নয়, তারা এটাও জানে যে তাদের শাসিতেরাও এ খবর জানে। ফলে রাষ্ট্রের ক্ষমতার অক্ষমতা ও নির্বীর্যতা প্রকট হয়ে খুলে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here