অনিয়ম ধরা পড়ায় শোকজ করা হল জেলার প্রায় দু হাজারের কাছাকাছি প্রধান ও ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের

0
123
ফাইল ছবি

ইসলামপুর: একসাথে বেশ কয়েক বছরের অডিট করার পর তার রিপোর্টে ধরা পড়লো অনিয়ম। আর এর জেরেই উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর, চোপড়া, গোয়ালপোখর সহ নয়টি ব্লকের  বিভিন্ন হাই স্কুল,  আপার প্রাইমারি স্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র এবং মাধ্যমিক শিক্ষা কেন্দ্রের প্রায় দুই হাজারের এর কাছাকাছি প্রধান শিক্ষক, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক, মুখ্য সম্প্রসারক এবং সহায়িকা দের শোকজ করল জেলার মিড ডে মিল ওসি।

এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে প্রতিবাদ এবং আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সঙ্ঘবদ্ধ হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন। যদিও উত্তর দিনাজপুর জেলার মিড ডে মিলের ওসি লেনডুপ ভুটিয়া জানান, অডিট এর জন্য শোকজ করা হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি শিক্ষক শিক্ষিকাদের।

যারা বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে রয়েছেন তারা তাদের আগে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হয়তো বুঝে নেন নি। সে ক্ষেত্রে একটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবুও যাদের শোকজ করা হয়েছে তারা বিস্তারিত কারণ দর্শিয়ে খুব শীঘ্রই এর উত্তর দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি গৌরাঙ্গ চৌহান জানান, যাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে তারা বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন। কিন্তু যে সময়কার ঘটনার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে সে সময় তারা ওই পদে ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যদি ওই শোকজ লেটার অনুযায়ী কোন শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয় প্রশাসনিকভাবে তবে মিড ডে মিল এর দায়িত্ব থেকে সমস্ত শিক্ষকরা ইস্তফা দেবেন বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এছাড়াও নিখিল বঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অশোক সরকার জানান, তাদের সংগঠন এর তরফে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্মারকলিপি দেওয়া হবে বলে। অন্যায় ভাবে অডিটের নামে শিক্ষকদের শো কজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তারা রুখে দাঁড়াবেন এবং ওই পদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানানো হবে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শো কজ লেটার বিডিও অফিসের মিড ডে মিল বিভাগে এসে পৌঁছেছে।

বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তা সংগ্রহ করছেন সেখান থেকে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, যে সময়ের জন্য শো কজ করা হয়েছে সেখানে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি ক্যাশবুক, কিংবা রাইস রেজিস্টার সংক্রান্ত সমস্যাও রয়েছে এবং বিভিন্ন খরচের ভাউচার অনেকেই দেখাননি। নেই ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটও। এ ধরনের সমস্যার জন্যই শো কজ করা হয়েছে শিক্ষকদের।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here