মণ্ডপে মণ্ডপে ষষ্ঠী থেকে নবমীর বিকেল মাতালো এলাকার লেখক, শিল্পী ও কলা কুশলীরা

0
107

 

ইসলামপুর: পূজামণ্ডপে ষষ্ঠী থেকে শুরু করে নবমীর বিকেল পর্যন্ত পুজোর আড্ডাকে ঘিরে জমজমাট লেখক, শিল্পী ও কলাকুশলীরা। ইসলামপুরের একাধিক পূজামণ্ডপে এমনই ব্যতিক্রমী পর্ব ছিল দেখার মতন। তবে ষষ্ঠীর দিন রোববারের সাহিত্য আড্ডার আয়োজনে পুজোর বৈঠক কোনও মণ্ডপে না হলেও লেখক ভবেশ দাসের বাড়িতে বসেছিল সেই আড্ডা  আর এরপরই সপ্তমীর বিকেল থেকে নবমীর বিকেল পর্যন্ত এক এক মন্ডপে বসেছিল পুজোর আড্ডা।

 

উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের অন্য কোন জেলায় কিংবা মহকুমায় এধরনের বিশেষ করে পূজাকে কেন্দ্র করে কোনও আড্ডা আদৌ বসেছিল বলে জানা নেই কারও। সপ্তমীর বিকেলে ইসলামপুর আদর্শ সঙ্ঘের পুজো মণ্ডপ প্রাঙ্গনে এলাকার লেখক, শিল্পী ও কলা কুশলীদের নিয়ে বসেছিল এমনই আড্ডা। সেখানে মহকুমার তিনটি ব্লকের থেকে আসা লেখক, শিল্পীরা অংশ নেন। চায়ে চুমুক দিতে দিতে ছড়া, কবিতা, গানে গানে আর নৃত্যের তালে জমজমাট হয়ে ওঠে আড্ডার মেজাজ।

 

ইসলামপুরের সবচেয়ে বিগ বাজেটের তথা বিশ্ব বাংলা সম্মানে সম্মানিত পুজোয় পুজো কমিটির সদস্যদের এই বিষয়ে ভূমিকাও ছিল বেশ স্বস্তস্ফূর্ত।দর্শকরাও বেশ তাড়িয়ে তাড়িয়ে অনুভব করছিল সে মুহূর্ত। আসলে কোনও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও যে এহেন সাহিত্য ও সংস্কৃতির মিশেল পাওয়া দুর্লভ তাইই যেন নীরবে বুঝিয়ে দিলেন তারা। ক্লাবের অন্যতম কর্মকর্তা রাজ সাহানী জানান, এটি তাদের পুজোর জৌলুশকে বাড়িয়েছে। ওই কমিটির উপদেষ্টা প্রদীপ কুন্ডু জানান, তিনি রীতিমতো মুখিয়ে ছিলেন এই ধরণের অনুষ্ঠানের জন্য।

 

অষ্টমীর বিকেল মন্দ্রিত হলো অজস্র শব্দ কথনে।রোববারের সাহিত্য আড্ডার সহযোগিতায় এই পুজোর আড্ডার আয়োজক ইসলামপুরের অফিসার্স এন্ড এমপ্লয়িস রিক্রিয়েশন ক্লাব।ব্যতিক্রমী ভাবে সকল শিল্পী, লেখক ও কলা কুশলীদের পদ্ম ফুল দিয়ে বরণ করে নেন আয়োজকরা। এরপর একের পর এক ছড়া, কবিতা আর গানে গানে আসর এগিয়ে চলে ভিন্ন মেজাজে।অন্যদিকে ইসলামপুর আশ্রমপাড়া দিশারীতে নবমীর বিকেলে বসেছিল পুজোর বৈঠকি আড্ডা। ঢাক বাজিয়ে রীতিমতন  তালে ও ছন্দে শুরু হয় ওই আসর।

 

মঞ্চে প্রথমেই দর্শকদের ইচ্ছে এবং খেয়াল-খুশীকে প্রাধান্য দিয়েই একের পর এক শব্দ, কথা, সুর আর গানে গানে নিজেদের অনুভবকে তুলে ধরেন লেখক শিল্পী ও কলাকুশলীরা। পুজো নিয়ে স্মৃতি কথনে অংশ নেন কবি নিশিকান্ত সিনহা ও বাসুদেব রায়। আসরে বসেছিলেন পুজো কমিটির সভাপতি তথা সংগীতশিল্পী সঞ্জীব বাগচী এবং যন্ত্র সংগীত শিল্পী তথা ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক শঙ্খদীপ বাগচীরাও। এই পর্বকে এগিয়ে নিয়ে যান দর্শকরাই। তাদের উচ্ছ্বাস আর উদ্দীপনায় লেখক শিল্পীরা তাদের পরিবেশনায় উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠেন। এটিও ছিল তাদের  চরম প্রাপ্তি।

 

সঙ্গে ছিল চুয়াত্তরের নৃত্যশিল্পী শিপ্রা রায়ের নৃত্য প্রদর্শনের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পীদেরও  নৃত্য বন্দনা  এই বৈঠকী আড্ডায় বাঙালির বাঙালিয়ানার মেজাজ ছিল একদম ভরপুর। আড্ডা বিকেল গরিয়ে স্পর্শ করে গোধুলিকে। আয়োজকদের তরফে সুশান্ত নন্দী জানান, বেশ কয়েক বছর আগে তাঁর উদ্যোগেই ইসলামপুর একটি ক্লাবে পুজোকে কেন্দ্র করে এহেন আড্ডা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে তা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ে।