“চলে গেল আমার প্রথম অভিনেতা”- শোকস্তব্ধ মাধুরী : শোক প্রকাশ করলেন প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, দেব সহ অন্যান্য সহশিল্পীরা

0
309

দেবলীনা ব্যানার্জী : প্রয়াত অভিনেতা তাপস পাল। মুম্বই বিমানবন্দরে বুকে ব্যথা অনুভব করেন। তাকে জুহুর হলিক্রস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভোর ৩:৩৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় প্রাক্তন সাংসদের। ৬১ বছর বয়সে প্রয়াত। বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি।দাদার কীর্তি, সাহেব, গুরুদক্ষিণা, অনুরাগের ছোঁয়া, ভালবাসা ভালবাসা, আগমন, মঙ্গলদীপ-সহ তাঁর একাধিক ছবি দর্শকের মন জয় করেছে। ১৯৮০ সালে তাপস পালের প্রথম ছবি ‘দাদার কীর্তি’। বলিউডে অভিষেক ১৯৮৪ সালে৷ মাধুরী দীক্ষিতের বিপরীতে ‘অবীধ’৷ শেষ ছবি ২০১৩ সালে ‘খিলাড়ি’৷

“চলে গেল আমার কেরিয়ারের প্রথম অভিনেতা তাপস পাল। ওর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমি শোকাহত৷ ওর আত্মার শান্তি কামনা করি৷ এই কঠিন সময়ে ঈশ্বর ওর পরিবারের মঙ্গল করুন”, লিখলেন শংকরের (তাপস পাল) ‘অবোধ’ গৌরী (মাধুরী দীক্ষিত)।১৯৮৪ সালে মুক্তি পায় তাপস-মাধুরী অভিনীত ছবি ‘অবোধ’। ছবিতে মাধুরীর স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তাপস পাল। আগাগোড়া সরলসিধে চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে তিনি সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন।তবে বক্স অফিসে তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি ‘অবোধ’। এই ছবির দৌলতে লাভের মুখ দেখেনি নির্মাতা রাজশ্রী প্রোডাকশন।

কিন্তু ছবি ফ্লপ  হলেও এর পরে ক্রমাগত উত্তরণ ঘটে মাধুরী দীক্ষিতের। ক্রমে তিনি বলিউডের এক নম্বর নায়িকার সিংহাসন লাভ করেন। তাপস পালের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা টলিউড। অভিনেতার কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন দেবশ্রী রায়। চিরঞ্জিৎ বলেন, তিনি তাঁর ভাইকে হারিয়েছেন। শোকস্তব্ধ তাপস পালের সহকর্মীরা। প্রসেনজিৎ থেকে দেব, সবাই প্রয়াত অভিনেতার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কার্যত শোকে মূহ্যমান হয়ে গিয়েছেন।

এখন উত্তরবঙ্গে শুটিং করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সকাল সকালই সহকর্মীর মৃত্যুর খবর পেয়েছিলেন তিনি। অভিনেতা জানিয়েছেন, “বাংলা চলচ্চিত্রের দুঃসময়ে ‘দাদার কীর্তি’ মুক্তি পেয়েছিল। সেই ছবি দিয়ে নতুন আলো দেখেছিল বাংলা সিনেজগৎ। তাপস শুধু আমার অভিনয় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না, একজন ভাল বন্ধুও ছিল। তার এই হঠাৎ চলে যাওয়া বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে একটা নক্ষত্রপতন বলতে পারি। ওকে হারিয়ে আমি একজন সহকর্মীকেই শুধু হারালাম না, একজন বন্ধুকেও হারালাম। ওর স্থান পূরণ হওয়ার নয়।”

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেছেন, “একটা যুগ, একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ের অবসান হল। তাপসদার হাসি, অভিব্যক্তি আর অভাবনীয় অভিনয় ক্ষমতা বাঙালিকে চিরকাল আবিষ্ট করে রাখবে। একটা বড় ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে আমাদের সকলের প্রিয় তাপসদা।” অভিনেতা দেব বলেন, তাঁর যখন অভিনয়ে হাতেখড়ি হয় তখন তাপস পাল সুপারস্টার। তাপস পালের অভিনয় দেখেই বড় হয়েছে এই প্রজন্ম। ‘চ্যালেঞ্জ-২’ আর ‘মন মানে না’ ছবিতে তাপস পালের সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তখনই বুঝেছিলেন শুধু অভিনেতা নন, একজন বড় মাপের মানুষও ছিলেন তাপস পাল। অনেককে সাহায্যও করতেন। “যাঁরা অভিনয় ভালবাসেন তাঁরা তাপসদার ভক্ত ছিলেন এবং থাকবেন। তিনি যেভাবে অভিনয় করে গিয়েছেন, তা সারা জীবন থেকে যাবে। বাংলা ছবি যতদিন বেঁচে থাকবে, তাপস পালও বেঁচে থাকবেন” বলেছেন দেব।

অভিনেতা টোটা রায়চৌধুরী তাপস পালের কথা বলতে গিয়ে একটা ছোট্ট ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “প্রথম ছবি থেকেই আমি তাপসদাকে পেয়েছি। ওনার ছবিতে গেস্ট অ্যারিয়ারেন্স ছিল। আমার ডাবিং চলছিল। তখনই তিনি ঢুকলনে। আমাকে বললেন চালিয়ে যাও। তবে বাঙালিয়ানা বজায় রেখো। কথাটা মনে ধরেছিল আমার। তখন তিনি বড় বড় হিট দিচ্ছেন ইন্ডাস্ট্রিকে। একজন নবাগতের সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করেছিলেন তিনি সেদিন, তা ভোলা যায় না। খুব সাবলীল ছিলেন তাপসদা।” সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে ঘুরে এসেছে ভক্ত ও সহকর্মীদের শোকবিহ্বল বার্তা। দাপুটে রাজনীতিবিদ নয় সাদাসিধে শংকর (অবোধ) আর কেদার (দাদার কীর্তি) হিসেবেই তাঁকে মনে রাখতে চাইছেন সিনেপ্রেমীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here