ডুয়ার্সে বৃষ্টি, ধস ও জলমগ্নতা অব্যাহত, ব্যহত রেল চলাচল

0
130
মালবাজার : টানা ৭ দিন ধরে চলছে বৃষ্টি। কখনো প্রবল ধারায় আবার কখনও হালকা। সূর্যের দেখা নেই। প্রবল বর্ষণে একদিকে যেমন ভুমি ধস চলছে। অন্যদিকে নদী ভাঙ্গনে জলমগ্ন হয়েছে একাধিক গ্রাম বৃহস্পতিবার দিনভর বৃষ্টির পর রাতে  রেহাই দিয়েছিল। ভোর ৩ টা থেকে আবার শুরু হয় প্রবল বর্ষণ। সেই প্রবল বর্ষণ চলে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। সেই বর্ষণে প্রতিটি নদী ঝোরা ফুলেফেঁপে উঠছে। চলছে নদী ভাঙন। লিস নদীর প্রবল জলস্রোত বৃহস্পতিবার সকালে প্রায় ১০০ মিটারের বাঁধ ভেঙে প্লাবিত করেছিল।
শুক্রবার সকালের বৃষ্টিতে সেই বাধের আরও খানিক অংশ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়। সাওগা বস্তির বেশ কয়েকটি পানীয়জলের কল জলেমগ্ন হয়ে যায়।  অনেক বাড়িতে জল ঢুকে জলমগ্ন হয়ে যায়। বিঘা পর বিঘা আবাদি জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা কিশোর শেরপা বলেন, গত বছর পঞ্চায়েত বাধের কাজ ঠিক মতো করে নি। তাই জলের ধাক্কায় ধুয়েমুছে সাফ। পানীয় জলের কল গুলি তলিয়ে যাওয়াতে পানীয় জলের সংকট হবে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
লিস নদীর জলস্ফীতিতে চুনাভাটি এলাকার সেচ দপ্তরের বাধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে। জল বেড়ে যায় চেল, নেওরা, জলঢাকা সহ অন্যান্য নদীতে। নাগরাকাটা ব্লকের গাঠিয়া নদীর জলচ্ছাসে রাস্তা ভেঙে যায়। আন্দাঝোড়ার জলস্রোতে ভাঙতে ভাঙতে  ডুয়ার্স থেকে শিলিগুড়ি গামী বিকল্প সরকের কাছ দিয়ে বইতে শুরু করেছে। নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে মাল ব্লকের কুমলাই ও চেল নদীর। স্থানীয় বাসিন্দা বিজেপির মাল বিধানসভা কেন্দ্রের সম্প্রচারক মংগল উরাও বলেন, গত দুইদিন থেকে ভাঙন চলছে। আবাদি জমি চাবাগান নদীর গ্রাসে চলে গেছে। অনেক আবাদিজমি জলের তলায়।
প্রবলবর্ষনে নাগরাকাটা বাজারের কিছু অংশ জলে মগ্ন হয়ে যার। জলমগ্নতা নদী ভাঙনের পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় ভুমি ধস শুরু হয়েছে। কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের মিশনহিল গামী রাস্তা ধসে গেছে। ভুমি ধসে রাস্তা ফেটে চৌচির হয়ে গেছে নাগরাকাটার লালঝামেলা বস্তিতে। সেভক পাহাড়ে ধস অব্যাহত রয়েছে। ডুয়ার্সের যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও সিকিম ও কালিংপং গামী সড়ক বিকাল পর্যন্ত অবরুদ্ধ ছিল। তবে বিপর্যয়ের মধ্যে আশা দেখায় রেল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার রেল চলাচল বন্ধ থাকলেও শুক্রবার দুপুরের পর রেল চলাচল শুরু হয়। সামগ্রিক ভাবে দুপুরের পর বৃষ্টি থেমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here