নদী ও বনাঞ্চল দূষণে উদ্বিগ্ন পরিবেশ প্রেমীরা

0
26

মালবাজারঃ শহর থেকে গ্রাম, সর্বত্র বাড়ছে জঞ্জাল। এই জঞ্জালের মোটা অংশই প্লাস্টিক জাতীয় আবর্জনা। এইসব জঞ্জাল ফেলার কোন নির্দিষ্ট ডাম্পি গ্রাউন্ড মাল মহকুমা এলাকায় নেই। স্বাভাবিক ভাবেই রোজ জমা হওয়া এই বিশাল জঞ্জাল ফেলা হবে কোথায়?  তার কোন জবাব নেই। অতএব গ্রাম বা শহরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুলি বেছে নিয়েছে নদীর বুক কিম্বা বনাঞ্চলের ভিতর। এই কারণে এই সব এলাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে। এতেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে পরিবেশ প্রেমীরা।

ডুয়ার্সের বিভিন্ন নদীর ধার কিম্বা বনাঞ্চলের আশেপাশে গেলেই দেখা যাবে জমে রয়েছে জঞ্জালের স্তুপ। কোথায় বিশুদ্ধ বাতাস প্রান ভরে নেবেন? তা না, দূর্গন্ধে নাকে কাপড় দিতে হয়। ওদলাবাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আন্দা ঝোড়া। বাজারের যত আবর্জনা এখানে ফেলা হয়। ঝোড়ার বুকে জমে রয়েছে প্লাস্টিকের আবর্জনা। মালবাজার শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মাল নদী। শহরের সব আবর্জনা এই নদীর বুকে জমা হয়।

চালসার পাশেই রয়েছে খড়িয়ার বন্দর বিটের বনাঞ্চল। চালসা ও মঙ্গলবাড়ি বাজারে জঞ্জাল ফেলা এই বনাঞ্চলের পাশে। মেটেলি এলাকার আবর্জনার ডিপো হয়েছে কুর্তি নদী। এই ভাবেই জঞ্জালের স্তুপে ঢাকা পড়ছে নদী ও বনাঞ্চল। এতেই উদ্বিগ্ন উত্তর বঙ্গের বিশিষ্ট পরিবেশ কর্মী অনিমেশ বসু। তিনি বলেন, নদীর জল মানুষ নানান কাজে ব্যবহার করে। মানুষ সহ পশুপাখিরা পান করে। স্নান করে।  জল দূষণ হলে এরা অসুস্থ হয়ে পড়বে। বিষয়গুলি সবার ভাবা দরকার।

এখনতো অনেক রকম উপায় আছে। সেসব ব্যবহার করলে হয়। জঞ্জালের পুনঃব্যবহার করা যায়। ওদলাবাড়ির পরিবেশ প্রেমী নফসর আলি বলেন, নদীতে জঞ্জাল ফেলা অন্যায়। জল দূষনে মাছ সহ জলজ প্রানী মারা যাবে, মানুষ সহ পশুপাখি যারা পান করবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়বে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। চালসার পরিবেশ প্রেমী মানবেন্দ্র দে সরকার বলেন, বহুবার বিভিন্ন মহলে চিঠি জানান হয়েছে। কিন্তু, ফল হয়নি। বিষয়টি নিয়ে গ্রিন বেঞ্চের হস্তক্ষেপ জরুরি।

এরই মাঝে আশার কথা শোনা গেছে মাল পৌর সভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহার কাছ থেকে। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে জৈব আবর্জনা ব্যবহার করে জৈব সার তৈরি শুরু করেছি। ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য জঞ্জাল পুনঃব্যবহার করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নদীতে কিছু মানুষ জঞ্জাল ফেলে সেসব পরিস্কার করা হবে। এছাড়া অন্যান্য এলাকায় আশার কথা শোনা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই দূষনের বিষয়টি উদ্বেগ জনক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here