‘কুইন অফ ক্যাবারে’ মিস শেফালির জীবনাবসান

0
61

দেবলীনা ব্যানার্জী : পরীদের দেশেই চলে গেলেন সাতের দশকের ‘রাতপরী’ তথা অভিনেত্রী আরতি দাস। যিনি একডাকে সবার কাছে ‘মিস শেফালি’ বলেই পরিচিত। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা নাগাদ সোদপুরে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ভাগ্নী আলভিনা জানিয়েছেন যে, মিস শেফালির দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘদিন হাসপাতালেও ভরতি ছিলেন । অবশেষে ৭৬ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটল বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এই নর্তকী ও অভিনেত্রীর। যাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে।

ছয় ও সাতের দশকের খ্যাতনামা নর্তকী তো বটেই, কলকাতার প্রথম ক্যাবারে ডান্সারও তিনি। একটা সময় ছিল যখন রাতের কলকাতা মাতিয়ে রাখত একটাই নাম, মিস শেফালি। কলকাতার খ্যাতনামা সেই ক্যাবারে নর্তকী কোথাও গিয়ে কালের নিয়মে স্মৃতির ভারে মলিন হয়ে গিয়েছিল। ‘কুইন অফ ক্যাবারে’ ঠিক এই নামেই ডাকা হত তাঁকে।যাঁর নাচের মুগ্ধ ছিলেন উত্তম কুমার থেকে অমিতাভ বচ্চনের মতো অনেকেই। সত্যজিৎ রায়ের মত পরিচালকের দু’টি ছবি ‘প্রতিদ্বন্দী’ এবং ‘সীমাবদ্ধ’তে বিশেষ ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল মিস শেফালিকে।

লাইমলাইট থেকে সরে যাওয়ার পর হতাশাও বাসা বেঁধেছিল ‘মিস শেফালি’র মনে। বিগত কয়েক বছর ধরেই পর্দার আড়ালে থাকতেন। কাজ না থাকায় আর্থিক সমস্যারও সম্মুখীন হতে হয়েছিল তাঁকে। তাই অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্যেও অর্থাভাব দেখা দিয়েছিল। যদিও অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত একাধিকবার সাহায্যের হাত বাড়িতে দিয়েছেন তাঁর দিকে। তাঁর বায়োপিক তৈরির কথা গত বছর ঘোষণা করেছিলেন পরিচালক অপর্ণা সেনের কন্যা অভিনেত্রী  কঙ্কনা সেন শর্মা। আরতি দাস ওরফে মিস শেফালির জীবনকাহিনির পাশাপাশি সেই ওয়েব সিরিজে কলকাতার ছয়ের দশকের চালচিত্রও ফুটে উঠত। কিন্তু নিজের জীবনকাহিনি পর্দায় দেখা হয়ে উঠল না মঞ্চ কাঁপানো রাতপরীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here