ভাষা দিবসের প্রাক্কালে বাংলা ভাষা সংকটে,মুখ ফেরাচ্ছে খুদেরা

0
49

ইসলামপুর:ওরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে কিন্তু বাংলা ভাষা চর্চা থেকে পিছিয়ে আছে অনেকটাই। বাংলা ভাষা বুঝতে পারে কিন্তু বলতে পারে না। মূলত এই সমস্যা নিয়ে চলছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর মহকুমার একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় কিংবা শিশু শিক্ষা কেন্দ্র। ওই সমস্ত শিক্ষা কেন্দ্রের বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা অধিকাংশই দেশী ভাষায় কথা বলে। এমনকি স্কুলের সময়টুকু বাদ দিয়ে বাড়িতেও ওরা দেশী ভাষায় কথাবার্তা বলাতে বেশি আগ্রহ প্রকাশ করে। আর তাই স্বভাবতই বিদ্যালয়ের কয়েক ঘণ্টা সময় শিক্ষকরা বাংলা ভাষায় পাঠদান করলেও ওরা কেউ কেউ তেমন ভাবে বোঝেনা আবার কেউ বুঝলেও বাংলায় তার উত্তর দিতে পারে না।

এর জেরে রীতিমতো পিছিয়ে পড়ছে প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের পঠন পাঠনের অগ্রগতি।এ সমস্যা একদিনের নয়, দীর্ঘদিনের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয় হওয়ার জন্য বাংলায় পাঠ দান করলেও অনেকে বুঝতে না পেরে সমস্যায় পড়ছে। তাই কখনো কখনো শিক্ষক-শিক্ষিকারা পাঠদান পদ্ধতির সরলীকরণ করার জন্য এই দেশী ভাষার আশ্রয় নিলেও সমস্যা যেন সেই তিমিরেই ।কারণ মিশ্র সূর্যপুরী ভাষার ব্যবহারে এরা বেশ পটু। মূলত সেই ভাষাতেই দিনের বেশিরভাগ সময় কথাবার্তা বলে ওরা। এবং অধিকাংশ বাড়ির অভিভাবকরাই বাংলাতে কথা বলে না। এর জেরেই ক্রমশ বাংলা ভাষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে ওরা। অনেকেই আবার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে । সমস্যার সমাধান কিভাবে তা যেন জানা নাই কারো।

বিদ্যালয় পরিদর্শক  এর দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে,এ বিষয়ে সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।  মাটিকুন্ডা এক গ্রাম পঞ্চায়েতের পোকলাবাড়ি এলাকায় চতুর্থ শ্রেণীর পড়ুয়া মনজুর হোসেনকে জিজ্ঞাসা করা হল তোমার নাম কি। সে বাংলা না বলে দেশী ভাষায় উত্তর দিচ্ছে মোর নাম মনজুর হোসেন। আবার কোনো পড়ুয়া কে যদি বলা হয় কোথায় যাচ্ছ। সে হয়তো বলছে মি স্কুল যাছু। ওরা ওদের ভাষার ব্যবহার থেকে কোনভাবেই বের হতে পারছে না। তাই বাংলা ভাষায় শিক্ষাদান করা হলেও ওরা সেখানে যেন সেই আনন্দ খুঁজে পাচ্ছে না। ওরা খুঁজে পাচ্ছে না আত্মতৃপ্তি ।

শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা চর্চার জন্য চেষ্টা চালালেও বিদ্যালয়ে মাত্র কয়েক ঘন্টা পড়ুয়ারা থাকায় তাতে অভ্যস্ত হতে পারছে না।কারণ বেশির ভাগ সময় বাড়িতেই ওরা দেশি ভাষায় কথা বলছে।এমনকি এ বিষয়ে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকরা উদ্যোগী না হলে সমস্যার আদৌ সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তথ্যভিজ্ঞ মহল।  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মুহূর্তে এ ধরনের ভাষা সমস্যায় জেরবার পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here