উড়ন্ত চাকি অথচ ইউএফও নয়, শনাক্ত করা গেলো এই ফ্লাইং অবজেক্টের আইডেন্টিটি

0
524

শৌভিক দাস : উড়ন্ত চাকি বা ফ্লাইং স্যসার নিয়ে মানুষের আগ্রহ বহুদিনের। পৃথিবীতে বহু মানুষ আছেন যারা উড়ন্ত চাকি দেখার দাবি করেন। ইন্টারনেট ঘাঁটলেও পাওয়া যায় উড়ন্ত চাকির ছবি এমনকি নানা ভিডিও। যদিও বিশেষজ্ঞদের মতে সেগুলোর বেশিরভাগই ফেক বা জাল। অন্যদিকে যারা উড়ন্ত চাকি দেখার দাবি করেন তাদের মধ্যেও রয়েছে নানা রকমের বিভ্রান্তি। তবে জাল বা মানুষের বিভ্রান্তির ঘটনাগুলো বাদ দিলেও উড়ন্ত চাকির এমন কিছু কিছু ঘটনা বা ছবি আছে যা ভ্রান্ত বা জাল নয়। সেইসব ঘটনার ব্যাখ্যা আজও মানুষের অজানা। গ্রহান্তরে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আবার ছবিতে বা বিভিন্ন মানুষের বর্ণনায় ধরা পড়া উড়ন্ত চাকিগুলোও মানুষের বানানো নয়, তবে সেগুলো কী? কোথা থেকেই বা আসে সেগুলো? রয়েছে আরও নানা প্রশ্ন। উত্তর না পেয়ে মানুষ তাদের নাম দিয়েছে “ইউএফও” বা আনআইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট। অজ্ঞানতার কারণে শুরু থেকেই উড়ন্ত চাকি মানুষের ভয় এবং একইসাথে কৌতুহলের বিষয়বস্তু হয়ে আছে।

সম্প্রতি আবার আকাশে দেখা গেছে এক উড়ন্ত চাকি। তবে না, সেটা কিন্তু ইউএফও ছিল না। উড়ন্ত চাকি অথচ ইউএফও নয় এটাও আবার হয় নাকি? অবশ্যই হয় কারণ উল্লেখিত এই উড়ন্ত চাকিটি কিন্তু ছিল পৃথিবীর মানুষের তৈরি। রজভান সাবি এবং লোসিফ তাপোসু নামের দুই রোমানিয়ান বিজ্ঞানীর হাতে তৈরি এই উড়ন্ত চাকিটি দেখতে অনেকাংশেই আমাদের ছবিতে; ভিডিও বা সিনেমায় দেখা উড়ন্ত চাকির মতই। এবং তার ওড়ার ধরনটাও অনেকটাই এক। রোমানিয়ান বিজ্ঞানীদ্বয়ের তৈরি এই উড়ন্ত চাকিটির ডাইনে-বাঁয়ে; সামনে-পিছনে যেকোনো দিকেই অবাধ গতি। আর তাই এই উড়ন্ত চাকিটির নামকরণ করা হয়েছে “এডিআইএফও” বলে। যার অর্থ, অল ডাইরেকশনাল ফ্লাইং অবজেক্ট। গত মার্চ মাসে উড়ন্ত এডিআইএফও-র একটি ভিডিও প্রকাশ করেন রজভান সাবি এবং লোসিফ তাপোসু। তার সাথে সাথে তারা সকলের সামনে উন্মোচন করেন এর পেছনের প্রকৌশলের খুঁটিনাটি।

দুই দশকের বেশি সময়ের গবেষণার ফল এই এডিআইএফও। এই প্রসঙ্গে বিজ্ঞানী রজভান বলেন, শত শত কাগজে বহু হিসাবনিকাশ, কম্পিউটার সিমুলেশন, উইন্ড টানেলের পরীক্ষানিরীক্ষার পর এই উড়ন্ত চাকিটি আমরা তৈরি করতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, অদ্ভুদ দর্শন এই উড়ুক্কু যন্ত্রটির বায়ুগতিবিদ্যা বা এরোডাইনামিক্স নিয়ে গবেষণা করতেই তাদের কুড়ি বছরের বেশি সময় লেগেছে। প্রকাশিত ভিডিওটিতে যে “এডিআইএফও”টিকে আকাশে উড়তে দেখা গেছে সেটি আসলে এর একটি প্রটোটাইপ বা প্রাথমিক সংস্করণ। একেবারে নতুন প্রযুক্তিতে তৈরি এডিআইএফও-র এই প্রটোটাইপকে রজভান হিমশৈলর চূড়ার সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন ভবিষ্যতে এই যানটির আরও অনেক প্রযুক্তিগত উন্নতি সাধন করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন ভবিষ্যতে এই যানটিতে ফ্যানের পরিবর্তে জেট ইঞ্জিন লাগানো হবে। পরবর্তীতে আরও জটিল কম্পিউটার সিমুলেশন এবং উইন্ড টানেলে পরীক্ষানীরিক্ষার মাধ্যমে তারা এডিআইএফওকে ট্রান্সসনিক এবং সুপারসনিক গতিতে চলার জন্য উন্নিত করার চেষ্টা করবেন।

গঠনগত কারণে এই যানটির বিশেষ কতগুলো সুবিধা আছে। দামের দিকে তুলনামূলক সস্তা, তৈরি এবং উড়ানের ক্ষেত্রে সহজসাধ্য বৈশিষ্ট্যযুক্ত সম্ভাবনাময় এই বিশেষ বিমানটিকে ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত বিমান হিসেবে এবং তাছাড়াও উড়ন্ত চাকির মত দেখতে এই বিমানটিকে “ইউএভি” (আনম্যানড এরিয়াল ভেইক্যেল); “ইউসিএভি” (আনম্যানড কমব্যাট এরিয়াল ভেইক্যেল) এবং যুদ্ধ বিমান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here