বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ নিয়ে শোক যাত্রা চলাকালীন থানায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ভাংচুরের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা

0
63

সুমন মণ্ডল, কোচবিহার :  বিজেপি কর্মী  রামপ্রসাদ বারুই এর মৃত্যুর ঘটনায় মৃতদেহ নিয়ে মিছিলকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল। মৃতদেহ নিয়ে শোক যাত্রা চলাকালীন দিনহাটা থানায় বিক্ষোভের পাশাপাশি ভাংচুরের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীনই সোমবার ওই বিজেপি কর্মীর কোচবিহারে মৃত্যুর পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায়  মৃতদেহ দিনহাটা এসে পৌঁছালে দলীয়  কর্মী-সমর্থকরা দিনহাটা শহরের বুড়িরপাট থেকে শোক যাত্রা করে দিনহাটা শহর পরিক্রমা কালে থানার সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিযোগ বিজেপি কর্মী সমর্থক রা দিনহাটা থানায় পাথর দিয়ে এলোপাথারি ঢিল ছোড়ে।

অবস্থা বেগতিক বুঝে পুলিশ দ্রুত থানার মূল ফটক বন্ধ করে দেয়। বিজেপি কর্মীদের ছোড়া ঢিলে থানার সাইনবোর্ড ভাঙচুর ছাড়াও কয়েকজন পুলিশ কর্মী অল্পবিস্তর আহত হয়  বলে জানা গেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য থানায় ঢিল ছোড়ার  ঘটনায় দলের কোনো সম্পর্ক নেই। বিজেপির জেলা সভাপতি মালতি রাভা পাল্টা অভিযোগ এনে বলেন দলের মৃত কর্মীর রামপ্রসাদ বারুই কে নিয়ে এদিন তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিল দিনহাটা থানা চত্বর পার হওয়ার সময় থানার ভেতর থেকেই বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্য করে ঢিল ছোড়া হয়। তৃণমূল উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে পুলিশের সাথে মিশে গিয়ে তাদের কর্মীদের উদ্দেশ্যে ঢিল ছোড়া বলেও তার অভিযোগ।

এরপর দলীয় কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। পুলিশ সূত্রে অবশ্য  জানা গেছে এদিন মৃতদেহ নিয়ে দিনহাটা থানার সামনে দিয়ে মিছিল যাওয়ার সময় বাইরে থেকে পুলিশের উদ্দেশ্যে বড় বড় পাথর দিয়ে ঢিল ছোড়া হয়।দিনহাটা থানার সাইনবোর্ডে ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে থানা চত্বরে  উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিজেপির জেলা সভাপতি মালতি রাভা, সহ-সভাপতি ব্রজগোবিন্দ বর্মন, জেলা সম্পাদক সুদেব কর্মকার, মন্ডল সভাপতি অমিত সরকার সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা উত্তেজিত কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে শহরের পাঁচ মাথার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এরপর সেখানেও মৃতদেহ কে সামনে রেখে বিজেপি কর্মী সমর্থক রা পথ অবরোধ করে বসে।

এবং টায়ার  জ্বালিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়। পুলিশের মারধরের ফলে বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে এদিন তারা অভিযোগ আনেন। দিনহাটা থানার আইসি অপসারণের দাবিতে সরব হন। বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি মালতি রাভা বলেন গত ৩০ শে ডিসেম্বর তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে বিধায়ক জগদীশ বর্মা  বসুনিয়া আক্রান্ত হলে এই ঘটনায় বিজেপি দলের কর্মীদের উপর অভিযোগ এনে রামপ্রসাদ বারুই সহ বেশ কয়েকজনকে  গ্রেফতার করে পুলিশ। মিথ্যা অভিযোগে পুলিশ বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার করল বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হলে পুলিশ সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো রকম পদক্ষেপ নেয় না।

লেখাটা পুলিশ কার্যত তলদেশে পরিণত হয়ে পড়েছে বলেও তার অভিযোগ। বিজেপির জেলা সভাপতি বলেন প্রবীণ ওই  কর্মীকে পুলিশ জেলের ভিতরে পিটিয়ে মেরেছে। পুলিশের মারে তাদের দলীয় কর্মীর মৃত্যু হয়। এদিন শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল যাওয়ার সময় থানার ভিতর থেকেই ঢিল আসে তাদের উপর। তিনি বলেন বিজেপি শান্তিপূর্ণ মিছিল কে ছত্রভঙ্গ করে পুলিশ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। বিজেপির জেলা সভাপতি দিনহাটা থানার আইসি পদত্যাগের দাবি করেন। তিনি বলেন দিনহাটা থানায় আইসি  জন্মদিন পালন করেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। পুলিশের উস্কানিতেই সব ঘটনা ঘটেছে বলেও তার অভিযোগ।

তবে এদিন সন্ধ্যা সোয়া ছয় টা  নাগাদ মৃতদেহ নিয়ে বিজেপি কর্মী সমর্থক রা অবশেষে গোসানিমারি উদ্দেশ্যে রওনা হয়। প্রসঙ্গত দলীয় কর্মীর মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই  কোচবিহার জেলার বিভিন্ন স্থানে বিজেপি কর্মী সমর্থক রা কত বছর থেকে শুরু করে নানাভাবে আন্দোলন শুরু। বিষয়টি নিয়ে দিনহাটা থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন এদিন বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ নিয়ে শোক মিছিল দিনহাটা থানার সামনে পার হওয়ার সময় থানায় বিক্ষোভ এবং ঢিল ছোড়া হয়।থানার মূল ফটকের সামনে সাইনবোর্ড ভেঙে যায়। পাথর দিয়ে ছোড়া ঢিলে তাদের কয়েকজন পুলিশ কর্মী অল্পবিস্তর আহত হন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here