প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল না সোনালী বসুর ‘দ্য স্কাই ইজ পিঙ্ক’

0
233

পরিচালনা : সোনালী বসু

অভিনয় : প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, ফারহান আখতার, জাইরা ওয়াসিম, রোহিত শ্রফ

রেটিং : ২/৫

দেবলীনা ব্যানার্জী : ২০১৪ সালের ‘মার্গারিটা উইথ এ স্ট্র’ ছবির সুবাদে পরিচালক সোনালী বসুর নাম যেকোনো সিনেপ্রেমীর পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিল।রূঢ় বাস্তব, অক্ষমতার সাথে মজা  এবং যৌনতা নিয়ে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল সে ছবি। দ্য স্কাই ইজ পিঙ্কের ক্ষেত্রেও তেমনই কিছু প্রত্যাশা ছিল। তবে এক্ষেত্রে প্রত্যাশা কেবল হতাশা দিল।যদিও বিষয় থেকে শুরু করে অভিনেতা অভিনেত্রী, সবক্ষেত্রেই উচ্চমাণের বাছাই করেছিলেন পরিচালক। কিন্তু সব থাকা সত্বেও কি যেন অনুপস্থিত সারা ছবি জুড়ে। তাই ছবির শেষে ভগ্নহৃদয়ে বাড়ি ফেরা ছাড়া আর কোনো গতি নেই।

ছবির শুরুতেই ক্রেডিট টাইটেলে বলে দেওয়া হল বাস্তব জীবনকে নিয়ে এখানে গল্প বোনা হয়েছে। আমরাও ছবির শ্যুটিং শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই জেনে ফেলেছিলাম ১৮ বছর বয়সী আয়েশা চৌধুরীর জীবনসংগ্রাম এ গল্পের প্রতিপাদ্য। যে টিনএজার মেয়েটি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও জীবনের সাথে খুনসুটিতে মেতে থাকে। তাই এই অসাধারণ জীবনের গল্প বলতে গেলে অত্যন্ত যত্ন নিতে হবে গল্পকারকে।আসলে এই গল্পের বিষয় সন্তানকে বিরল রোগের সাথে লড়াই করতে দেখা এক দম্পতির জীবন ঘিরে আবর্তিত। প্রিয়তম সন্তানকে জীবন ও মৃত্যুর মাঝে সংগ্রাম করতে দেখেও অসাধারণ সাহস ও নমনীয়তার সাথে দাঁড়িয়ে আছে যারা। এবং এই প্রথমবার নয়, এর আগেও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে তারা নিজেদের প্রথম সন্তানকে নিয়ে।  বলাবাহুল্য গল্পের বিষয় যে হৃদয় স্পর্শ করে যাবে বোঝাই যাচ্ছে। তার সাথে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া,  ফারহান আখতার, জাইরা ওয়াসিমের মত অভিনেতাদের সঙ্গত। কিন্তু কিছুই তেমন দাগ কাটতে পারল না দর্শকমনে।

যদিও  সুন্দর ফার্মহাউসের মতো বাড়িতে বসে অভিনেতা অভিনেত্রীরা যখন আড্ডা দিচ্ছিল, একটা প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।কিন্তু ওখানেই শেষ, পারদ তার শীর্ষমাত্রায় কখনোই পৌঁছাতে পারল না। অদিতি (প্রিয়াঙ্কা চোপড়া) এবং নিরেন (ফারহান আখতার) তাদের কন্যা  আয়েশার (জাইরা ওয়াসিম) হাত ধরে বেদনাকে সঙ্গী করে যে ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হয়েছেন, সেই ট্র‍্যাজেডি দর্শককে ছুঁতে পারল না যোগ্য সংলাপ ও দৃশ্যের অভাবে।

 

ছবিতে আয়েশা উচ্চকিত কণ্ঠে তার বাবা-মার “যৌনজীবন” এবং নিজের অসুস্থতা সহ জটিল পারিবারিক বিষয়গুলো নিয়ে সজোরে কথা বলছে। আর এটাই যেন তার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়েছে। তার লড়াইয়ের শরিক হতে গিয়েও কোথায় যেন বাধা আসছে।আমরা যেখানে দেখছি লন্ডনে অদিতি একা,অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে কঠিন লড়াই চলছে আয়েশার চিকিৎসা নিয়ে।হঠাৎই  নিরেন তাদের বড় ছেলে ঈশান (রোহিত শ্রফ) এর সঙ্গে ফিরে এসেছে।এই দৃশ্যগুলি গভীর আবেগের সঞ্চার করতে পারত, কিন্তু সবকিছুই কেমনযেন আলগা আলগা, অগোছালো।

যদিও অভিনয়ের দিক দিয়ে দেখতে গেলে কোনো খামতি নেই।জাইরা ওয়াসিম দুর্দান্ত, রোহিতও কাঁধে কাঁধ দিয়ে যোগ্য সঙ্গত করেছেন। প্রিয়াঙ্কা ও ফারহানের  রসায়ন চমৎকার।  নিজের সন্তানকে আগলানোর দৃশ্যগুলোতে একেবারে  মাপমত অভিব্যক্তিতে নিজেকে বেঁধেছেন প্রিয়াঙ্কা। তবে তার আবেগের বহিস্ফুরণ এমন পরিস্থিতিতে আরো একটু বেশি হলে তেমন কিছু ক্ষতি হত না। সবমিলিয়ে একটা ভালো বিষয় পেয়েও নির্মাতারা যদি সেটাকে গল্প হিসেবে আরেকটু বিস্তার করতেন,  তাতে আবেগ, সুখ দুঃখের পাঁচমেশালী কিছু মশলা দিতেন তাহলে দ্য স্কাই সত্যিই জীবনের গোলাপি রঙে উজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারত। এ ছবি দেখে মনে হয় ভালো বিষয় ও ভালো অভিনেতাদের পেয়ে চিত্রনাট্য ঠিকমত সাজাতেই যেন ভুলে গেছিলেন নির্মাতারা।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here