অসমের মেখলা তৈরি হচ্ছে বাংলার প্রত্যন্ত্য গ্রামে

0
126
সুশান্ত নন্দী, ইসলামপুর: শিল্পের মাধ্যমেও যে দুই রাজ্যের মধ্যে মেল বন্ধন ঘটানো যায় তা প্রমাণ করলো এক দঙ্গল তরুণ কারিগর। অসমের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মেলবন্ধন ঘটাতে উদ্যোগী হল উত্তর দিনাজপুর জেলার গোয়ালপোখর ব্লকের একদল যুবক। অসমের ঐতিয্যবাহী মেখলা শিল্পকে এলাকায় নিয়ে এসে একাধারে যেমন বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কাজের জন্য ভিন রাজ্যে যাওয়ার প্রথাকে বন্ধ করতে এগিয়ে এসেছেন তারা। এলাকায় মেখলা শিল্পকে কুটির শিল্পের অন্যতম জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে এই যুবকদল।
তাদের এই ঐকান্তিক প্রয়াসকে প্রশংসা না করে এড়িয়ে যেতে পারেনি প্রশাসনও। প্রয়োজন পড়লে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে প্রশাসন। একসময়ে কাজের সন্ধানে গুজরাটের সুরাট, কলকাতা, নাগপুর চলে গিয়েছিল মহ: বসির, শেখ আজহার, মহ: খুদাবক্সরা। সেখানে গিয়েই অসমের বিখ্যাত মহিলাদের পরনের মেখলা তৈরি করার পদ্ধতি রপ্ত করেন তারা। দীর্ঘদিন ভিনরাজ্যে কাজ করার পর পরিবারের টানে ফিরে আসেন এলাকায়।
সেখানেই নিজেদের শিখে আসা মেখলা তৈরির শিল্পকে কাজে লাগানোর কথা মাথায় এনে একে একে একাধিক কারখানা গড়ে তোলেন তারা। অন্য রাজ্যে থাকা এই শিল্পে এলাকার দক্ষ যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গোয়ালপোখরে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন তারা। তারপরই একে একে তাদের তৈরি করা মেখলার চাহিদা তুঙ্গে পৌছায়। বর্তমানে এক একটি কারখানা থেকে মাসে ১২০০-১৫০০ মেখলা বানাতে সক্ষম এই যুবকেরা অসম, পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ডার পাচ্ছেন।
ওই যুবকরা দাবি করেন বাইরে গিয়ে কাজ করার চেয়ে বাড়িতে থেকে কাজ করায় অনেকটাই সুবিধা হচ্ছে তাদের। বাড়ির মহিলারও এই কাজে হাত বাড়িয়েছেন। ফলে কিছুটা হলেও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে যুবকেরা। এই কুটির শিল্প প্রশাসনের নজরে আসতেই সাধ্য অনুযায়ী সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। স্বভাবতই কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কুটির শিল্পের নতুন দিশা দেখাচ্ছে গোয়ালপোখরের যুবকেরা। একে একে যখন বিভিন্ন কুটির শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রাজ্য জুড়ে তখন গোয়াল পোখরের তরুণরা যেন কর্ম সংস্থানের এক নতুন দিশা দেখালেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here