বনাঞ্চলে পিকনিক বন্ধ করল বন দপ্তর

0
51

মালবাজারঃ   নতুন বছর থেকে পিকনিক এ হিড়িক পড়ে গেছে ডুয়ার্স এলাকায়। তবে জঙ্গল এলাকায় পিকনিক বেড়েছে এবার। আর এতেই সমস্যায় বন্য প্রাণীরা। কারন জঙ্গলের মধ্যে পিকনিক করার সময় মাইক বাজিয়ে চলছে পিকনিক।  এছাড়া পিকনিক শেষ করার পর পিকনিক পার্টি জঙ্গলে প্লাস্টিক, থার্মোকলের পাতা গ্লাস ফেলে যাচ্ছে। এমন কি কেউ কেউ জঙ্গলের ভেতর মদ্যপান করে,  মদের বোতল ভেঙ্গে জঙ্গলেই ফেলে যাচ্ছে।

আর এতেই ক্ষতির মুখে বন্য জন্তুরা। তাই গত সপ্তাহ থেকে মালবাজার মহকুমার বৈকন্ঠপুর জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় পিকনিক বন্ধ করে দিয়েছে বন দপ্তর। বিশেষ করে তারঘেরা বন দপ্তরের গাজোলডোবা বিট এলাকা এবং সাত নম্বর জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় পিকনিক বন্ধ করে দিয়েছিল তারঘেরা বন দপ্তর। কিন্তু তার পরো দেখা গেছে কেউ কেউ বন দপ্তরে চোখের আড়ালে জঙ্গলের ভেতরে পিকনিক করছে।

তাই রবিবার সকাল থেকে এই সব জঙ্গল এলাকায় পাহাড়া দিচ্ছেন তারঘেরা বন দপ্তর ও গাজলডোবা বিট এর বন দপ্তরের আধিকারিকেরা। আর বন দপ্তরকে সহযোগিতার হাত বারিয়ে দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ন্যাসের’ সদস্যরা। এদিনও দেখা গেছে গজলডোবার জঙ্গলে কিছু দল পিকনিক করছিলো। বন দপ্তর জানতে পেরে তখনই সেই পিকনিক দলকে তুলে অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়। এদিন প্রায় ২০০ পিকনিক দল এসেছিল এই জঙ্গল এলাকায় পিকনিক করতে কিন্তু বন কর্মীরা অনুমতি না দেওয়ায় ফিরে যায় পিকনিকের দল।

তারঘেরা বন দপ্তরের বন কর্মীদের বক্তব্য, এটা রিজার্ভ ফরেষ্ট। এই জঙ্গলে দুটি হাতির দল রয়েছে। এক একটি দলে ৪০-৪৫ টি বাচ্চাসহ হাতি রয়েছে। তাছাড়া এই জঙ্গল এলাকাটি হাতিদের করিডোর। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে এই জঙ্গলে। তাছাড়া জঙ্গলের ভেতরে পিকনিক হলে বন্য জন্তুদের ক্ষতি হবে। তাই এই এলাকায় পিকনিক বন্ধ করা হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘নেচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার সোসাইটির কর্ডিনেটার’ রাসেল সরকার, সম্পাদক নফসর আলী  বলেন, জঙ্গলে হাতিদের বিরক্ত করে পিকনিক করা কোন যুক্তিকতা নেই। পিককিক করতে আসা মানুষদেও এটা বোঝা উচিত। জঙ্গলে পিকনিক করলে বন্য জন্তুদের আক্রমণ হতে পারে।  তাই আমরাও চাইছি পিকনিক বন্ধ হোক। সেই কারনে আমরাও বন কর্মীদের সাথে এলাকায় পাহাড়া দিচ্ছি। যাতে কেউ পিকনিক করতে না পারে। এদিন দুরদুরান্ত থেকে পিকনিক করতে এসে সমস্যায় পরে বহু পিকনিকের দল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here