মাস্ক ও স্যানিটাইজার নিয়ে রীতিমতন কালোবাজারি শুরু ইসলামপুরে

0
14

ইসলামপুর: করোনার আতঙ্কের জেরে মাস্ক ও  স্যানিটাইজার নিয়ে রীতিমতন কালোবাজারি শুরু হয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরে। আর এর জেরে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগ তিরিশ টাকার মাস্ক বিক্রি হচ্ছে দুইশ টাকায় আবার এন নাইনটি ফাইভ ব্র্যান্ডের মাস্ক বিক্রি হচ্ছে সাড়ে চারশো থেকে  পাঁচশ টাকায়। এর জেরে চরম সমস্যায় এলাকার বাসিন্দারা।

বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে এই অবস্থা। মাস্ক পাওয়া যাচ্ছে তবে তা অনেক মূল্য দিয়ে নিতে হচ্ছে। আবার অন্যদিকে স্যানিটাইজার শহরের কোথাও না থাকায় তা ব্যবহার করতে পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা। যেসব দোকানে যতটুকু স্যানিটাইজার ছিল তা বেশ কয়েকদিন আগেই নিঃশেষ। দোকানে তা কিনবার সুযোগ না পাওয়ায় মানুষ অনলাইনের দ্বারস্থ হচ্ছেন।

কিন্তু চাহিদা উর্ধ্বমুখী হওয়ায় অনলাইনেও সে রাস্তা বন্ধ। অর্থাৎ অনলাইনে সমস্ত স্যানিটাইজার সোল্ড আউট হয়ে গেছে বলে দেখানো হচ্ছে। স্যানিটাইজার না পেয়ে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি বেড়েছে হ্যান্ডওয়াশ এবং সোপ পেপারের। বাজারে এসব হু হু করে বিক্রি হচ্ছে। তবে পরিবারের সকলের জন্য এন নাইনটি ফাইভ মাস্ক কিনতে এসে কালোবাজারির মুখে পড়তে হচ্ছে একাধিক মানুষকে এবং অনেকের পক্ষেই বাড়ির সকলের জন্য ওই মাস্ক কেনা সম্ভব হয়ে উঠছেনা।

লোরেল কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের অন্যতম কর্মকর্তা শংকর মজুমদার জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অত্যাবশ্যক পণ্যের দাম যদি কোন ব্যবসায়ী বেশি নেয় কিংবা কালোবাজারি করে তা প্রমাণিত হলে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এমনকি তার লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

যদিও সমস্ত ব্যবসায়ীরা যারা তাদের সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত তাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দ্বারিকা প্রসাদ আগারওয়াল জানান, যারা ক্ষুদ্র বিক্রেতা তাদেরকেই চড়া দামে মাস্ক কিনতে হচ্ছে। তাই লাভের পরিমাণ সামান্য রাখলেও তার দাম বেশি হওয়ায় সেটি অনেকেরই চোখে লেগে যাচ্ছে। তবে তাদের সংগঠনের ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই কালোবাজারি করছেন না বলেই তিনি জানান।

অন্যদিকে ইসলামপুরের ওষুধ ব্যবসায়ী তাপস পাল জানান, শিলিগুড়ি থেকে তাকে পাইকারি দরে এন নাইনটি ফাইফ ব্র্যান্ডের মাস্ক দুইশ আশি টাকা করে কিনতে হয়েছে। এই চড়া দাম দিয়ে কিনতে হওয়ায় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে গ্রাহককে। যদিও তিনি অন্যান্য বেশ কয়েকটি জায়গার মতন সে দাম রাখছেন না।ন্যূনতম লাভেই টা ছেড়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি তার কাছে থাকা স্যানিটাইজার নিঃশেষ। এমনকি ইসলামপুরের আর কোথাও স্যানিটাইজার নেই বলেও জানান তিনি।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here