বক্স অফিসে ‘তানাজি’ বনাম ‘ছপাক’ : ছয় দিনেই একশো কোটির ক্লাবে নাম লেখাল ‘তানাজি’, অনেক পিছিয়ে ‘ছপাক’

0
129

দেবলীনা ব্যানার্জী : দুটো বড় মাপের ছবি আর দুটি ছবি ঘিরেই দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। কথা হচ্ছে মেঘনা গুলজারের ‘ছপাক’ আর ওম রাউতের ‘ তানাজি দ্য আনসাং ওয়ারিয়র’ ছবি দুটির। শুক্রবার ১০ জানুয়ারি রিলিজ হয়েছে মেঘনা গুলজার পরিচালিত ‘ছপাক’। অ্যাসিড অ্যাটাক সারভাইভার লক্ষ্মী আগরওয়ালের চরিত্রে পর্দায় দেখা গিয়েছে দীপিকা পাড়ুকোনকে। পেলব মেকআপ, আলোর ঝলকানি নয় বরং অ্যাসিডে ঝলসানো তামাটে চেহারা নিয়েই এবার বিগস্ক্রিনে হাজির হয়েছেন অভিনেত্রী। পর্দায় তাঁর চরিত্রের নাম মালতী।

ওই একই দিনে রিলিজ হয়েছে অজয় দেবগনের ১০০তম ছবি ‘তানাজি-দ্য আনসাং ওয়ারিয়র’।তানাজি মালুসরে ছিলেন মারাঠা বীর ছত্রপতি শিবাজির ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং সহকর্মী। তাঁর সাহসিকতার কথা আজও মারাঠিদের মুখে মুখে ঘোরে। এই তানাজি মালুসরের বীরগাথাই দেখানো হয়েছে এই ছবিতে। আর তানাজি মালুসারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন অজয় দেবগণ। তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীর চরিত্রে রয়েছেন কাজল। এছাড়াও ছবির মূল খলনায়ক উদয়ভানের চরিত্রে রয়েছেন ছোটে নবাব সইফ আলি খান।

দুটো ছবি নিয়েই উত্তেজনা একইরকম থাকলেও শেষের দিকে ‘ছপাক’ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। ছবিটা নিয়ে প্রচারও কম হয়নি। দীপিকা পাড়ুকোনের জেএনইউ যাওয়ার কারণে আরও চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে ‘ছপাক’।  পক্ষে বিপক্ষে নানান মত থাকলেও অনেকেই ভেবেছিলেন দীপিকা হয়তো এবারেও বাজিমাত করে যাবেন। কিন্তু ছবি মুক্তি পেতে দেখা গেল অন্য দৃশ্য। প্রথম দুদিনে যেখানে ‘তানাজি’ চুটিয়ে ব্যবসা করেছে সেখানে ছপাকের প্রত্যাশিত লক্ষীলাভ হয়নি।রিলিজের প্রথম দিন থেকেই ‘ছপাক’-কে টেক্কা দিচ্ছে ‘তানাজি’। ট্রেড অ্যানালিস্ট তরণ আদর্শ টুইট করে জানান, শুক্রবার ‘ছপাক’-এর বক্স অফিস কালেকশন ছিল ৪.৭৭ কোটি টাকা। আর ‘তানাজি’-র বক্স অফিস কালেকশন তার থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি, ১৫.১০ কোটি।

আশা ছিল সপ্তাহান্তে শনি ও রবিবার ব্যবসায় পার্থক্য দেখা যাবে। কিন্তু একই ট্রেন্ড বজায় ছিল শনিবারেও। এ দিন ‘ছপক’-এর বক্স অফিস কালেকশন ছিল ৬.৯০ কোটি টাকা। এবং শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে মোট ১১.৬৭ কোটি টাকা। সেখানে শনিবার ‘তানাজি’-র ব্যবসার পরিমাণ ছিল ২০.৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ দু’দিন মিলিয়ে ৩৫.৬৭ কোটি টাকা।রবিবারও আশার আলো দেখাল না ছপাকের ব্যবসা। তরণ আদর্শের টুইট অনুযায়ী রবিবার ৭.৩৫ কোটি টাকার ব্যবসা করে তিনদিনে ছপকের আয় ১৯.০২ কোটি তাকা। আর রবিবার ২৬.০৮ কোটি টাকার ব্যবসা করে ‘তানাজি’-র তিনদিনের বক্স অফিস কালেকশন ৬১.৭৫ কোটি টাকা। পরবর্তী দিনগুলোতেও হইহই করে এগিয়ে গেছে ‘তানাজি’। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৭৫ কোটির ব্যবসা করেছে ‘তানাজি’, সেখানে ২১ কোটিতে আটকে ‘ছপাক’। শেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী সপ্তাহান্তে মাত্র ছয় দিনেই ১০০ কোটির ক্লাবে ঢুকে গেছে মারাঠা বীরের বিজয়গাথা। অন্যদিকে দীপিকার ‘ ছপাক’ ব্যবসার নিরিখে এর অর্ধেক রাস্তাও পার করতে পারে নি।

ছপাক নিয়ে এত প্রত্যাশা সত্বেও কেনো এমন হল তা নিয়ে নানা মুনি নানা মত প্রকাশ করছেন। অনেকের মতে দীপিকার অ্যাসিড পোড়া মুখকে হয়ত নায়িকা হিসেবে মেনে নেয়নি দর্শকদের একটা বড় অংশ। গ্ল্যামারবর্জিত নায়িকাকে মেনে নেওয়ার মত মানসিক প্রস্তুতি বা শিক্ষা এখনো আমজনতার হয়নি। অন্যদিকে অজয় দেবগণের ১০০ তম ছবি ‘তানাজি’ মারাঠি বীরগাথা হিসেবে প্রত্যাশিত সাফল্য পেয়েছে। ছবিটির মেকিং ও অভিনয় প্রশংসা পেয়েছে সমালোচক ও দর্শকমহলে। বলা হচ্ছে ছবির ইউএসপি এর গ্রাফিক্সের কাজ, যা ভারতীয় ছবিতে এর আগে দেখা যায় নি।তবে গোটা দেশের পরিসংখ্যানের চেয়ে বাংলার পরিস্থিতি আলাদা। এরাজ্যে ‘ছপাক’ কিন্তু ‘তানাজি’ র চেয়ে ভালো ব্যবসা করেছে। ট্রেড অ্যানালিস্ট পঙ্কজ লাডিয়ার মতে, ‘ এখানকার দর্শক ইমোশনাল ছবি পছন্দ করে। সব বাধা কাটিয়ে জিতে যাওয়ার গল্প দর্শকের মন ছুঁয়ে যায়।’ তাই আগামীতেও বাংলায় ‘ছপাক’ ভালো ব্যবসা করবে আশা করা যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here