স্কুল শিক্ষকের টিউশন পড়ানো নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাল ছাত্রছাত্রীরা

0
91

সুমন মণ্ডল, দিনহাটা: স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি এই সিদ্ধান্তে সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত থাকতে পারবেন না এই ঘোষণার পর সমস্যায় পড়েছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। দিনহাটা বিভিন্ন স্কুলের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছাত্রীরা সরকারি ভাবে হঠাৎ করেই বিজ্ঞপ্তি জারি নিয়ে তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন মহকুমা প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে। একাদশ শ্রেণির এই  ছাত্রছাত্রীরা তাদের অসুবিধার কথা তুলে ধরে স্কুল শিক্ষকদের যথারীতি পড়ানোর আবেদন জানালেন মহকুমা  শাসক ও পুরসভার চেয়ারম্যান তথা বিধায়কের কাছে।

সোমবার দিনহাটার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা মহকুমা শাসকের দফতরে বিক্ষোভ দেখানোর ছাড়াও তার হাতে আবেদনপত্র তুলে দিয়ে স্কুল শিক্ষকরা টিউশন বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এদিন ছাত্র-ছাত্রীদের রূপায়ণ চন্দ্র বর্মন, সুস্মিতা সাহা, শ্রেয়সি সেনগুপ্ত, সম্রাট পাল, চন্দ্রানী পোদ্দার, অরিত্রা সাহা, পৌলোমী বাগচী প্রমুখ ছাত্রছাত্রীরা মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের এক প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের সাথে দেখা করে তার হাতে ওই আবেদনপত্র তুলে দেন।

এর আগে ছাত্রছাত্রীরা  দিনহাটা  পুরসভার চেয়ারম্যান বিধায়ক উদয়ন গুহ কাছেও একইভাবে আবেদনপত্র তুলে দিয়ে বিষয়টি দেখার আবেদন জানান। ছাত্রছাত্রীরা জানান এদিন মহকুমা শাসক থেকে শুরু করে বিধায়ক উভয়েই ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। এদিন ছাত্রছাত্রীরা মহকুমার শাসক ও পুরসভার চেয়ারম্যান বিধায়ক উদয়ন গুহ  কাছে আবেদন পত্র তুলে দিয়ে বলেন প্রাইভেট টিউশন বিষয়ক যে সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে তাতে দিনহাটার শিক্ষাক্ষেত্রে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে স্কুল স্কুল শিক্ষক প্রাইভেট টিউশন এর সাথে জড়িত থাকতে পারবেন না।

তারা বলেন বর্তমানে তারা যারা একাদশ শ্রেণীতে পড়াশোনা করছেন এই বিজ্ঞপ্তির পর তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ এই বিজ্ঞপ্তি ফায়দা তুলে কিছু গৃহশিক্ষক স্কুল শিক্ষকদের বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠছে। পাশাপাশি প্রশাসনে আধিকারিকদের কাছে উল্লেখ করা হয়েছে দ্রুত সম্ভব এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে দিনহাটার ছাত্রসমাজের উদ্বিগ্নতা দূর করার জন্য।এবং শিক্ষকদের যথারীতি পড়ানোর জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয়।

এই ছাত্র-ছাত্রীরা বলেন গত কয়েক বছর ধরে দিনহাটায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে খুব ভাল ফলাফল হচ্ছে তার অন্যতম কারণ অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কাছে পড়াশোনা করা। কিন্তু হঠাৎ করে স্কুল শিক্ষকদের পড়ানো বন্ধ হলে তার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে দিনহাটার ছাত্রসমাজ এই। ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন হঠাৎ করে প্রাইভেট টিউশন বন্ধ না করে এর বিকল্প সন্ধান করা হোক।

ছাত্র-ছাত্রীদের রূপায়ণ চন্দ্র বর্মণ বলেন স্কুল শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করার ফলে তারা কতটা বিপর্যস্ত, অসহায় হয়ে পড়েছেন সেটাই তারা জানাতে গিয়েছিলেন। মহকুমা শাসক সেভাবে কোনো আশ্বাস না দিলেও তাদের যথাযথ সাহায্য করার চেষ্টা করবেন বলে জানান।বিধায়কের কাছ থেকে  সবরকম আশ্বাস পেয়েছেন। শিক্ষকরা যদি বেতন ছাড়া পড়াতে চান তাহলে তারা পড়াতে পারবেন এই বলে তাদের আশ্বস্ত করেন বিধায়ক বলে রুপায়ন জানান।

বিষয়টি নিয়ে মহকুমার শাসক শেখ আনসার আহমেদ বলেন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের  সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী স্কুলে চাকরিরত কোন শিক্ষক গৃহ শিক্ষকতা করতে পারবেন না। সার্কুলারে বলা আছে যে শিক্ষকরা স্কুলে চাকরি করে তারা টিউশন পড়াতে পারবেন না। তিনি বলেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষকদের স্কুলে বেশি উপস্থিতি থাকত না শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনিতে বেশি ব্যস্ত থাকতো।স্কুলে ভালো পড়াশোনা হতো না কিন্তু প্রাইভেট এসেই পড়াশোনা হত।এই অভ্যাস অনেকটাই বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে যেগুলি পদক্ষেপ নেওয়ার তার জন্য তিনি চেষ্টা করবেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here