সাতসকালে নদীতে উল্টে গেল হাটুয়া বোঝাই ট্রাক, মৃত ১ আহত ১১

0
140

 

মালবাজার: বৃহস্পতিবার সাতসকালে মেটেলি ব্লকের নেওড়া নদীর রেলিং ভেঙে প্রায় ১০০ ফুট নিচে নদীর বুকে আছড়ে পড়লো হাটুয়া বোঝাই একটি ট্রাক। ঘটনায় ১ জন মৃত ও ১১ জন জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতের নাম গৌরিশঙ্কর কামতি (৫১)। বাড়ি মালবাজার শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। বৃহস্পতিবার মেটেলি ব্লকের মঙ্গলবাড়িতে ডুয়ার্সের অন্যতম বড় সাপ্তাহিক হাট বসে। সকাল থেকে হাট জমে ওঠে। সেইজন্য ভোর থেকে হাটের ব্যবসায়ীরা তাদের পসরা সাঁজাতে শুরু করে।

তখন সকাল পোনে ছটা, আকশ লাল করে সুর্য্য উঠছে। ঠিক সেই সময় মালবাজার শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে বেশ কয়েকজন হাট ব্যবসায়ী তাদের পন্য সামগ্রী নিয়ে একটি ট্রাকে বোঝাই করে মঙ্গলবাড়ি হাটের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। ট্রাক চালাচ্ছিলেন গাড়ির মালিক রতন বসাক। মালবাজার থেকে প্রায় ৫ কিমি দূরে নেওড়া নদীর ব্রিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিং ভেঙে প্রায় ১০০ ফুট নিচে প্রচন্ড শব্দ করে   নদীর জলে আছড়ে পড়ে।

 

ট্রাকের উপর থাকা ব্যবসায়ীরা নদীর মধ্যে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনা স্থলের পাশেই রয়েছে ৪৬ নম্বর এস এস বি ক্যাম্প। জোয়ানরা তখন শরীর চর্চা করছিল। শব্দ শুনে জোয়ানরা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। এক এক করে জখমদের উদ্ধার করে তাদের অ্যাম্বুলেন্স করে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাশীষ চক্রবর্তী ও অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা। ছুটে আসে দমকল। সবাই উদ্ধার কার্যে হাত লাগায়।

মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তাররা গৌরিশঙ্কর কামতিকে মৃত বলে ঘোষণা করে। রাজা বসাক ও মহঃ আলম নামের দুই জনের চোট গুরুতর থাকায় তাদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের মাল হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। মাল মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, সকাল পোনে ছটা নাগাদ কোন কারনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের  নিচে পড়ে যায় গাড়িটি। পুলিশ, এস এস বি, দমকল বাহিনী জখমদের উদ্ধার করে মাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেল।

 

শুনেছি একজন মারা গেছে। গাড়িটি উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুপক সিনহা। তিনি বলেন, মৃত ব্যাক্তি আমার ওয়ার্ডের। জখম ৯ জনই এই ওয়ার্ডের। মৃত ব্যাক্তি খুবই গরিব। ৫ টি মেয়ে ও ১ ছেলে বর্তমান। আমরা আলোচনা করে যথা সম্ভব সাহায্য করব। এই ঘটনায় এদিন মালের হাট ব্যাবসায়ীরা হাটে যাননি। ঘটনায় মালবাজার শহরে শোকের ছায়া নেমে আসে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here