বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে রায়গঞ্জে বিক্ষোভ, কি বললেন দপ্তরের মন্ত্রী ?

0
1307

রায়গঞ্জ : শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ মিছিলের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে রায়গঞ্জ নোডাল অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন বৃত্তিমূলক শিক্ষক শিক্ষিকারা। বুধবার উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের রায়গঞ্জ নোডাল সেন্টারে সমবেত হয়ে শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে শ্লোগান দেন তারা। বৃত্তিমূলক শিক্ষকদের তরফে প্রদীপ কুমার রায় বলেন, বহু দিন ধরে বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থাকে অবহেলার চোখে দেখা হইয়ে আসছে অথচ এই শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যদিয়ে প্রচুর ছাত্রছাত্রীরা বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে অথচ এই শিক্ষাব্যবস্থা প্রথম থেকেই চূড়ান্ত অবহেলার শিকার। প্রদীপ বাবু আরও বলেন, সামান্য বেতনে দীর্ঘদিন কাজ করে চলছেন বৃত্তিমূলক বিভাগের শিক্ষকরা। সরকারি সুবিধাপ্রাপ্ত অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রগুলোতে বেতন বৃদ্ধি হলেও ভোকেশনাল শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে সরকার খুব উদাসীন। অথচ এই উদাসীনতার প্রতিবাদে শিক্ষকরা যখন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ভাবে আন্দোলন করছেন তখন পুলিশ দিয়ে সেই আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভোকেশনালের নোডাল কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মানব কুমার দাস জানালেন, শিক্ষকদের পাশাপাশি নোডাল কর্মীরাও বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। মঙ্গলবার সেই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হচ্ছে। নোডাল কর্মচারীরাও এই আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার তাদের দাবি মেনে না নিচ্ছেন ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ এই আন্দোলন থেকে পিছু হঠবে না। শিলিগুড়িতে আন্দোলনরত শিক্ষক নেতা দিলওয়ার হোসেন জানালেন, শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন তুলে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের একটা চাপ রয়েছে তা সত্বেও গতকাল থেকে ২৪ ঘন্টার অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা এবং নোডাল কর্মীরা। রাতেও ধর্ণা কর্মসূচি চলছে। ইতিমধ্যে দক্ষিণবঙ্গ থেকেও প্রচুর শিক্ষক,শিক্ষিকারা যোগাযোগ করেছেন। তাদের একটা বিরাট অংশ এই আন্দোলনে সামিল হওয়ার কথা ভাবছেন। সরকার দাবি না মানলে আমৃত্যু অনশণের পথে নামতে চলেছেন বিক্ষোভকারী শিক্ষক,শিক্ষিকা ও নোডাল কর্মীরা।

অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু শিক্ষকদের এই আন্দোলন সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, বাম আমলের চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং দূর্নীতির মধ্যদিয়ে সারা রাজ্যে এই শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। তাদের সরকার আসার পরে ভোকেশনাল শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার অনেক উন্নতি করা হয়েছে অথচ গোটা ব্যাপারটাকে গুলিয়ে দেওয়ার জন্যই আন্দোলনে নেমেছে এই শিক্ষকদের একাংশ। এই ব্যবস্থায় পার্টটাইম টিচারদের দুটো স্কুলে কাজ করার সূযোগ করে দিয়েছে সরকার ফলে আংশিক সময়ের শিক্ষকদের বেশকিছুটা বেতন বৃদ্ধি হয়েছে কিন্তু সেটা সামনে না এনে শুধুমাত্র সংগঠন তৈরি করার জন্য বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করে গোটা ব্যাপারটা গুলিয়ে দিতে চাইছে সংগঠনের নেতারা৷ ইতিমধ্যেই শিক্ষক ছুটি ব্যাপারে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে,মাস পহেলা বেতন দেওয়া হচ্ছে, স্বাস্থ্য সাথী সহ অনেক গুলোই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো সামনে আনা হচ্ছেনা। তিনি আরো জানান, বাম আমলের দূর্নীতির ফলে যেসব অব্যবস্থা তৈরি হয়েছে সেগুলো আগে ঠিক করা হবে তারপরে বাকি বিষয় গুলি খতিয়ে দেখা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here