রঙে তুলিতে আর শ্রদ্ধায় অভিনেত্রী ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়

0
382
শিবশঙ্কর উপাধ্যায়

শিবশঙ্কর উপাধ্যায়: দেশ যখন সম্পূর্ন রূপে লকডাউন ঠিক তখন নিঃশব্দে ১০ই বৈশাখ চলে গেলেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী, নাট্য নির্মাতা, নাটকের মা শ্রীমতি ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়। ১৯৭৬ সালের উনার  পরম স্নেহের প্রস্তুত করেন নব নাট্যদল ” রঙ্গকর্মী ” উনি খুব দৃঢ় অথচ কোমল  মানসিকতায় নাটককে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন দশকের পর দশক ধরে। যোধপুরের (রাজস্থান) এর এক বাঙালি পরিবারে উনার জন্ম হয়।

বাঙালি দর্শক উনার নাট্য উপস্থাপনার জোরালো, অভিব্যক্তিতে যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ে। উনার হিন্দি ভাষায় নাট্য প্রযোজনার অসামান্য দক্ষতার জন্য ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্থানের হিন্দিভাষী  নাট্য কর্মীদের মন কেড়ে নেয়। উনি শোষিত নিপীড়িত মানুষের কথা উনার নাটকের মধ্যে তুলে ধরেছেন। উনার প্রখ্যাত নাটকের মধ্যে রুদালী, কোর্টমার্শাল, কাশিনামা উল্লেখযোগ্য। আমার ছোট শহর রায়গঞ্জেও নাট্যচর্চার এক পরিবেশ স্বল্প পরিসরে হলেও রয়েছে।

কিন্তু আমি নাটক সম্পর্কে বিশেষ কিছু বুঝি না।সালটা ২০০৯ হবে, ভারতবর্ষের প্রখ্যাত নাট্য অভিনেতা হাবিব তানভির সদ্য প্রয়াত হয়েছেন। উত্তর দিনাজপুর’এর যুব কল্যান দপ্তরের আমন্ত্রণে ঊষা দি আসবেন, আমাকে হাবিব তানভিরের একটি পতিকৃত বানানোর জন্য বললেন, আমাকে বলা হল, নিজের হাতে সেটি ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেবেন।আমি তখনও বুঝি না নাটকের গুরত্ব। জীবনে দু-একবার নাটকের কাছে এসেছি।

আমার কাছে আমি হাবিব তানভিরের প্রতিকৃত আঁকতে শুরু করি। আমার একটা অভ্যাস, কিছু আঁকতে গেলে যতটা সম্ভব জানা, না জানলে ভালো আঁকা যায় না। জানতে শুরু করি তানভিরকে। যাইহোক আঁকা হল, ঊষা দি’র হাতে ছবিটি তুলে দিই। স্বভাবতই উনি খুশি। ছবিটি ফ্রেম করা ছিলো না। হাতে কোন রকমে পেইন্টিং করে দিয়েছিলাম। বুঝতেই পারছেন ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়কে আমি কতটুকু চিনতাম।

কিন্তু ছবিটি পেয়েই উনি স্পষ্ট ভাবে বললেন,ছবিটি আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে। আমি কলকাতায় গিয়ে ফ্রেম করে নেব। তারপর সুপ্রিয় দা’র বাড়িতে উনার সাথে মধ্যাহ্ন ভোজন করি। সেই সময় খুব সামান্য লাইট, স্টেজ, ডেকোরেশন নিয়ে কথা হয়েছিলো, যা আজ শুধু স্মৃতি। আমি জানি শুধু ছবি আঁকতে তাই ছবি দিয়ে উনাকে শেষ শ্রদ্ধাটুকু জানালাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here