এই অসময়ে নেওয়া অভাবনীয় এক উদ্যোগে সারা দেশে প্রশংসিত হচ্ছে এই পৌরসভা

0
3599

শৌভিক দাস : কথায় বলে “বিন্দু বিন্দু জলে সিন্ধু তৈরি হয়”। যেমন করে তৈরি হয়েছে আমাদের পৃথিবীর এই সুবিশাল দূষণের সমুদ্র। যার প্রভাবে উষ্ণতা বাড়ছে সারা পৃথিবীর, গলছে মেরু বরফ, বৃদ্ধি পাচ্ছে সমুদ্রের জলস্তর। এর পেছনে প্রাকৃতিক কারণ যতটা কার্যকর তার থেকে বেশি দায় বর্তায় মানুষের কার্যকলাপের উপর। আমাদের দোষে যেন একটু একটু করে পৃথিবী আলিঙ্গন করছে তার ধ্বংসকে। হায়! এতকিছু বুঝেও মানুষ যেন কিছুই বুঝতে চাইছে না।

তাই আজও প্রতিদিন প্রতিনিয়ত পৃথিবীর কোথাও না কোথাও কোনও না কোনও অজুহাতে চলছে সবুজ ধ্বংসের কর্মযজ্ঞ। যার ফলে আয়তনে বাড়ছে সেই দূষণের সমুদ্র। আজ আর কারও অজানা নয় পৃথিবীকে উষ্ণতা বৃদ্ধি তথা সর্বোপরি এই পরিবেশ দূষণের দোষ থেকে উদ্ধার করতে পারে একমাত্র উদ্ভিদকুলই। তাই নিকষকালো এই অন্ধকারে ক্ষীণ হলেও আশার আলো জ্বালছে কেউ কেউ। সামগ্রিকভাবে না হলেও বিক্ষিপ্তভাবে ঘুম ভাঙছে কিছু মানুষের। তারা এগিয়ে আসছেন পৃথিবীকে তার কেড়ে নেওয়া সবুজ ফিরিয়ে দিতে। কিছুদিন আগে খবরে প্রকাশিত হয়েছে ফিলিপিন্স সরকারের এক উদ্যোগের কথা।

তারা আইন করেছেন সেদেশের কোনও ছাত্রছাত্রী স্নাতক হতে গেলে তাকে দশটি গাছ লাগাতে হবে এবং শুধু গাছ লাগালেই হবে না সেগুলোকে পরিচর্যা করে বাঁচিয়ে ও বড় করে তুলতে হবে। এবার তেমনই এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিলো আমাদের দেশের এক পৌরসভা। এখন থেকে বাড়িতে গাছ না লাগালে বাড়ি রেজিস্ট্রি হবে না কেরলের কোদুঙ্গালুর পৌরসভা এলাকায়। তাদের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই সারা দেশে যথেষ্ট প্রশংসিত হচ্ছে। কোদুঙ্গালুর পৌরসভা ঘোষণা করেছে এখন থেকে বাড়িতে কমপক্ষে দু’টি করে গাছ না লাগালে সেই বাড়ির রেজিস্টি করবে না তারা।

তবে গাছ বলতে ফুল গাছ বা বাহারি গাছ নয়। বাড়ির রেজিস্টি পেতে হলে পৌরসভা দ্বারা নির্দিষ্ট কৃত শিরিষ, ছাতিম, সেগুনের মতো বড় বড় গাছই লাগাতে হবে। তবে শুধু গাছ লাগালেই শেষ হয়ে যাবে না কাজ, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করে বড় করে তোলার দায়িত্বও থাকবে রেজিষ্ট্রেশন বা নিবন্ধন দাখিলকারী উপর। এইসব কাজ পুর আধিকারিক সরজমিনে এসে পরিদর্শন করার পরই মিলবে রেজিস্টি। তবে যাদের বাড়িতে গাছ লাগানোর জায়গা নেই তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না এই নিয়ম। এই বিষয়ে পৌরসভার নির্দেশ কমপক্ষে ১৫০০ বর্গফুট বা তার বেশি জায়গা জুড়ে যে সকল বাড়ি আছে, তাদের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

যাইহোক কোদুঙ্গালুর পৌরসভার এই সাধু উদ্যোগ সারাদেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রসংশিত হচ্ছে। তবে এখানে একটু বেসুরো কথা বলা প্রয়োজন বলে মনে করছি, সামগ্রিকভাবে বন সৃজনে মানুষের সচেতনতা এবং স্বতঃস্ফূর্ততা না বাড়লে এই বিপুল পরিমাণ দূষণের মোকাবিলা এভাবে আইন বা নিয়ম করে কতদূর সম্ভব তা কিন্তু এখনও একটা বড় প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে আছে। তবে কিছু না করে শুধু গেলো গেলো রব তোলাও কোনও কাজের কথা নয়। তার চাইতে আইন করে, নিয়ম করে বা জোর করে হলেও বৃক্ষ রোপণের এইসব উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। যদিও প্রয়োজনের তুলনায় আজ এইসব উদ্যোগ আকারে কেবল বিন্দুই। তবে এই লেখার শুরুর কথায় ফিরে গেলে অবশ্যই আশা জাগে। কারণ কথায় বলে “বিন্দু বিন্দু জলে সিন্ধু তৈরি হয়”।