INX মিডিয়া মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম, INX মিডিয়া মামলা আসলে কি?

0
1193
ফাইল ছবি

কৌশিক চট্টোপাধ্যায় : বুধবার রাতে সম্পূর্ণ নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। প্রায় ২৭ ঘণ্টা আত্মগোপন করে থাকার পরে সাংবাদিকদের সামনে আসেন ভারতের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোশ প্রমান করতে চাইলেও শেষ রক্ষা হলোনা। সেখানেও পৌঁছে যায় সিবি আই আদিকারিকেরা। কিন্তু তার আগেই দিল্লির কংগ্রেস পার্টি অফিস থেকে বেড়িয়ে যান তিনি। সিবিআই আধিকারিকেরা এসে পৌঁছান প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর বাস ভবনে ।সেখানে গেট বন্ধ থাকায় অবশেষে পাঁচিল টপকে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীর বাড়িতে প্রবেশ করেন তারা। তার পরেই INX মিডিয়া সম্পর্কিত দুর্নীতি মামলার অভিযোগে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে  গ্রেফতার করেন সিবিআই আধিকারিকেরা ।  

এর আগে এই একই মামলায় তাঁর ছেলে কার্তি চিদাম্বরমকে ২৩ দিনের জন্য কারাবাস করতে হয় এবং পরে দিল্লি হাইকোর্ট তাকে জামিনে মুক্তি দেয়। এরআগে মিডিয়া ব্যবসায়ী পিটার মুখোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রাণী মুখোপাধ্যায়ের মতো কারাবন্দি উচ্চ প্রোফাইলের লোকদের নাম উঠে এসেছে এই মামলায় । বর্তমানে দুজনই শীনা বোরা হত্যাকাণ্ডের জন্য জেলে আছেন। শীনা বোরা ছিলেন ইন্দ্রাণী এবং তার প্রথম স্বামীর কন্যা। ইডি-কে দেওয়া ইন্দ্রাণীর বক্তব্যের ভিত্তিতেই সেই সময় গ্রেফতার কার হয়েছিল কার্তিকে। তিনি জানিয়েছিলেন, এফআইপীবী ছাড়পত্র লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়টি রফাদফা করার জন্য এই দম্পতি কার্তি-র $ 10 মিলিয়ন ডলারের দাবি মেনে নিয়েছিলেন। ইন্দ্রাণী ছিলেন সেই INX মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের প্রাক্তন পরিচালক।

১১ ই জুলাই সিবিআই মামলায় ইন্দ্রাণী স্বীকারোক্তিমূলক সাক্ষী হয়েছিলেন। আইএনএক্স মিডিয়া প্রাপ্ত অর্থের বিদেশি বিনিয়োগ প্রচার বোর্ডের (এফআইপিবি) অবৈধ অধিগ্রহণের প্রসঙ্গে ২০০৭ সালে পিটার  মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রাণীর নাম উঠে আসে।

গত ২৩ শে মার্চ, ২০১৮ তে দিল্লি হাইকোর্ট তামিলনাড়ুর শিবাগঙ্গার সংসদ সদস্য কার্তিকে জামিন দেয়। ২০০৭ সালে মিডিয়া গ্রুপকে ৩০৫ কোটি টাকার বৈদেশিক বিনিয়োগ সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশে অবৈধভাবে এফআইপিবি ছাড়পত্র দেওয়ার অভিযোগ তুলে সিবিআই ২০০৭ সালের ১৫ ই মে একটি এফআইআর নথিভুক্ত করে। তখন চিদাম্বরম ছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

অভিযোগ, সেই সময় এফইপিবি-এর মাথায় বসে তিনি INX কে বেআইনি কাজকর্ম করতে দিয়েছিলেন। আইএনএক্স মালকিন ইন্দ্রানী মুখার্জি সিবিআই জেরার মুখে স্বীকার করেছিলেন , ২০০৮ সালে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তিনি আইএনএক্স মিডিয়ার জন্য যাবতীয় ডিল খুব সহজে করতে পেরেছিলেন। সিবিআই অভিযোগ জানিয়েছে, চিদম্বরম আইএনএক্সকে এফডিআই-এর জন্য পুনরায় আবেদন করতে বলেছিলেন।

চিদম্বরাম পুত্র কার্তি পুরো বিষয়টি নিয়ে সেইসময়ে আইএনএক্স-কে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। তিনি অর্থমন্ত্রক এবং আইএনএক্স-এর মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন। কার্তির কোম্পানি, চেস ম্যানেজমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডর দ্বারস্থ হন ইন্দ্রানী মুখার্জি। তদন্তে সিবিআই জানতে পারে ইন্দ্রানী কার্টিকে এক মিলিয়ন ডলার দেবে বলে চুক্তি করেছিল। সিবিআই আরও অভিযোগ করে, পুরো লেনদেনে তৎকালীন অর্থ মন্ত্রী চিদম্বরাম কেও ‘পার্টি’ করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here