বাংলাদেশে মাসে ক্যাসিনো সেলিমের আয় ৯ কোটি টাকা

0
496
হাবিবুর রহমান, ঢাকা: বাংলাদেশের র‌্যাব সদর দফতরের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা সেলিম প্রধান ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে প্রতিমাসে ৯ কোটি টাকা আয় করতেন। মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় এ তথ্য জানান।
সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, প্রাথমিকভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যায় তার গুলশানের বাসায় অনুসন্ধান শুরু করি। অনুসন্ধানে আমরা তার বাসায় বিদেশি ৪৮টি মদের বোতল পেয়েছি। এছাড়া ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ নগদ টাকা জব্দ করা হয়। এর মধ্যে তার এখান থেকে পাওয়া যায় ৮ লাখ টাকা।
এছাড়া তার বনানীর অফিস থেকে ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। সেই সঙ্গে ২৩টি দেশের বৈদেশিক ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা সমমূল্যের মুদ্রা, ১৩ টি ব্যাংকের ৩২টি চেক জব্দ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে জব্দ করা হয়েছে অনলাইন ক্যাসিনো খেলার মূল সার্ভার, আটটি ল্যাপটপ। এছাড়া দুটি হরিণের চামড়া জব্দ করা হয়েছে।
র‌্যাবের এ কর্মকর্তা  বলেন, ১৯৭৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করা সেলিম প্রধান তার ভাইয়ের হাত ধরে ১৯৮৮ সালে জাপান চলে যায়। সেখানে গিয়ে তার ভাইয়ের সঙ্গে গাড়ির ব্যবসা শুরু করে। পরবর্তীতে জাপানিদের সঙ্গে সম্পর্ক হওয়ার পর সেখান থেকে সে থাইল্যান্ডে আসে। সেখানে শিপইয়ার্ড এর একটি ব্যবসা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে জাপানিদের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়।
যার নাম মিস্টার দু। এ মিস্টার দু সেলিমকে বাংলাদেশ একটি কনস্ট্রাকশন সাইট খোলার প্রস্তাব দেয়। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ একটি অনলাইন ক্যাসিনো খেলার পরামর্শ দেয়। সেই সূত্র ধরে সেলিম প্রধান টি-২১ এবং পি২৪ নামে অনলাইন গেমিং সাইট চালু করে। এর মূল কাজ হচ্ছে টাকার মাধ্যমে খেলা।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জব্দকৃত কাগজপত্র ও সার্ভার পর্যালোচনা করে দেখতে পেয়েছি এই অনলাইন খেলার মাধ্যমে তাদের প্রতিমাসে ৯ কোটি টাকা আয় হতো। এসব টাকার অর্ধেক অর্ধেক কোরিয়া ও বাংলাদেশের যারা সম্পৃক্ত তারা পেত।
আমরা সেলিম প্রধানের বাসা থেকে হরিণের চামড়া পাওয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, টাকা জব্দের ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইন ও মদ পাওয়ায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা করা হবে। আর এ সব মামলায় সেলিম প্রধান ও তার দুই সহযোগী আক্তারুজ্জামান ও রহমানকে গ্রেফতার দেখানো হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here