খোঁজ মিললেও এখনই কাটছে না আশঙ্কার মেঘ, ইসরোকে এখনও সাড়া দিচ্ছে না “বিক্রম”

0
1396
ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক : চন্দ্রযান ২ এর অরবিটারের পাঠানো থার্মাল ইমেজ অনু্যায়ী চাঁদের বুকে প্রায় অক্ষত অবস্থাতেই নামতে সক্ষম হয়েছে চন্দ্রযান ২-এর ল্যান্ডার বিক্রম। অবতরণের প্রায় শেষ মুহুর্তে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর গ্রাউণ্ড স্টেশনের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেও ল্যান্ডার বিক্রমকে তার অবতরণের পূর্ব নির্দিষ্ট জায়গার মাত্র ৫০০ মিটারের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা মাফিক হয়ত চাঁদের বুকে “সফট” ল্যান্ডিং করতে সমর্থ হয়নি ল্যান্ডার বিক্রম।

নির্দিষ্ট জায়গার পরিবর্তে অন্য সম্ভবত ঢালু কোনও জায়গায় অবতরণের ফলে একটু কাত হয়ে রয়েছে ল্যান্ডার বিক্রম। তাছাড়াও নির্দিষ্ট জায়গায় অবতরণ না করার জন্য চাঁদের পৃষ্ঠে কোনও বাধা তার সামনে চলে আসার কারণে ইসরোর গ্রাউণ্ড স্টেশন থেকে পাঠানো সংকেত গ্রহণ করতে সম্ভবত অসুবিধা হচ্ছে ল্যান্ডার বিক্রমের। সেই কারণেই হয়ত তার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে না ইসরো। এরফলে অক্ষত অবস্থায় থাকলেও বিক্রমের ভেতর থেকে বের করা যাচ্ছে না রোভার প্রজ্ঞানকে।

সোমবার ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর পক্ষ থেকে সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থাকে জানানো হয়েছে যে তারা ল্যান্ডার বিক্রমের সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সব রকম চেষ্টা চালাচ্ছেন। গত ২২শে জুলাই অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় অবস্থিত সতীশ ধবন মহাকাশ কেন্দ্র থেকে জিএসএলভি মার্ক ৩ যানে চড়ে ল্যান্ডার “বিক্রম” এবং রোভার “প্রজ্ঞান”-কে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল চন্দ্রযান ২। প্রায় ২৩ দিন ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে করতে পৃথিবী থেকে একটু একটু করে নিজের দূরত্ব বাড়িয়ে গত ১৪ই আগস্ট পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে বেড়িয়ে গিয়ে চাঁদের দিকে এগিয়ে যায় চন্দ্রযান ২।

গত ২০শে অগাস্টেই চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করে চন্দ্রযান ২। তারপর থেকে পৃথিবী থেকে বেরিয়ে আসার ঠিক উলটো পদ্ধতিতে চাঁদকে প্রদক্ষিণ করতে করতে চাঁদের সাথে তার দূরত্ব কমিয়ে আনে চন্দ্রযান ২। গত ১লা সেপ্টেম্বর ইসরোর পক্ষ থেকে এক ট্যুইট বার্তায় জানানো হয় যে ১লা সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২১মিনিটে চাঁদের পঞ্চম এবং সর্বশেষ কক্ষপথে চন্দ্রযান ২-কে সফলভাবে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছেন তাঁরা।

গত শনিবার ভারতীয় সময় রাত ১:৩০ মিনিট নাগাদ পূর্ব পরিকল্পনা মতোই চন্দ্রযান ২ অরবিটারের থেকে আলাদা হয়ে রোভার প্রজ্ঞানকে নিয়ে চাঁদের বুকে অবতরণ করতে শুরু করে ল্যান্ডার বিক্রম। তখনও পর্যন্ত সবকিছুই ঠিকঠাক চলছিল। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে ২.১ কিলমিটার উপরে থাকাকালীন সময়ে ল্যান্ডার বিক্রমের সাথে হঠাৎই সবরকম যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায় পৃথিবীর বুকে ইসরোর গ্রাউন্ড স্টেশনের। সেই সময় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত ছিলেন না, ল্যান্ডার বিক্রম আদৌ অক্ষত আছে কি না! যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে খুঁজে না পাওয়ার কারণে আশঙ্কা করা হয়েছিল, কক্ষপথ ছেড়ে ছিটকে বেরিয়েও যেতে পারে ল্যান্ডার বিক্রম।

তীরে এসে তরী ডোবার আশঙ্কায় ইসরোর চেয়ারম্যান কে সিবন সহ অনেকেই ভেঙে পড়েছিলেন এই ঘটনায়। এরপর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ল্যান্ডার বিক্রমের খোঁজ শুরু করেন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। যদিও তখনও চন্দ্রযান ২-এর অরবিটার চাঁদকে প্রদক্ষিণ করতে করতে চাঁদের বিভিন্ন ছবি পাঠাচ্ছিল ইসরোর গ্রাউন্ড স্টেশনে। রবিবার সকালে চন্দ্রযান ২-এর অরবিটারের পাঠানো থার্মাল ইমেজেই প্রথম খোঁজ পাওয়া যায় চাঁদের মাটিতে অবতীর্ণ হওয়া ল্যান্ডার বিক্রমের! হারিয়ে যাওয়ার ৩৬ ঘন্টার মধ্যেই অক্ষত অবস্থায় ল্যান্ডার বিক্রমকে খুঁজে পাওয়ার এই ঘটনা নতুন করে উজ্জীবিত করে ইসরোকে৷ যদিও খুঁজে পাওয়া গেলেও ল্যান্ডার বিক্রমের সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন এখনও পর্যন্ত সম্ভব হয়নি ইসরো।

জানা গিয়েছে, ল্যান্ডার বিক্রমের সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে ইসরো। তবে, চাঁদের বুকে “সফট” ল্যান্ডিং করতে না পারার জন্য ল্যান্ডার বিক্রম যদি চাঁদের মাটিতে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে, তাহলে তাকে পুনরায় সক্রিয় করতে অনেক কসরত করতে হতে পারে ইসরোর বিজ্ঞানীদের। এছাড়াও চেষ্টা করেও আদৌ ল্যান্ডার বিক্রমকে সক্রিয় করা যাবে কিনা রইয়েছে সেই আশঙ্কাও এবং সেই কারণে ল্যান্ডার বিক্রমের পেট থেকে রোভার প্রজ্ঞানের বেড়িয়ে আসার ক্ষেত্রেও রয়েছে অনিশ্চয়তা৷ তাই আপাতত বিক্রমের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করাই বর্তমানে প্রথম এবং মূল লক্ষ্য ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here