ছেলের তৃতীয় জন্মদিনে মরনোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করলেন বাবা

0
380

দেবলীনা ব্যানার্জী, রায়গঞ্জ : ব্লাড ডোনার অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতা ও উদ্যোগে ছেলের তৃতীয় জন্মদিনে এক অভিনব অঙ্গীকারে আবদ্ধ হলেন বাবা তাপস রজক। ছেলে নৈতিক রায় রজক সবেমাত্র তিনে পা দিয়েছে।বাবা হিসেবে ছেলের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে মরণোত্তর দেহদানের মত মহান কর্মযজ্ঞের শরিক হলেন তাপসবাবু।

যারা মরে গিয়েও অন্যকে বাঁচিয়ে রেখে অন্যের শরীরে বেঁচে থাকতে চান তারাই এই মরণোত্তর অঙ্গদানের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। যদিও এমন মহৎ চিন্তাধারা সবার মধ্যে থাকে না। তবে সময় ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। মানুষ সচেতন হচ্ছে, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিও এই সচেতনতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসছে। এদিন তাপসবাবু রায়গঞ্জের কলেজ পাড়ায় নিজের শ্বশুরবাড়িতে শরীরের সমস্ত অঙ্গই দান করেছেন।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশনের রায়গঞ্জের কো-অর্ডিনেটর ডলি চক্রবর্তী এবং সদস্য শুভ্রজিৎ দত্ত সহ অন্যান্যরা। পেশায় ব্যবসায়ী তাপসবাবুর বাড়ি কোচবিহারের পুন্ডিবাড়িতে। মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার তার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে, আজ তা পূরণ হল ব্লাড ডোনার অর্গানাইজেশন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে।মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করতে পেরে তিনি খুবই খুশি।

এই মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকারে তাঁর স্ত্রী লিয়া রায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।লিয়াদেবী দূর্গাপুর গার্লস স্কুলের শিক্ষিকা,তিনি চাকরি সুত্রে রায়গঞ্জে থাকেন। তাপসবাবু এদিন বলেন, ‘আমার মৃত্যুর পর আমার শরীর উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাজে লাগবে। মেডিকেল কলেজে যদি অঙ্গ প্রতিস্থাপন এবং সংরক্ষণের বিষয়টি চালু হয় তাহলে সমাজ উপকৃত হবে এবং বহু মানুষ তাদের নতুন জীবন ফিরে পাবে।’