প্রতিবন্ধী হয়েও যেন সম্পূর্না; এক গাঁয়ের মেয়ে- রিনি

0
72

সুশান্ত নন্দী, ইসলামপুর : প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেও কি করে আর পাঁচ জন স্বাভাবিক পড়ুয়ার মতো সমাজের মূল স্রোতে হেঁটে যেতে হয় তা জানে রিনি। ইসলামপুর ব্লকের শ্রীকৃষ্ণপুর এলাকায় ঠিকানা ওদের। যে পরিবারে জন্ম ওই মেয়ের সে পরিবারের একাধিক সদস্যই প্রতিবন্ধী।তা যে কোনও ফ্যাক্টর নয়, সেটা প্রমান করে দিয়েছে ওই মেয়ে। কারণ পড়াশুনার পাশাপাশি ছবি আঁকা কিংবা নাচের  প্রতি আগ্রহ থেকেই সেই বিষয় গুলিতে এগিয়ে চলছে সে।

প্রতি বছর ছাত্র যুব উৎসব সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একাধিক পুরুস্কার যেমন সে পেয়েছে তেমনি ব্লক স্তর থেকে জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায়ও পৌঁছে গেছে। রিনি দাস আর পাঁচ জন শিশুর মতো বেড়ে উঠলেও জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। দুটি হাতে এবং পায়ে বেশির ভাগ আঙ্গুলই নেই ওর। দাদা, জেঠু, পিসি এবং বাবাও প্রতিবন্ধী। তাদেরও একই রকম ভাবে হাতে পায়ে অসংখ্য আঙ্গুল নেই। কথা হচ্ছিল রিনির সঙ্গে।সে শ্রীকৃষ্ণপুর হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। দুই হাত দিয়েই সে লেখে।

ছোট থেকে বাড়ির প্রতিবন্ধী সদস্যদের দেখে সে অভ্যস্ত।তারা যেভাবে কাজ করছেন তা দেখে রিনিও সেভাবেই কাজ করছে। প্রতিবন্ধকতাকে অভিশাপ হিসেবে না নিয়ে বরং আর পাঁচ জন স্বাভাবিক মানুষের মতো এগিয়ে চলাটা খুব কঠিন হলেও সেটা যে অসম্ভব নয় তাই ই করে দেখালো ওই মেয়ে। নৃত্যে তেমন কোনও প্রথাগত শিক্ষা না পেলেও সে যে অন্যান্য নৃত্য শিল্পীর সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে তা দেখা গেল পাটাগোড়াতে আয়োজিত ইসলামপুর ব্লক ছাত্র যুব উৎসবে। শুধুই যে নৃত্য তাও নয়।

ছবি আঁকাতেও সে কোনও অংশেই কম নয়। বরং অন্যান্য অঙ্কন শিক্ষার্থীদের থেকে সে অনেকটাই এগিয়ে। ওর দাদাও একই রকম প্রতিবন্ধকতাকে বয়ে বেড়াচ্ছে। সে এখন কলেজে পড়ে। এক অদম্য জীবন যুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ওই মেয়ে আর ওর পরিবারের সদস্যরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here