মরার উপর খাড়ার ঘা, বন্ধ চাবাগানে দলছুট মাকনার উপদ্রবে বিপর্যস্ত

0
94

 

 মালবাজার: একেই বলে মরার উপর খাড়ার ঘা। এমনিতেই চাবাগান বন্ধ রয়েছে ১৩ বছর ধরে। শ্রমিকরা কোনক্রমে বেঁচে আছে। তার উপর সপ্তাহ খানেক ধরে এক দলছুট মাকনা হাতি ঘাঁটি গেড়েছে চাবাগানে। প্রতি রাতে হানা দিচ্ছে শ্রমিক বস্তিতে। ঘরবাড়ি ভেঙে তছনছ করছে। চাল আটা আনাজপাতি সাবার করে চলে যাচ্ছে।মাকনাকে বনে ফেরত পাঠাতে হিমসিম খাচ্ছে বনকর্মীরা। ঘটনাটি ঘটেছে ডুয়ার্সের রেডব্যাংক ও সুরেন্দ্রনগর চাবাগানে। গত কয়েকদিনে ১৯ টি ঘর ভেঙে তছনছ করেছে।

স্থানীয় ও বন দপ্তর সুত্রে জানা গেছে, ওই চাবাগানের শালবনী ডিভিশন লাগোয়া টুকরা ফরেস্টে আশ্রয় নিয়েছে ওই মাকনা। গত ১৩ বছর বাগান বন্ধ থাকায় ওই এলাকা আগাছা জঙ্গলে ভরে গেছে। স্থানীয়রা এটিকে টুকরো ফরেস্ট বলে। বিট অফিসার নারায়ণচন্দ্র সাহা বলেন, ওই জায়গায় লতা গুল্মের অভাব নেই। পাশেই রয়েছে ডায়না নদী। জলের সমস্যা নেই। স্বাভাবিকভাবেই হাতিটি এলাকা ছাড়তে চাইছে না। তবে আমরা লেগে রয়েছি।

জানাগেছে গত শুক্রবার রাতে সুরেন্দ্রনগর চাবাগানে ১০ টি ঘর ভেঙে তছনছ করেছে। গত কয়েকদিনে ১৯টি ঘর ভেঙেছে। হাতির হানায় রাত জেগে কাটাচ্ছেন সোমনাথ কাছুয়া, বিশ্বাসী খাড়িয়া মংরু উরাও মতো শ্রমিকরা। বিশ্বাসী খাড়িয়া বলেন, গতকাল রাতে প্রবল বর্ষন চলছিল। তার মাঝেই হাতি হানা দেয়। পর পর ৪টি বাড়ি ভেঙে তছনছ করে।

ডায়না রেঞ্জের রেঞ্জার শুভেন্দু দাস বলেন, বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছে। হাতিটিকে বনে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করে চলছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতি পূরণ পাবে। রাতে হাতি হানা দেয় আবার ভোরের আলো ফুটলে চলে যায়। এই অবস্থার সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছে ডুয়ার্সের মানুষ। কিন্তু, হাতির ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।