কোচবিহারে আসন্ন পৌর নির্বাচনে মহিলা শক্তি হবে তৃনমূলের আসল অস্ত্রঃ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য্য

0
40

সুমন মণ্ডল, কোচবিহার: আসন্ন পৌরসভার নির্বাচনে কোচবিহারের মহিলারা বিরাট ভূমিকা গ্রহণ করতে চলেছে, দল কে সঙ্ঘবদ্ধ করার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়ন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নীতি ও আদর্শের প্রচার এর জন্য পৌর এলাকায় মহিলারাই হয়ে উঠবে সব থেকে বড় হাতিয়ার। কোচবিহারে কর্মীসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে এমন কথাই বলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন এরাজ্যে খুকু-খোকনরা পৃথক নয়। উন্নয়নের জোয়ারে নারীরাও এখন সাবলম্বি। মহিলাদের মানুষ হয়ে ওঠার লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের সাবলম্বি করে তুলেছে এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তাই তার হাতকে শক্ত করতে নারী শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের রাষ্ট্র মন্ত্রী তথা রাজ্য তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এইদিন অনেকটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢঙে ছড়া কেটে আসর মাত করলেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে দেবী দুর্গার সাথে তুলনা করে নিজেদের বাহন বলে অভিহিত করলেন তিনি। এই বাহন কখনো কামড়েও দিতে পারে বলেও হুমকি দেন চন্দ্রিমা। তিন বলেন, পায়ে হেঁটে, চটি পরে, পথে চলে যে লড়াই করছে, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করাই এম এদের কাজ। তাই কোচবিহারের ৬ টি পৌরসভাকে উপহার দেবার আহ্বান জানান কর্মীদের কাছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝেন, তিনি তার শাসনকালে ৪৯ টি এমন প্রকল্প বাংলার মানুষকে উপহার দিয়েছেন যা কিনা মানুষের সার্বিক উপকারে অনবদ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিনে পয়সায় স্বাস্থ্যপরিসেবা পায় যা গোটা ভারতবর্ষের অন্য কোন রাজ্যে নেই। কন্যাশ্রী প্রকল্প টি মহিলাদের ক্ষমতায়ন ও তাদের স্বনির্ভরতার এক অন্যতম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে গোটা বিশ্বের সামনে।সুতরাং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের ধারায় মহিলাদের উন্নয়ন এক অন্য মাত্রা নিয়ে এসেছে গোটা ভারতবর্ষের সামনে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, মহিলারাই একমাত্র মাধ্যম যারা যেকোনো পরিবারের রান্নাঘর পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে সুতরাং তারাই নতুন বাংলা গঠনে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে।

মানুষকে উন্নয়নের বার্তা দেওয়াই মহিলাদের অন্যতম কাজ হবে এই পৌর নির্বাচনে। এদিন এই সভায় কেন্দ্রের বিজেপিকে এক হাত নিলেও বামেদের ৩৪ বছরের শাসনের ব্যর্থতার কথাও জানাতে ভোলেন নি তিনি। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ফিরিস্তি দিয়ে তিনি বলেন, নারীদের ক্ষমতায়নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা করেছেন তা বিশ্বেও সমাদৃত। বাংলা এগোলেও ভারতের দুটি মানুষ গোটা দেশকে প্রশ্ন চিহ্নের সামনে এনেদিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এনআরসি ও ক্যা নিয়েও তিনি এই মঞ্চে সরব হন। তিনি বলেন, এ রাজ্যর আইনকে বাস্তবায়িত করতে দেওয়া হবে না। গোটা সভায় তাঁর মূল বার্তা ছিল পৌর নির্বাচনে জয়ের মুখ দেখা।

পৌর নির্বাচনে সব থেকে বড় দায়িত্বে এই মহিলাদেরকে সামনের সারিতে এনে প্রচার করার নির্দেশ দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। স্বতঃস্ফূর্তভাবে মহিলাদেরকে এগিয়ে আসার আবেদন জানান তিনি। তিনি বলেন,মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন মহিলা হয়ে যেভাবে বাংলার শাসনক্ষমতা কে পরিচালনা করছেন ঠিক সেইভাবে কোচবিহারের মহিলা তৃণমূল সংগঠন তৃণমূলের সাংগঠনিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, মহিলারা স্বনির্ভর হচ্ছে, নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে, নিজের ভালো নিজের মন্দ নিজেরাই বুঝে উঠতে শিখেছে, মহিলারা কারো গোলাম নয়,একটি পরিবার যেমন মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত হয় তেমনই একটি গোটা সমাজ মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নের বার্তা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ২০১১ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত খাদ্যসাথী প্রকল্পের আওতাধীন বেড়েছে তিনগুণ, সংখ্যালঘু উন্নয়নে বাজেট বেড়েছে ৪গুণ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়ন বৃদ্ধি হয়েছে দশগুণ বরাদ্দ, বাংলা ১০০% বাড়িতে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ, ৮০% মহিলারা তাদের পরিবার সহ স্বাস্থ্যসাথী আওতাধীন হয়েছে, কন্যাশ্রীর আওতায় এসেছে ৯৫% ছাত্রীরা। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যপরিসেবা গোটা ভারতবর্ষের কাছে এক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী আওতাধীন হওয়ার দরুন স্বাস্থ্য পরিষেবায় একটি টাকাও খরচা হয় না বাংলার মানুষের। শুধু তাই নয় রুপশ্রী যুবশ্রী ইত্যাদি প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে যাচ্ছে মহিলাদের দোরগোড়ায়। সুতরাং, এবার মহিলাদের দেওয়ার পালা।

তারা বাংলার উন্নয়ন কেই শুধুমাত্র সামনে তুলে ধরলে পৌর নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের ক্ষেত্রে কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াবে না কোনো সাম্প্রদায়িক দল। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এর মুখ থেকে উঠে আসে এনআরসি ও ক্যাব এর বিরোধিতা। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের জন বিরোধী নীতিগুলি প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম বিরোধিতায় সামিল হয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে যতদিন তিনি জীবিত রয়েছেন বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কোন জনবিরোধী নীতি প্রযোজ্য হবে না।তেমনই আজকের এই কর্মীসভা থেকে উপস্থিত সকল মহিলাদের শপথ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন যে তারা বেঁচে থাকতেও যেন এনআরসি ও ক্যা এর বিরুদ্ধে তারা লড়াই চালিয়ে যায়।

কোচবিহার উৎসব অডিটোরিয়ামে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের পরিচালনায় আজকের এই কর্মীসভা পরিচালিত হয়। কোচবিহার, দিনহাটা, মাথাভাঙা, মেখলিগঞ্জ, হলদিবাড়ি, তুফানগঞ্জ পুরসভার প্রায় তিন হাজার মহিলা কর্মী কর্মী সভায় যোগদান করেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সাথে উপস্থিত ছিলেন মালা সাহা, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অনগ্রসর কল্যাণ মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মন, কোচবিহার পৌরসভার পৌর প্রধান ভূষণ সিং, জেলা তৃণমূল কার্যকরী সভাপতি পার্থ প্রতিম রায়, কোচবিহার জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ আব্দুল জলিল আহমেদ, কোচবিহার জেলার ছোট মহিলা সভানেত্রী সুস্মিতা দত্ত শর্মা সহ আরো অনেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here