উপদ্রবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী আটক করলো একাধিক খোলা ষাঁড়

0
49

শৌভিক দাস, রায়গঞ্জ : বেশ কিছুদিন ধরে একাধিক ষাঁড়ের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে শেষে নিজেদের উদ্যোগে ষাড়গুলোকে আটক করল ভট্টো দিঘীর গ্রামবাসীরা। ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিন্দু ধর্মালম্বীদের মধ্যে ষাঁড় ছাড়ার রীতি আছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাইরে থেকে ঘুরতে ঘুরতে এসে বেশকিছু দিন ধরে সেই রকম একাধিক ছাড়া ষাঁড় ভট্ট দিঘী এলাকার মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল।

ষাঁড়গুলো এলাকার চাষের জমিতে ঢুকে তছনছ করে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছিল। ষাঁড়ের এই অত্যাচারে এই ঠাণ্ডার রাত্রেও ফসলের জমি পাহারার ব্যবস্থা করতে হয়েছিল ভট্ট দিঘীর মানুষদের। এই উপদ্রবের থেকে মুক্তির কোনও উপায় না পেয়ে শেষে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু বর্মণ, মহসিন আলি, মহম্মদ মুস্তাফা, প্রবীর বর্মণের উদ্যোগে সমস্ত গ্রামবাসী একত্র হয়ে ছয়টি ষাঁড়কে এলাকার কয়েকটি ঘেরা জায়গায় আটক করে রাখে।

আটক করা ষাঁড় গুলোর জন্য গ্রামবাসীরা খাবার এবং জলের ব্যবস্থা করেছেন। প্রাথমিকভাবে ষাঁড় গুলোকে আটক করলেও পশুগুলোকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী করা যায় তা নিয়ে গ্রামবাসীর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। তাদের তরফ থেকে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলোর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও পশুপ্রেমী সংগঠনগুলোর সীমিত সংস্থানের দ্বারা এই সমস্যা কতদূর স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

স্থানীয় চাষী টিপু মণ্ডলের মতে, এই সমস্যা থেকে স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রশাসনের এগিয়ে আসা উচিত। তিনি বলেন, “যারা ষাঁড়গুলোকে ধর্মের নামে ছাড়েন তারা যদি ষাঁড়ের বদলে গরুগুলোকে ধর্মের নামে ছাড়েন তবে আমার বিশ্বাস তাতে সকলের অনেক বেশি মঙ্গল হবে এবং যিনি গরু ছাড়বেন তারও অনেক বেশি পুণ্য অর্জন হবে।”

প্রসঙ্গত, খোলা ষাঁড় এবং গরুর সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরে যুঝে চলেছে রায়গঞ্জ শহরও। সারাদিন কমবেশি হলেও রাত হলেই শহরের প্রধান রাস্তা থেকে অলিগলিগুলি ষাঁড়, গরুর দখলে চলে যায়। যার ফলে গাড়িঘোড়া চলাচলের প্রভুত অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

নিত্যদিনের এই অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তথা প্রশাসনিক আধিকারিক সহ সকলেই। অন্যদিকে, শহরের যান চলাচল এবং ব্যাস্ততায় অবলা পশুগুলোরও নানান অসুবিধা হয় এমনকি অনেক সময় দুর্ঘটনাও পর্যন্ত ঘটে। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় পথ চলতি মানুষ এবং পশুগুলোও।   কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে এইসব ছাড়া গরু এবং ষাঁড়ের সমস্যার সমাধান এখনও অধরা।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here