বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের দূর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হল গ্রাম বাসীরা

0
1322

রায়গঞ্জঃ দিনের পর দিন দুর্নীতির আকড়া। কোটি কোটি টাকার তছরুপের অভিযোগে গ্রামের মানুষের ক্ষোভের আচড় আচড়ে পরল বুধবার। সদুত্তর নেই, পালিয়ে বেড়াচ্ছে গ্রামের প্রধান। বুধবার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে প্রধান পৌছাতেই মানুষের ক্ষোভ আচড়ে পরল পঞ্চায়েতের বাইরে ও ভেতরে। প্রধানকে অফিসে পেয়ে চারিদিক থেকে ক্ষুব্ধ জনতা পঞ্চায়েত অভিযানে।

রায়গঞ্জ ব্লকের ৪ নং বিন্দোল গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত পুকুর খননের জন্য কয়েক লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে ব্লক প্রশাসন থেকে জেলা প্রশাসনের কাছে কয়েক দফায় নালিশ জানিয়েছেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু কোনো সদুত্তর মেলেনি। এমনকি সামান্য তদন্ত টুকু শুরু করেনি। অভিযোগ গ্রামবাসীদের। নিয়মের তোয়াক্কা না করেই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে ট্রাক্টর ব্যবহার ও মাষ্টার রোলে বেনামি শ্রমিকদের নামে সই করে টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ প্রধানের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনা গ্রামে জানাজানি হতেই বেশ কিছুদিন যাবৎ ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় বিন্দোলে। এলাকার মানুষের অভিযোগ প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা আত্মস্যাতের অভিযোগ উঠেছে প্রধান সহ কতিপয় মেম্বারদের বিরুদ্ধে।
পঞ্চায়েতে কি কাজ হয়েছে! ২৮ টা সংসদের জন্য ২৮ টা ডিস্পলে বোর্ডের খরচ হয়েছে ১৩ লক্ষ টাকা! কেউ বিশ্বাস করবে? বিশ্বাস না করলেও পেমেন্ট হয়েছে ব্যাঙ্ক থেকে টাকাও উঠে গেছে। এর অংশীদার প্রধানের স্বামী আত্মীয় স্বজন।

১০০ দিনের কাজের জব কার্ড হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।শ্রমিকদের জবকার্ড আছে এলাকার মেম্বার দের কাছে। শ্রমিকদের কাজ করতে হবে না, জব কার্ড হোল্ডারদের মধ্যে মাসোহারা করা হয়েছে। কৃষকদের জমি লেবেলিং করা হবে, পাশের পুকুর থেকে মাটি তুলে রাস্তায় ফেলা হবে যেসিবি মেসিন ব্যবহারে, ট্রাক্টর করে মাটি তুলে কৃষকের জমিতে দিতে টাকা তোলা হয়েছে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা। এই অভিযোগ তুলে গ্রাম বাসীরা যখন সরব তখন চেয়ারে বসে প্রধানের বক্তব্য পঞ্চায়েতের টাকা মেম্বার থেকে উচু স্তরে ভাগ দিতে হয়।

আস্ত পঞ্চায়েতের একটা গ্রামের আদারে বাদারে একটা গাছও লাগানো হয়নি। অথচ গাছ লাগানো প্রকল্পের ৯ লক্ষ টাকা আত্মস্যাতের অভিযোগ তৃনমুল কংগ্রেস প্রধান এবং গুটি কয়েক মেম্বারদের মধ্যে। গণডেপুটেশনের মেজাজ আচড়ে পরেছে জেলা প্রশাসনের অভ্যন্তরে। গ্রামবাসীদের ক্ষোভের আচ পেয়ে জেলা পঞ্চায়েত আধিকারিক থেকে ব্লক প্রশাসনের কর্তারা পৌছেছে এলাকায়। তীব্র গরম আর রোদকে উপেক্ষা করেই প্রায় কয়েক হাজার গ্রামবাসী আত্মস্যাৎকারি প্রধান অভিযুক্ত মেম্বার দের আইনানুগ ব্যবস্থার দাবীতে ঘেরাও করেই বিক্ষোভ চলছে। প্রশাসনের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনি এফ আই আর করতে হবে।

উপস্থিত গ্রামবাসী মোস্তাক আলি, আব্বাস আলি, আনিসুর রহমান, খলিলুর রহমান, ফিরোদ বক্স, বাবলু রায়, বুদ্ধদেব বর্মন দের অভিযোগ যতক্ষন পর্যন্ত আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত ঘেরাও অভিযান চলবে। এদিকে সুত্রে জানা গেছে, উচু তলার নির্দেশে প্রধানকে রক্ষা করতে এলাকায় আরো প্রচুর পুলিশ এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। এ খবর লেখা পর্যন্ত ঘেরাও অভিযান চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here