“কলিংবেল” : রায়গঞ্জের ছেলের তৈরি টেলিছবি পাড়ি দিচ্ছে লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে

0
200

দেবলীনা ব্যানার্জী ও শৌভিক দাস: উর্মি মাঝেমাঝেই শুনতে পায় কলিং বেলের শব্দ। দরজা খুলে কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না। আরও আশ্চর্যের বিষয় উর্মি ছাড়া এই কলিং বেলের আওয়াজ শুনতেও পায় না কেউ। তাহলে কি উর্মি মানসিক ভাবে সুস্থ নয়? প্রশ্ন তুলছে শমিক বসুর নির্দেশিত টেলিছবি ‘কলিংবেল’। ২০১৪ সালে ব্লু আই মিডিয়া প্রোডাকশন দ্বারা তৈরি এই ছবি ২০২০ তে এসে অফিসিয়ালি প্রবেশ করেছে লন্ডনের লিফট অফ গ্লোবাল নেটওয়ার্ক এ।

এ খবর ছোট্ট শহর রায়গঞ্জের জন্য গর্বের বিষয়, কারণ শমিক রায়গঞ্জের ছেলে। বাবা স্বপন বসু রায়গঞ্জের ছন্দম নাট্য সংস্থার সম্পাদক হওয়ার কারনে বেড়ে ওঠা নাটকের পরিমন্ডলে। এরপর ফিল্ম নির্দেশনায় প্রথাগত শিক্ষা অর্জনের পরে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন সহ-পরিচালক ও স্ক্রিপ্টরাইটার হিসেবে। ব্লু আই মিডিয়া ২০১৪ সালে বিভিন্ন পরিচালকদের দিয়ে ৪৮ টি টেলিছবি বানিয়েছিল।

যাদের মধ্যে অশোক বিশ্বনাথন, অনিন্দ্য সরকার, শতরুপা সান্যালের মত পরিচালকদের সাথে শমিক বসুও ছিলেন। সেইসময় শমিক ‘কলিংবেল’ ও ‘রেড ওয়াইন’ নামে দুটি টেলিছবি তৈরি করেছিলেন। কলিংবেলের গল্প মূলত মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে। বর্তমান সময়ে এই অবক্ষয়টাই যেন স্বাভাবিক। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন যাঁরা এখনো মূল্যবোধকে দাম দেন। তাদেরকে আমরা বলি মানসিক রোগী।

গল্পের মুখ্য চরিত্র উর্মি পাপবোধে ভোগে যে একসময় তাদের যে রাজনৈতিক মতাদর্শ ছিল, সমাজ বদলানোর যে স্বপ্ন তারা দেখত, তা সবই বদলে গেছে।  তার স্বামী অনিমেষও বদলে গেছে। অনিমেষের মতে আজকের দিনে দ্বিচারিতাই ভালোভাবে বাঁচার অস্ত্র। উর্মি ভাবে যে মানুষগুলো সমাজ বদলের স্বপ্ন দেখে জীবন দিয়েছিল, আজ তাঁরা যদি সামনে এসে দাঁড়ায় কি জবাব দেবে তাঁদের। এই পাপবোধ থেকেই কলিংবেলের আওয়াজ কানে বাজতে থাকে উর্মির।

যেন মৃত আত্মারা উত্তর চেয়ে বেল বাজাচ্ছে। ছবির গল্প, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা শমিক বসুর। প্রযোজনা করেছেন নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত। উর্মির চরিত্রে অনিন্দিতা ভট্টাচার্য ও অনিমেষের চরিত্রে সঞ্জয় মুখার্জি অভিনয় করেছেন। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে রবিন কর্মকার, সঞ্জয় ভদ্র চৌধুরীসহ আরো অনেকে অভিনেতাকে দেখা যাবে।

ছবির সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন শুভায়ু ভট্টাচার্য্য, সম্পাদনা অভিজিৎ পোদ্দার ও ক্যামেরায় কাজ করেছেন মেহবুব চৌধুরী। এছাড়া ছবির মিডিয়া ম্যানেজার ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় আছেন ভিনসেণ্ট মন্ডল। নিজের ছবি নিয়ে পরিচালক শমিক বসু জানালেন, ‘ ছবিটি অনেক মানুষ দেখুক এটাই চাই। আগে চ্যানেলে দেখানো হলেও এখন ভিমেও অ্যাপে সাবস্ক্রাইব করে ছবিটি দেখা যাবে। ছবি দেখে একজন মানুষও যদি হারিয়ে যাওয়া মূল্যবোধগুলো খুঁজতে চেষ্টা করেন তাহলে নিজেকে সার্থক মনে করব।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here