বিয়েতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকের বাড়ির সামনে ধর্ণায় প্রেমিকা

0
1246

ইসলামপুর: প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে ধর্নায় বসলো প্রেমিকা। চোপড়া ব্লকের মাঝিয়ালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে রীতিমতো শোরগোল। দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রেম ভালোবাসার নিবিড় সম্পর্ক ছিল তাদের মধ্যে। শুধু  তাইই নয়, এই সম্পর্কের জেরে বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া এবং সহবাস হলেও প্রেমিক সহ তার পরিবারের সদস্যরা বিয়েতে রাজি নয়। আর তাই এই ধর্ণায় শামিল প্রেমিকা আফিমা খাতুন।

এদিকে বিষয়টি মেনে নিতে না পারার জেরে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা ছেলের বাবা মোহাম্মদ আব্দুলের। এর জেরে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভর্তি করা হয় চোপড়ার দলুয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। প্রেমিকা আফিমা খাতুন জানান, যাদের এই সম্পর্কের দু বছর পেরিয়ে গেছে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও বিয়েতে তথা সম্পর্ক রাখতে এখন অস্বীকার করছে তার প্রেমিক মনজর আলমও তার পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য সালিশি সভা হলেও আদৌ সমস্যার সমাধান হয়নি।

এমনকি সে ছেলেটির বাড়িতে অর্থাৎ প্রেমিকের বাড়িতে গেলেও প্রেমিকের পরিবারের লোকজন তাকে রীতিমতো মারধর করে এবং লঙ্কা মেশানো জল গায়ে ছিটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর সে ধর্নায় বসলেও তার প্রেমিকের বাড়ির লোকজন সেখানে আসেন নি। তবে এই  ধর্ণা লাগাতার চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রেমিকা। প্রেমিকের মা আলিমান বেগম জানান, মিথ্যা মামলায় তার ছেলেকে ফাঁসানো হচ্ছে। ওই মেয়ের সঙ্গে তার ছেলের কোনো সম্পর্ক নেই। গ্রামের সমস্ত লোক মিলে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ তার।

তৃণমূল কংগ্রেসের ওই অঞ্চলের কোর কমিটির চেয়ারম্যান একরামুল হক বলেন, সব দলের লোক মিলে এবং তিন-চারটি টি গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয়ে সালিশি সভায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে ছেলেটিকে বিয়ে করতে হবে। কিন্তু এই ধরনের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সইদুল রহমান বলেন, প্রথমে মেয়েটিকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল। পঞ্চায়েতের বৈঠকে তাতে লাভ হয়নি। তবে  ছেলেটিই দোষী।

তবুও দুই পক্ষের দশ জন মিলে মিলিয়ে দেওয়ার একটা চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এখন ছেলেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মাঝিয়ালী গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ সিংহ জানান, এ বিষয়ে এর আগে একবার বসা হয়েছিল কিন্তু এদিন কি হয়েছে তা সঠিক জানা নেই। তবে সামগ্রিক বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here