এ যুগের সান্তাক্লজ, উনিশ বছর ধরে প্রতিমাসেই অসহায় মানুষদের জন্য নতুন বস্ত্র কিনে বিলোচ্ছেন

0
46

সুশান্ত নন্দী, ইসলামপুর: দীর্ঘ উনিশ বছর ধরে পরিশ্রমের টাকায় অসহায় মানুষদের জন্য পোশাক কিনে চলেছেন তিনি এবং তাদের মধ্যে বিলিয়েও বেড়াচ্ছেন। এটিই তার অন্যতম প্রধান শখ। মাসের প্রথমেই মাইনে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি চলে যান বিভিন্ন বস্ত্র, চাদর-কম্বল কিংবা শীতবস্ত্র কিনতে। এভাবেই পোশাক নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় মানুষদের বিলিয়ে বেড়ান তিনি। যার কথা বলা হচ্ছে তিনি ইসলামপুর শহরের থানা কলোনী এলাকার বাসিন্দা টুকু ব্যানার্জি। আগ ডিমটি খুন্তি অঞ্চলের  একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী।

প্রতি মাসেই চলে তার বস্ত্রদান পর্ব। কিংবা কোনো সংস্থা বা ব্যক্তিগতভাবে কেউ তার কাছে নতুন বস্ত্রর জন্য আবেদন জানালে তা মঞ্জুরও করেন তিনি। তার সাধ্যমতোই কিনে দুঃস্থদের জন্য তাদের হাতে তুলে দেন। ইতিমধ্যেই একাধিক সমাজকল্যাণমূলক সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত বিভিন্ন শিবিরে পৌঁছে তিনি বস্ত্র বিতরণ করেছেন। মঙ্গলবার ইসলামপুর তারাবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় বস্ত্র দানের জন্য তিনি গিয়েছিলেন শীতের চাদর  নিয়ে। সালেহা খাতুন, আয়েশা বেগমদের মতো প্রায় ছাব্বিশ জনকে সেসব তুলে দেন তিনি।

ওই শীত বস্ত্র পেয়ে অসহায় বিধবা মহিলাদের মুখে যখন হাসি ফুটেছে তখন তার মুখেও দেখা গেছে আত্মতৃপ্তির হাসি। তিনি জানান, এভাবেই একটা জীবন কেটে যাবে। শেষ দিন পর্যন্ত এভাবেই তার আয়ের একটা অংশ দিয়ে সমাজের মানুষের জন্য সেবা করতে চান প্রচারবিমুখ এই সমাজকর্মী। এভাবেই নিভৃতে থেকে সমাজের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। থেকে গেছেন অনেকটাই আড়ালে। শুধু সমাজ কল্যাণ মূলক সংস্থার অনুষ্ঠানে বস্ত্র বিতরণ তাও নয়, এমনকি সাহিত্য পাঠের অনুষ্ঠানেও তিনি বস্ত্র দান করেছেন।

তিনি তার মায়ের কাছ থেকেই উদ্দীপিত এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান। ইসলামপুরের বিশিষ্ট কবি নিশিকান্ত সিনহা কিংবা আরো অনেকেই এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেছেন। তার কাছ থেকে নতুন বস্র পেয়ে ইতিমধ্যে কয়েক হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। শখ তো অনেকেরই আছে।কিন্তু তা থেকে এরকম বড় প্রাপ্তি আর কজনের আছে। যে শখ থেকে  অনেক মানুষ উপকৃত হতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here