গঙ্গাসাগর মেলার জন্য থাকছে নানা রকম ব্যবস্থা,কী কী থাকছে একবার দেখে নিন

0
32

রবীন মজুমদার,দক্ষিণ চব্বিশপরগণাঃগঙ্গাসাগর মেলাতে প্রায় তিনশো বেসরকারি সংগঠন উপস্থিত থাকেন।মেলা পরিচালনায় সরকারি আধিকারিকদের  সঙ্গে এই সমস্ত বেসরকারি সংগঠনের কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন। বছর এই মেলায় তাদের সেই সব বেসরকারি সংগঠনের ভূমিকা কী হবে তা নিয়েও আলোচনা হয়।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে জেলাশাসক বলেন,এবছর গঙ্গাসাগর মেলায় বিভিন্ন প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।মূলত প্রযুক্তিনির্ভর এই মেলায় সমস্ত রকম সুবিধা পাবেন সাগরে আসা লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীরা । গঙ্গাসাগরের ড্রেজিং সময়মতো শেষ হওয়ায় অনেক বেশি সময় পর্যন্ত যান চলাচল করানো সম্ভব হবে। এর ফলে বাফার এলাকাগুলিতে আর বেশি লোক জমে থাকবে না। ভীড়ও যথেষ্ট হারানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে অতিথি পদ নামক অ্যাপের মাধ্যমে গঙ্গাসাগর মেলা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য পাওয়া যাবে। পূজা থেকে নদীর জোয়ার ভাটা যানচলাচল ফেরি অবস্থা সবটাই জানা যাবে।কখন নদীতে জোয়ার হচ্ছে কখন ভাটা হচ্ছে, ট্রেন সময় মতো চলছে কিনা ,সব জানিয়ে দেওয়া হবে এই অ্যাপের মাধ্যমে। শুধু তাই নয় এই অ্যাপের মাধ্যমে গঙ্গাসাগর ওয়েবসাইট ও সোশ্যাল মিডিয়ার এর সম্পর্কে জানা যাবে।যেহেতু এই অ্যাপটি সাগর সুরক্ষা সিস্টেমের সাথে যুক্ত থাকবে তাই তীর্থ যাত্রীদের সুরক্ষার দিকেও নজর দেওয়া যাবে ।এটি ব্যবহার করার সময় ব্যবহারকারী সেই সময়ের ভৌগলিক অবস্থান দেখে নিতে পারবেন ।

যার ফলে কোন রকম সুবিধা অসুবিধা হলে তার কাছে সহজেই পৌঁছাতে পারবেন যে সমস্ত রেস্কিউ টিম থাকবে তারা।মেলা চলাকালীন সমস্ত গাড়ি ও ফেরির সময় এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে তীর্থ যাত্রীদের ওয়াকিবহাল করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি যানে থাকবে বাহন ট্রাকার।এই ট্রাকার এর মাধ্যমে যাত্রী বোঝাই গাড়ি যদি কোন কারণে কোথাও গিয়ে আটকে পড়ে এমনকি কুয়াশার কারণে যদি লঞ্চ বা জলযান ভুল পথে পরিচালিত হয় তাহলে তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। সাগর মেলা চলাকালীন পরিষেবা চালু রাখার জন্য বিশেষ ভি এইচ এফ রেডিও টেকনোলজি বসানো হচ্ছে যার নাম দেয়া হয়েছে, ‘সাগর সঞ্চার’।

১৫০ জন অফিসার সাগর মেলা থেকে ৪০ কিলোমিটারের মধ্যে এই প্রযুক্তি রেডিও ব্যবহার করতে পারবেন।সাগর মেলা থেকে শুরু করে জোকা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্ট গুলোতে প্রায় ২০০ এলইডি স্ক্রিন বসানো হবে যার সাহায্যে মেলার বিভিন্ন ভিডিও ছবি দর্শকরা দেখে নিতে পারবেন।তাছাড়া বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ও গঙ্গাসাগর ওয়েবসাইটেও লাইভ দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে। বাবুঘাট থেকে সাগর পর্যন্ত পুরো এলাকাটি নজরদারি রাখা হচ্ছে সিসিটিভিতে। সাগর মেলা যাত্রা পথে পাঁচটি ও মেলা প্রাঙ্গণে একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে যেখান থেকে পুরো সিসিটিভি গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। শুধু তাই নয় ড্রোনের মাধ্যমে মেলাকে ২৪ ঘন্টা নজরদারিতে রাখা হবে। ২৫ টি ওয়াইফাই বুথ তৈরি করা হয়েছে। যেখান থেকে প্রযুক্তিগত সুবিধা পাবেন তীর্থযাত্রীরা।বিভিন্ন শিশু ও বৃদ্ধদের হাতে পড়ানো হবে এক বিশেষ প্রকৃতির রিস্টব্যান্ড জেলা প্রশাসনের থেকে যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে “পরিচয়”। এই রিস্টব্যান্ড জল নিরোধক অর্থাৎ চান করার সময় দেও কোনভাবেই সেই রিস্টব্যান্ড নষ্ট হয়ে যাবে না।সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় এই রিস্টব্যান্ড দেওয়া হবে ফলে কেউ হারিয়ে গেলে সাগর বন্ধুরাই তাদেরকে খুঁজে বের করে দেবেন।অন্যদিকে বিভিন্ন সেনিটারি ন্যাপকিন, ভেন্ডিং মেশিন বসানো হয়েছে। কারণ সাগর মেলা আসার পরে বিভিন্ন তীর্থযাত্রীদের সেনিটারি ন্যাপকিন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। সেদিকে নজর রেখেই প্রশাসনের তরফ থেকে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে বিভিন্ন হাসপাতালগুলোকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে পাঁচটি সিসিইউ তৈরি করা হয়েছে। কাকদ্বীপ ডায়মন্ডহারবার, সহ বিভিন্ন হাসপাতালকে রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ২৪ ঘন্টা কাজ করতে পারবে এরকম ভাবেই তৈরি করা হয়েছে সাগর হাসপাতালকে।নেভি, কোস্টগার্ড এবং এনডিআরএফ কর্মীদেরকে বিভিন্ন জায়গাতে ইতিমধ্যে মোতায়েন করে দেওয়া হয়েছে গঙ্গাসাগর ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য।তাছাড়াও পুলিশ কর্মী এবং প্রচুর পরিমাণে সিভিক ভলেন্টিয়ার মোতায়েন রাখা হয়েছে সাগরের মেলা পরিচালনার জন্য। সাত ভলেন্টিয়ার কে নিয়োগ করা হয়েছে যারা মেলা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে।অন্যবারের মতো এবারও গঙ্গাসাগর মেলা থাকছে ৫ লক্ষ টাকায় ইন্সুরেন্স।যদি কোন তীর্থযাত্রী মারা যায় তাহলে তাদের পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে জেলা প্রশাসন।গঙ্গাসাগর মেলায় আগুনের নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ফায়ারবল আনা হয়েছে। যে বলগুলি আগুনের মধ্যে ছুঁড়ে দিলেই আগুন নিভে যাবে।তাছাড়া ৪৭৫ টি বিভিন্ন রকমের যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার মক ড্রিল সেশন শুরু হয়েছে।তাছাড়া গঙ্গাসাগর মেলা কে পুরোপুরি প্লাস্টিক মুক্ত মেলা হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা প্রশাসন বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সহযোগিতা নিয়েছে।শুধু মেলা নয় গঙ্গাসাগর এবং কাকদ্বীপে বিভিন্ন নদীর যে সমস্ত চ্যানেলগুলি রাস্তার পাশে এসে যোগ হয়েছে সেগুলো প্লাস্টিক মুক্ত করা হয়েছে।


উল্লেখ্য গঙ্গা নদী ও গঙ্গা সাগর সঙ্গম স্থান কপিলমুনি মন্দির অবস্থিত। যেখানে প্রতিবছর কয়েক লক্ষ লক্ষ মানুষ আসেন পুণ্যস্নানের জন্য। মকর সংক্রান্তির দিন ভারত তথা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে লক্ষ লক্ষ তীর্থযাত্রী ছুটে আসে মোক্ষ লাভের আশায়।এই বিশাল সংখ্যক তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা সুরক্ষা ও তাদের সকল বিষয়ে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রশাসন মেলা চলাকালীন বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকেন। এ বছরও না হয়েছে নতুন নতুন বেশ কিছু ব্যবস্থা। যা মেলা কে অনেক বেশি সুগম করবে এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
৮জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে গঙ্গাসাগর মেলা ৷ ইতিমধ্যেই ১০ থেকে ১৭ লাখ পুণ্যার্থী এসেছেন সাগরে ৷ এমনই জানাচ্ছে জেলা প্রশাসন ৷ পাশাপাশি মেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রতিনিয়ত মেলার আগত পুণ্যার্থীদের উপর নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন ৷ লাগানো হয়েছে প্রায় এক হাজার সিসিটিভি ক্যামেরা ৷ ভিড় এড়াতে মকর সংক্রান্তির আগেই অনেক মানুষ স্নান সেরে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে । কিন্তু প্রশাসনের বক্তব্য, মকর সংক্রান্তিতে স্নান করতে ভিড় করবে আরও পুণ্যার্থীরা ৷ মেলা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here