পরিবেশদূষণকারী প্লাস্টিকের জিনিস বর্জন করেই সাজানো হচ্ছে উমার মণ্ডপ

0
1051

কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ : বর্ষার কালো চাদর সরিয়ে পেঁজা তুলোর মেঘে একটু একটু করে ভরে উঠছে শরতের আকাশ। শিল্পীর নিখুঁত রংতুলির টানে সেজে উঠছেন মৃন্ময়ীদেবী। কলকাতার পাশাপাশি জেলার পুজো মণ্ডপ গুলিতেও তাই চরম ব্যস্ততা। চিরাচরিত পুজোর পাশাপাশি এবার থিমের পুজোর বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করতে উদ্যোগী  জেলার পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা৷ রায়গঞ্জের পুজোর মণ্ডপ গুলির মধ্যে অন্যতম অরবিন্দ স্পোর্টিং ক্লাব।

এবার ক্লাবের ৬৪ তম বর্ষে পুজোর থিম “এখনও আঁধারে “। পুজোর থিম জুড়ে ভারতবর্ষের প্রাচীনতম জনজাতি জারোয়া সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতি বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা। বিশ্বায়নের যুগেও যারা নিজেদেরকে সভ্যতার আলো থেকে সরিয়ে রেখে এখনও আঁধারে অবস্থান করছে। তাদের জীবনযাত্রার গল্প ফুটিয়ে  তোলার জন্য পুজো মণ্ডপে রাতদিন এককরে কাজ করে চলছেন মেদিনীপুরের কাঁথির শিল্পীরা।

উউদ্যোক্তারা জানালেন, আমাদের জীবনছন্দের সম্পূর্ন বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করা ভারতের তথা পৃথিবীর এই আদিমতম জনজাতির মানুষের সম্পর্কে ধারনা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।ক্রমশ: লুপ্তপ্রায় এই জনজাতির মানুষগুলো যাতে তাদের  একান্ত নিজস্ব কৃষ্টি  ও সংস্কৃতি নিয়ে জীবন যাপন করতে পারে সে ব্যাপারটা সুনিশ্চিত করা এবং কোনো  বহিরাগতদের আঘাত যেন আমাদের এই সরল মানুষগুলোর ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে।

তার প্রতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই হল এই থিম উপস্থাপনার মূল উদ্দেশ্য। মন্ডপ পরিকল্পনা রুপায়নকারী   শ্যামল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, প্রত্যেক শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পাশাপাশি আমাদের পুজো উদ্যেক্তাদের লক্ষ্য হল এই আদিতম জনজাতি যাতে বিলুপ্ত না হয় সেদিকে আমাদের সদয় দৃষ্টি দেওয়া।সম্প্রতি আমাজনের জঙ্গলের বিরাট অংশ ব্যাপক দাবানলে নষ্ট হয়ে যাওয়াতে এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন, জল সংকট, খরা, বন্যা বাতাসে দুষিত পদার্থের উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে যেখানে সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জনজীবন ক্রমশ: বিপন্ন হতে চলেছে সেই পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে প্ল্যাস্টিক, থার্মোকল ইত্যাদি পরিবেশদূষণকারী জিনিস বর্জন করে বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুজো মন্ডপ।

হোগলাপাতা, শালপাতা, বাঁশ, পাটকাঠি, খেজুরপাতা, বিভিন্ন শুকনো ফলের বাকলা, মাটির প্রদীপ, পাট, খড় ও বেত দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুজো ম ন্ডপ।পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন জিনিস দিয়ে পুজো ম ন্ডপ তৈরি করার মধ্যে দিয়ে সামাজিক ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির বার্তা দিতে চাইছেন পুজো কমিটির সদস্যরা। অরবিন্দ ক্লাবের সম্পাদক সম্রাট বোস জানান, পুজো মন্ডপটি আলো ও আবহের সংমিশ্রনে সেজে উঠবে। কাঁথি থেকে আসা সুদক্ষ শিল্পীরা এবং কুমোরটুলির শিল্পীদের  সুনিপুণ কারুকার্যে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে এবারে পুজো  মন্ডপটি। মন্ডপ শিল্পী অরুপ ধরের নেতৃত্বে গত ১৭ আগস্ট থেকে অরবিন্দ ক্লাব প্রাঙ্গনে দিবা-রাত্রি  মন্ডপ তৈরির কাজ করছেন সহযোগী শিল্পীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here