তীব্র তাপপ্রবাহ ডুয়ার্সে জলাভাব বনাঞ্চল থেকে গ্রামে সংকটে বন্যপ্রাণী থেকে মানুষ

0
83
মালবাজারঃ গত কয়েক দিন ধরে ডুয়ার্সে চলছে তীব্র তাপ প্রবাহ। তাপমাত্রার পারদ উঠে এসেছে ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই রকম পরিবেশে শুখিয়ে গেছে গ্রামাঞ্চলের কুয়ো থেকে বনাঞ্চলের ঝোড়া। এতেই সংকটে পড়েছে গ্রামাঞ্চলের মানুষ থেকে বনাঞ্চলের পশুপাখিরা। মানুষ এদিক ওদিক করে পাম্পের সাহায্যে জল সংগ্রহ করতে পারলেও বনাঞ্চলের পশুপাখিদের পক্ষে সেটা সম্ভব হয়না। এই কারণে বনাঞ্চলের সংকট উদ্বেগজনক।
         
ডুয়ার্সের চাপরামারি, গরুমারা, আপালচাদ সহ বিভিন্ন বনাঞ্চলের ভিতরদিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য ঝোড়া। এইসব ঝোড়ার জলই বন্যপ্রাণীর পানীয়। গত কয়েকদিন ধরে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া কামিনিঝোড়া, ফুলঝোড়া, হাতিডোবা সহ একাধিক ঝোড়া ও জলাধার শুখিয়ে গেছে। এমন কি লাটাগুড়ি মহাকাল ধামের পাস দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝোড়াটি জলহীন অবস্থায় রয়েছে।
লাটাগুড়ির বিশিষ্ট পরিবেশ প্রেমী অনির্বাণ মজুমদার বলেন, হাতি বা অন্যান্য বন্যপ্রাণীর দৈনিক প্রচুর পরিমানে জলের দরকার হয়। পানীয় ও স্নানের জন্য জলের  দরকার। এক সময় এই সব বনভূমির ঝোড়াতে সারা বছর কমবেশি জল থাকত। ভৌম জলের স্তর নিচে নামার ফলে শুখার মরশুমে এই সব ঝোরা গুলি শুখিয়ে যায়। ফলে কষ্টে পড়ে বনের পশুপাখি। এমনকি বনদপ্তর বনের ভিতরে কিছু জলাধার করেছিল। সেগুলোও শুখিয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই বন্যপ্রাণীদের জলের প্রয়োজনে বাইরে নদীতে আসতে হচ্ছে। এভাবেই সমস্যা হচ্ছে।
পরিবেশ প্রেমীদের দাবি মানতে চায়নি বনদপ্তরের আধিকারিকরা। গরুমারা সাউথ রেঞ্জের রেঞ্জার অয়ন চক্রবর্তী বলেন, জলাভাব খুববেশি নেই। গরুমারা বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া  মুর্তি নদীতে প্রচুর জল রয়েছে। বনাঞ্চলের পুর্ব দিক দিয়ে বয়ে গেছে জলঢাকা ও পশ্চিম দিকে রয়েছে নেওরা নদী এই দুই নদীতে সারা বছর জল থাকে। স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তাছাড়া বর্ষার জলে পুষ্ট ছোট ঝোড়া গুলি শীতের সময় এমনই শুখিয়ে যায়। ডুয়ার্সে বর্ষার আগমন ঘটলেও এখনো সেভাবে বৃষ্টি নামেনি। নদী নালা ঝোড়া গুলি জলে ফুলে ওঠেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here