দুষ্টুমি আর সুরের জাদুতে সকলের মন জয় করেছে চার বছরের মিষ্টি অলি

0
792

দেবলীনা ব্যানার্জী,  রায়গঞ্জ : কখনও সে হাসছে, কখনও আবার দৌড়ে বেড়াচ্ছে, একজায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তো দূরের কথা, হুটোপুটিতে কানের হেডফোনটা মাঝেমাঝেই খুলে পড়ছে যখন  জিভ বের করে দুষ্টু একটা হাসিতেই ম্যানেজ করছে সে। তার এই দুষ্টুমিতেই আপাতত কুপোকাত নেটিজেনেরা। তবে দৌরাত্ম্য যতই থাক, ছোট্ট অলি গুনগুন  করে যে গানটি গেয়ে ফেলেছে সেটি যেমন তেমন কোনো গান নয়, অরিজিৎ সিংয়ের গাওয়া ‘সাংহাই’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘দুয়া’।

বিশাল শেখরের মত সঙ্গীত পরিচালকের কম্পোজ করা এই গানটি গাওয়া মুখের কথা নয়। চার বছরের অলি সেই গানটি যেভাবে গেয়েছে তা শুনলে অবাক হয়ে যেতে হয়। গানের কথা তার যে একেবারেই বোধগম্য হচ্ছে না, ভিডিও তে তা স্পষ্ট। কিন্তু সুর তাল একটুও ভুল না করে  চমৎকার ভাবে গোটা গানটিই মুখস্থ গেয়ে দিল সে। শক্ত শক্ত কথাগুলি তার কচি কচি আওয়াজে কানে যেন মধু বর্ষণ করে। স্টুডিওয় তার চেয়ে বড়ো আকারের সব সরঞ্জামের মাঝে সে যেন খানিকটা বিরক্ত।

কেনো তাকে এভাবে এখানে আটকে রাখা হয়েছে কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না অলির। তার হুটোপুটি, ভাবভঙ্গি খুব সুন্দর ভাবে ভিডিওয় তুলে ধরা হয়েছে।  ইতিমধ্যেই ফেসবুক,  ইউ টিউবের মত সোশ্যাল সাইটে কয়েক লক্ষ লাইক শেয়ারের বন্যা নেমে এসেছে অলির গানে। যদিও এটাই প্রথম নয়, এর আগেও বেশ কয়েকটি গান রেকর্ডিং হয়েছে ছোট্ট অলির গলায়। অলির গাওয়া প্রথম গানটি ছিল ‘ পাপা মেরে পাপা’।

তারপর ‘থ্রি ইডিয়টস’ এর  ‘গিভ মি সাম সানসাইন’, ‘কবীর সিং’ এর ‘ তুঝে কিতনা চাহনে লাগে’ প্রত্যেকটিতেই মিষ্টি গলার পাশাপাশি দুষ্টুমিতে মাত করেছে সে। কখনো গান গাইতে গাইতে বলে উঠেছে ‘জল খাব’, আবার কখনো গান থামিয়ে ‘আর পারছি  না’ বলে দাঁড়িয়ে পড়েছে। যাই করুক না কেনো তার মিষ্টি গলা আর তারথেকেও বেশি মিষ্টি ভাবভঙ্গি মন জয় করেছে সকলের। সকলের মতেই আজকের বছর চারেকের গায়িকা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতে নামকরা শিল্পী হবে।

রায়গঞ্জের তুলসীপাড়ার এই ক্ষুদের গানের গুরু কিন্তু তার মা। কথা বলতে শেখার সময় থেকেই মা আলভার গান শুনে শুনে গাইত সে। আলিয়া ভাটকে ভীষণ পছন্দ তার। আলভা জানালেন, “সাড়ে তিনবছর বয়সে অলি একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে ‘অ্যায় বতন, মেরে বতন’ গানটি গেয়েছিল, যার ভিডিও দেখেই রেকর্ডিং-এর প্রথম প্রস্তাব আসে।” প্রথম গান থেকেই অলির ফ্যানের সংখ্যা বাড়তে থাকে। অলির দুষ্টুমিকে সুন্দর ভাবে মিউজিক ভিডিওতে বন্দী করেছেন গেম ওভার প্রোডাকশনের সুমিত রায় ও এস এস মিউজিক স্টুডিওর শীর্ষেন্দু বাগচি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here