ম্যারাথন বৈঠকে বোনাস নিস্পত্তি হলো না হতাশ চাবাগানের শ্রমিক থেকে ব্যবসায়ী

0
98

মালবাজারঃ গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ২০ ঘন্টার ম্যারাথন বৈঠকে ডুয়ার্সের চা শ্রমিকদের বোনাস নিষ্পত্তি হলো না। এই ঘটনায় হতাশ ডুয়ার্সের কয়েক লক্ষ চা শ্রমিক থেকে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী। সেই সাবেক কাল থেকে ডুয়ার্সের চা শ্রমিক থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ পুজার এই দিন গুলির জন্য সারা বছর অপেক্ষা করে থাকে। চা বাগানে বোনাস হলে ডুয়ার্সের হাটে বাজারে জোয়ার আসে। স্বাভাবিকভাবে বোনাস মিমাংসার এক আলাদা গুরুত্ব আছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কলকাতার বেঙ্গল চেম্বার কমার্স ভবনে দ্বিতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রথম বৈঠক নিস্ফলা ছিল। স্বাভাবিকভাবে চা শ্রমিকরা দ্বিতীয় বৈঠকের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিল। কিন্তু, বোনাস নিস্পত্তি হয়নি। ২০ ঘন্টার বৈঠকে মালিক পক্ষের প্রতিনিধিরা ১৭ শতাংশ হারে বোনাস দিতে রাজি হয়। কিন্তু, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেটা নিতে রাজি হয় নি। বৈঠক নিস্ফলা থেকে যায়।

২০১৮ সালে ১৯. ৫০শতাংশ  হারে, ২০১৭ সালে ১৯.৭৫ শতাংশ এবং তার ৬ বছর ২০ শতাংশ হারে বোনাস পেয়েছিল। স্বাভাবিক ভাবে শ্রমিক সংগঠন গুলির পক্ষে মালিক পক্ষের প্রস্তাব মানা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পরবর্তী বৈঠকের দিন আগামী ২২ সেপ্টেম্বর স্থির হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের আশা ওই দিন নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু, নিষ্পত্তি হওয়ার পর সমস্যা হবে অন্যত্র। নিষ্পত্তি হওয়ার পর চাবাগান গুলির হিসাবপত্র তৈরি করতে এক দুদিন লাগবে। দু একটি চাবাগান ছাড়া বেশিরভাগ চাবাগানে বায়োমেট্রিক সিস্টেম নেই।

সবাইকে নগদ টাকার জোগাড় করতে হবে। পুজার মুখে প্রায়  কয়েকশ কোটি নগদ জোগান দেওয়া সমস্যা জনক হবে বলে অভিঞ্জ মহলের ধারণা। কারণ পুজার মুখে দুদিনের ব্যাংক ধর্মঘট নিয়ে ৫ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। দ্বিতীয়ত, চাবাগানের শ্রমিকরা সারা বছর যা মজুরি পায় তা দিয়ে কোনক্রমে পেটের সংস্থান হয়। পুজার বোনাস হাতে পেয়ে সেই টাকা দিয়ে।

পরিবারের সদস্যদের জামা কাপড়, জুতা এসব কেনাকাটা করে। এই কেনাকাটার জন্য ডুয়ার্সের হাটে বাজারে ছুটির দিনে  আসে।  ২২ তারিখ নিষ্পত্তি হলে হাতে পাবে মাত্র একটা ছুটির দিন। একদিনে পুজার বাজার করা শ্রমিকদের পক্ষে কষ্টকর হবে। পাশাপাশি বোনাসের বাজারের দিকে তাকিয়ে থাকে ডুয়ার্সের কয়েক হাজার ব্যবসায়ী। মাত্র একদিনে তারা কতটুকু ব্যবসা করতে পারবে  সেটা বলাই বাহুল্য। এসব কারনে এবার বোনাস নিয়ে ডুয়ার্সের চা শ্রমিক থেকে ব্যবসায়ীরা হতাশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here