বাংলাদেশে ৭ মাসে বজ্রপাতে ২৪৬ জনের মৃত্যু

0
211
হাবিবুর রহমান, ঢাকা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতে ২৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ সাত মাসে বজ্রাঘাতে আহত হয়েছেন ৯৭ জন। নিহতদের মধ্যে ৩০ জন নারী, ৬ জন শিশু, ৮ জন কিশোর-কিশোরী রয়েছে। রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টনের রিসোর্সফুল পল্টন সিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম নামক একটি সংগঠন এ তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ এবং ১ জন নারী। এ মাসে আহত হয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪, নারী ২ এবং কিশোর কিশোরী ২ জন।মার্চ মাসে নিহত হয়েছেন ৫ জন। এর মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ২ জন শিশু। আহত হয়েছেন ৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ জন এবং শিশু ২ জন। এপ্রিলে ২০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ১ জন কিশোর-কিশোরী। এ মাসে আহত হয়েছেন ৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭ জন এবং নারী ১ জন।
মে মাসে নিহত হয়েছেন ৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৮ জন, নারী ৮ জন, শিশু ১ জন এবং কিশোর-কিশোরী ৩ জন। আহত হয়েছেন ২৪ জন। তার মধ্যে পুরুষ ১৫ জন, নারী ৭ জন ও শিশু ২ জন। জুন মাসে নিহত হয়েছেন ৬৬ জন। এর মধ্যে নারী ১১ জন, শিশু ৩ জন, কিশোর-কিশোরী ২ জন এবং ৫০ জন পুরুষ। এ মাসে আহত হয়েছেন ১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন, নারী ২ জন, শিশু ৩ জন এবং কিশোর-কিশোরী ১ জন। জুলাই মাসে নিহত হয়েছেন ৪৭ জন।
এর মধ্যে নারী ৪ জন এবং ৪৩ জনই পুরুষ। আহত হয়েছেন ২৫ জন। এর মধ্যে ২ জন নারী এবং ২৩ জনই পুরুষ রয়েছে। এছাড়া আগস্ট মাসে বজ্রপাতে মোট ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন নারী, ২ জন কিশোর-কিশোরী ও ৩১ জন পুরুষ রয়েছে। এছাড়া এ মাসে আহত হয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী, ১ জন শিশু ও ১ জন কিশোর কিশোরী রয়েছে।
আয়োজকরা জানান, এ বছর সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে সাতক্ষীরা জেলায়। এ জেলায় চলতি বছর ২২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কিশোরগঞ্জ, পাবনা, সুনামগঞ্জ, কক্সবাজার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলায় বজ্রপাতে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এরপর বেশি নিহত হয়েছে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় মাছ ধরতে গিয়ে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে মাঠে গরু আনতে গিয়ে এবং টিন ও খড়ের ঘরে অবস্থান ও ঘুমানোর সময় বজ্রাঘাতে বেশি মানুষ মারা গেছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় অজ্ঞতাবসত লম্বা গাছের নিচে আশ্রয় নেয়ায় গাছে বজ্রপাত হওয়ায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের জাতীয় এবং আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের স্ক্রল থেকে বজ্রপাতে হতাহতের সকল তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নির্বাহী সদস্য মাসুদ রানার সঞ্চালনায় প্রতিবেদন পাঠ করেন সংগঠনের সেক্রেটারি রাশিম মোল্লা। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের গবেষণা সেলপ্রাধান আব্দুল আলীম, সহ-সভাপতি সোহেল রানা, তিতুমীর কলেজ ইউনিট সদস্য হাসনাইন আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কলেজের সদস্য জুবাইর হুসাইন প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here