‘ দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন ‘ এর ‘ল্যাটা’ আজকাল দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা উপভোগ করছেন : ল্যাটার চরিত্রাভিনেতা অমিত সাহার সাথে কথোপকথনের নির্বাচিত কিছু অংশ

0
1818

ম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি ‘ দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন ‘,যা ইতিমধ্যেই সুপারহিট। সোনাদা, আবির ও ঝিনুকের পাশাপাশি ‘ল্যাটা’ চরিত্রটি বিশেষ প্রশংসা আদায় করেছে দর্শক ও সমালোচকদের কাছে।ছবিতে তেমন কোনো সংলাপ তাঁর মুখে নেই, তবু শুধুমাত্র এক্সপ্রেশন কিভাবে একটা চরিত্রকে এত প্রাণবন্ত করে তোলে তা দাপটের সাথে প্রমাণ করে ছেড়েছেন তিনি। একেই তো বলে জাত অভিনেতা। ল্যাটার চরিত্রাভিনেতা অমিত সাহার সাবলীল অভিনয় চাক্ষুষ করা সত্যিই কোনো গুপ্তধন আবিষ্কারের থেকে কম নয়। সেজন্যই আজ অনীক দত্ত, অরিন্দম শীল, প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য যেকোনো প্রথম সারির পরিচালকের প্রথম পছন্দ তিনি। দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে অভিনয়ের সাথে যুক্ত অভিনেতা জানালেন থিয়েটার তাঁর প্রাণের জায়গা।নিজের দল বিদূষক নাট্য মন্ডলীতে জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবই সানন্দে করে থাকেন তিনি। আগে পেশার খাতিরে ও সংসার চালানোর তাগিদে অন্যান্য কাজকর্মের সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে নেশা ও পেশা শুধুমাত্র অভিনয়।এত খ্যাতি, এত প্রশংসা সত্বেও নিজেকে একজন সাধারণ মানের অভিনেতাই মনে করেন। থিয়েটার, সিনেমা, আগামী কাজ নিয়ে অনেক কথাই শেয়ার করলেন আমাদের প্রতিনিধি দেবলীনা ব্যানার্জীর সাথে।

দেবলীনা : অভিনয়ের শুরুটা কিভাবে হয়েছিল?

অমিত : অভিনয়ের শুরু হয় পাড়ার থিয়েটার দিয়ে। ওই সবার যেমন হয় আর কি। প্রায় কুড়ি বছর হয়ে গেল অভিনয়ের সাথে যুক্ত আছি। এর আগে সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করেছি, মিডিয়াতে কাজ করেছি, আরও নানা ডিপার্টমেন্টে কাজ করেছি। কিন্তু ফাইনালি দশ বছর ধরে ফ্রিল্যান্স অভিনেতা হিসেবে রয়েছি। আমার প্রথম অডিও ভিসুয়াল কাজ থেকে শুরু করে থিয়েটার সবটাই ছোটবেলার বন্ধু অমিত বসুর সাথে।


দেবলীনা : থিয়েটার থেকে সিনেমা বা ছোটপর্দায় এলে কিভাবে?

অমিত: এটা সত্যিই একটা অদ্ভুত ঘটনা। বারো বছর আগের কথা। থিয়েটার করছিলাম। হঠাৎই একটা কমার্শিয়াল কমেডি ফিল্মে অভিনয়ের সুযোগ এল। করলাম। তারপর দু তিন বছর টানা মেগাতে কাজ করেছি। কিন্তু ভালো লাগছিল না, তাই ছেড়ে দিই।ছোটপর্দায় টেলিফিল্ম, সিরিয়াল সবই করেছি। সম্প্রতি হিন্দিতে একটা শর্ট ফিল্ম করলাম, ‘ ডিজিটাল চোর ‘। একমাত্র আমিই সেখানে চরিত্র। খুব ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে। ছবির কথা বলতে গেলে প্রায় পঁচিশ ছাব্বিশ টা ছবিতে অভিনয় হয়ে গেল।অনেকগুলো বাংলা টেলিফিল্ম, শর্ট ফিল্ম, ডিপ্লোমা ফিল্ম করেছি। যেগুলো অনেক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে।

দেবলীনা : প্রথম মেগা সিরিয়াল কি?

অমিত: আমার প্রথম মেগা সিরিয়াল ‘অদ্বিতীয়া’, পরিচালক জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। আমার পছন্দের পরিচালক। এই সিরিয়াল থেকেই লোকে মোটামুটি চেনা শুরু করে।

দেবলীনা : তোমার ছবিগুলো সম্পর্কে কিছু বলো।

অমিত : প্রথমদিকে যে ছবিগুলো করেছিলাম তার মধ্যে ‘বাজিগর’ বলে একটা সিনেমার কথা মনে পড়ছে। ছবিটা এখন আর পাওয়া যায় না। এরপর
‘নটবর নট আউট ‘ বলে একটা ছবি করেছিলাম। ‘লুটেরা’ বলে একটা হিন্দি ছবিতে ছোট্ট একটা রোলে ছিলাম। রণবীর সিং আর সোনাক্ষী সিনহা ছিলেন ছবিটাতে।

দেবলীনা : ‘লুটেরা’ তে তুমি ছিলে?

অমিত: ছবিটার প্রথম দশ মিনিটের মধ্যে ছোট্ট একটা রোল ছিল আমার। তখন তো অনেক কম বয়স ছিল।

দেবলীনা : তুমি তো প্রায় সব ভালো পরিচালকদের সাথেই কাজ করে ফেলেছ।কোন কোন পরিচালকের সাথে কাজ করতে ভালো লেগেছে?

অমিত : হ্যাঁ অনেক পরিচালকের সাথেই কাজ করা হয়ে গেছে। প্রত্যেকের সাথে কাজ করেই আনন্দ পেয়েছি, অনেক কিছু শিখেছি। আমার খুব প্রিয় পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। ওর কাজের পদ্ধতিও অনেকটা আলাদা। ওর সব ছবিতেই আমি থাকি। ওর সাথে ‘বাকিটা ব্যক্তিগত ‘ বলে একটা ছবি করেছিলাম। যেটা জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিল। সম্প্রতি করেছি ‘রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ‘, যেটা মুক্তির অপেক্ষায়। পরিচালক অনীক দত্তের সাথে করেছি ‘আশ্চর্য প্রদীপ ‘, ‘মেঘনাদবধ রহস্য’, ‘ভবিষ্যতের ভূত’। অরিন্দম শীলের পরিচালনায় ‘ব্যোমকেশ পর্ব’, ‘আসছে আবার শবর’, ‘ধনঞ্জয়’, অনিন্দ্যর পরিচালনায় ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’, এগুলোর কথাই বিশেষ করে মনে পড়ছে। আরো দুতিনটে ছবির শ্যুটিং চলছে এখন। আর নিজের থিয়েটারের দল ‘ বিদূষক নাট্য মন্ডলী’ র কাজ চলছে। ওখানে আমি মূলত পরিচালনা করি।

দেবলীনা : থিয়েটার, সিনেমা, টেলিভিশন – অভিনয়ের এই তিন মাধ্যমের মধ্যে কোন মাধ্যমে অভিনয় তৃপ্তি দেয়?

অমিত : ভালো স্ক্রিপ্ট আর ভালো চরিত্র পেলে যেকোনো মাধ্যমেই কাজ করে তৃপ্তি পাওয়া যায়। টেলিভিশন, সিনেমা,থিয়েটার এই তিনটি মাধ্যম তো আলাদা, এখানে কাজ করার পদ্ধতি ও আলাদা। সেভাবে কখনও ভেবে দেখিনি কোন মাধ্যম আলাদা করে তৃপ্তি দেয়। তবে যদি বলতেই হয় তাহলে সিনেমা আর থিয়েটারকেই একটু এগিয়ে রাখব। থিয়েটার আমার প্রাণের জায়গা। তবে টেলিভিশনেও কাজ করেছি, ভালো কাজ পেলে অবশ্যই করব আগামীতেও।

দেবলীনা : টেলিভিশনে এখন কোনো কাজ করছ?

অমিত : কোনো ডেইলি সোপ করছি না। তবে জি বাংলা অরিজিনালস এ ‘জাদু কড়াই’ বলে একটা টেলিফিল্ম করলাম। আমি আর রাহুল আছি। পরিচালক মেঘদূত রুদ্র। জি ফাইভে ওটা দেখা যাচ্ছে।

দেবলীনা : তোমার ছোটবেলা কিভাবে কেটেছে, বাড়ি, পড়াশোনা এইসব

অমিত : পড়াশোনায় ভীষণ ভালো ছাত্র ছিলাম (হাসি)

দেবলীনা : হাসছ কেনো?

অমিত : হাসছি কারন পড়াশোনা কোনোদিনই মন দিয়ে করিনি। কোনোরকম পাশ করে যাওয়াটাই লক্ষ্য ছিল। উত্তর কলকাতায় আমার জন্ম। সেখানকার পাড়া কালচারে ছোট থেকে বড় হয়েছি।সরস্বতী পূজো করা, চাঁদা তোলা, ফুটবল খেলা, খেলা শেষে মারামারি সবকিছুই করেছি। পাড়ার ক্লাব, বিজ্ঞান মঞ্চ,লাইব্রেরি সবকিছুর সাথেই ছোটবেলা থেকেই যুক্ত ছিলাম। পাড়ার অনুষ্ঠানে নাটক করতে করতেই থিয়েটার দল গড়ার পরিকল্পনা আর অভিনয়ের সাথে জুড়ে যাওয়া।১৯৯৬ সালে প্রথম নাটকে অভিনয় করি।

দেবলীনা : বাড়িতে কে কে আছেন?

অমিত : বাড়িতে মা, বাবা, ঠাম্মা, স্ত্রী, ছেলে সবাই আছে।

দেবলীনা : অভিনয়ের প্রথাগত কোনো শিক্ষা নিয়েছ?

অমিত: ছোটবেলা থেকে নাটক, সিনেমা দেখতে দেখতে বড় হয়েছি, অভিনয়ের যা কিছু প্রাথমিক শিক্ষা সেখান থেকেই হয়েছে। তারপর পাড়ার নাটকে অভিনয়, রিহার্সাল, থিয়েটারের দল অভিনয়কে সমৃদ্ধ করেছে।কলেজ শেষ হওয়ার পরে রবীন্দ্রভারতীতে নাটক নিয়ে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্ত গতানুগতিক পদ্ধতিতে ক্লাস করতে ভালো লাগছিল না। মাসতিনেক যাতায়াতের পরে ছেড়ে দিই।


দেবলীনা : আগামীতে কোন পরিচালকের সাথে কাজ করার ইচ্ছে আছে।

অমিত : আমি এখনো পর্যন্ত কলকাতার লিডিং পরিচালকদের সাথে কাজ করেছি, যেমন অনীক দত্ত, জয়দীপ মুখার্জি, প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য। এদের মধ্যে অনীক দত্তর সাথে সম্প্রতি কাজ করেছি কিন্তু আমার প্রথম দিকের পরিচালকদের মধ্যে যাদের কাছে ঋণ রয়েছে তারা হলেন জয়দীপ ও প্রদীপ্ত। ভালাবেসে, চাঁটি মেরে এরাই আমাকে পর্দায় অভিনয় শিখিয়েছেন। এদের সবার সাথেই আগামীতে কাজ করতে চাই। আরো অনেকেই আছেন। সবার নাম সবসময়ে মনে পড়ে না এটাই সমস্যা।

দেবলীনা : পছন্দের সহ অভিনেতা কে?

অমিত : ঋত্বিক চক্রবর্তী। অভিনয়ের অনেক কিছু শিখেছিও ওর কাছ থেকে। আমাদের একসাথে ‘ রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত ‘, ‘অন্তর বাহির’, ‘বুড়ো সাধু’, ‘মায়ার জঞ্জাল ‘ এই সমস্ত ছবিগুলো আসছে।

দেবলীনা : বলিউডে অভিনয় করতে চাও?

অমিত : অবশ্যই চাই। দু একটা কাজের অফারও এসেছিল, কিন্তু চরিত্র পছন্দ হয়নি বলে করিনি। পছন্দের চরিত্র পেলে অবশ্যই করব। এর মানে এটা নয় যে বড় কোনো চরিত্র পেতে হবে। চরিত্র ছোট হতে পারে, কিন্তু গল্পে তার যেন গুরুত্ব থাকে। যেমন ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন ‘ এর চরিত্রটা। চরিত্রটার মুখে কোনো সংলাপ নেই, কিন্তু পুরো ছবি জুড়ে সে কিছু একটা করে চলেছে। এই গুরুত্ব টুকু আমার চাই।

দেবলীনা : বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগ যে সময়টাকে বলা হত, যেসময় উত্তমকুমার, ছবি বিশ্বাস, পাহাড়ি সান্যালের মত অভিনেতারা ছিলেন বা পরবর্তীতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায় এলেন। সেসময় পার্শ্বচরিত্রগুলিও প্রচন্ড জোরদার হত। যেমন উত্তমকুমারের পাশে তরুন কুমার অথবা তুলসী চক্রবর্তী, জহর রায়, রবি ঘোষেরা কিন্তু একটা ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকতেন।

অমিত : একদম ঠিক বলেছ। এটাই আমি বলতে চাইছিলাম। এরা যে কত বড়মাপের অভিনেতা ছিলেন আর বাংলা সিনেমায় যে মণিমাণিক্য ছড়িয়ে গেছেন, সেগুলো দেখতে দেখতেই অভিনয়ের প্রথম পাঠ আমরা পেয়েছি। সেজন্যই অভিনয় আলাদা ভাবে শেখার কোনো প্রয়োজন হয়নি। আমি নিজেকে কোনো মৌলিক অভিনেতা বলে শ্লাঘা অনুভব করি না। স্বর্ণযুগের সেই সময়ে তুলসী চক্রবর্তী, রবি ঘোষ, জহর রায়, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়, নৃপতি চট্টোপাধ্যায়, শ্যাম লাহা দের মত বিরাট মাপের এই অভিনেতারা যা অভিনয়ের মাপকাঠি তৈরি করে গেছেন তার এক শতাংশ ও যদি আমি পর্দায় তুলে ধরতে পারি তাহলেই নিজেকে সত্যিকারের অভিনেতা মনে করব।

দেবলীনা : সেটাই বলছি। এখন কিন্তু সেই ট্রেন্ড আবার অনেকটাই ফিরে এসেছে। যেখানে ঋত্বিক, রুদ্রনীল, অনির্বাণ এদেরকে মুখ্য চরিত্র করে পুরো ছবি তৈরি হচ্ছে। কিছুদিন আগেও যেটা অসম্ভব ছিল। হিন্দিতে তো অনেকদিন থেকেই এরকম ছবি হচ্ছে এখন বাংলাতেও সেই ধারা চলে এসেছে।

অমিত : এখন স্ক্রিপ্ট হচ্ছে আসল হিরো। পাশাপাশি কমার্শিয়াল হিরো হিরোইন নিয়ে ছবি অবশ্যই চলছে কিন্তু এখন বেশিরভাগ ছবিতেই জোরদার স্ক্রিপ্টই আসল ভূমিকায় আর সাথে অবশ্যই পরিচালক।

দেবলীনা : যদি বলি স্বর্ণযুগের কোনো ল্যান্ডমার্ক চরিত্র যেটার রিমেক হলে তুমি অভিনয় করতে চাইবে। সেটা কোন চরিত্র।

অমিত : সেসময়ের স্বর্ণযুগের একটি বিখ্যাত ছবি, যার রিমেক হচ্ছে এখন। আমাকে মুখ্য চরিত্রে পাঠ করতে বলা হয়েছিল।আমার অত্যন্ত পছন্দের একটা চরিত্র এবং পছন্দের অভিনেতা। সেটা আমি করিনি, আমার বদলে অন্য একজন এখন করছেন। কারন স্ক্রিপ্ট শুনে আমার ভালো লাগে নি। আগেও বলেছি স্ক্রিপ্ট যদি ভালো না হয় তাহলে কিছুই কাজে লাগবে না। যত বড়ই অভিনেতা হোক না কেনো স্ক্রিপ্টের সহযোগিতা না পেলে ঠিকঠাক কাজ করা সম্ভব না। আর স্ক্রিপ্ট ভালো হলে আমাদের মত সাধারণ মানের অভিনেতারাও ভালো কাজ করতে পারবে। তাই লোক হাসিয়ে কাজ নেই ভেবে পছন্দের চরিত্র হওয়া সত্বেও না করে দিয়েছি।

দেবলীনা : কি সেই ছবি? আর কোন চরিত্র?

অমিত : ‘গল্প হলেও সত্যি’ র রবি ঘোষের চরিত্রটা।এর আগে রবি ঘোষের চরিত্রে মীরাক্কেলে আমি একটা বিজ্ঞাপন করেছিলাম। সেটা দেখেই সম্ভবত আমাকে এই চরিত্রের জন্য ভাবা হয়েছিল।কিন্তু স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হওয়ায় আমি করতে চাইনি।

দেবলীনা : আগামীতে অভিনয় ছাড়া আর কি ধরনের কাজ করতে চাও?

অমিত : আগামীতেও আমি ভালো ভালো চরিত্রে অভিনয় করতে চাই। থিয়েটার, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম, লো বাজেট ভালো ছবি এইসব নিয়েই থাকতে চাই।একটা শর্ট ফিল্ম নিয়ে বলতে চাই, ১১ জুন জি ফাইভে আসছে ‘ওয়াটার বটল’।চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, রজতাভ দত্তর মত অসামান্য অভিনেতাদের সাথে কাজ করেছি। এক ভয়ংকর চরিত্র, খুন করে অনাবিল আনন্দ পায়, তাকে নিয়েই গল্প।

দেবলীনা : থিয়েটারে যেমন তুমি পরিচালনা করো, সিনেমা নিয়ে সেরকম কোনো ভাবনাচিন্তা নেই?

অমিত : না না। ছবি পরিচালনা মহা হ্যাপার কাজ। ও আমার দ্বারা হবে না। আমি থিয়েটারে পরিচালনা করি। একটা সংগঠন চালাই বলতে পারো। এখানে সমস্তটাই করতে হয়, ছবি আঁকা থেকে ঘর ঝাঁট দেওয়া,চা বানানো ওবধি। এসব নিয়েই আনন্দে দিন কাটে। আমাদের ‘ বিদূষক নাট্য মন্ডলী’ তে এখন যে কাজগুলো হচ্ছে তা আবালবৃদ্ধবনিতা সকলের ভালো লাগবে।আমাদের টার্গেট দর্শক মূলত যারা থিয়েটার কম দেখে বা কোনোদিন দেখে নি।

দেবলীনা : তোমার থিয়েটারের দলে এখন কোন নাটক চলছে?

অমিত: এখন যে নাটক টা চলছে ‘কালো মাছের গল্প’ সেটা একটা মিউজিক্যাল, চব্বিশটা গান আছে। একটা ছোট্ট মেয়ে মাছ মায়ের বারণ না শুনে বাইরে চলে যায়। তার জার্নিটা এখানে যেন একটা রুপকথার গল্প। এছাড়া অস্কার ওয়াইল্ডের ‘হ্যাপি প্রিন্স’ আমরা যাত্রা ফরম্যাটে করছি। এটাও মিউজিক্যাল। খুব মাথাভারী বিষয় নিয়ে কাজ করি না আমরা, লোকে যা পছন্দ করে সেই ধরনের বিষয় নিয়েই কাজ হয়।

দেবলীনা : শেষে জিজ্ঞেস করি, ইদানিং ইন্ডাস্ট্রিতে টাকাপয়সা আটকে থাকা নিয়ে যে বিতর্ক শুরু হয়েছে, সে সম্পর্কে কিছু বলতে চাও?

অমিত : এটা খুবই খারাপ হয়েছে। আমারও টাকা পয়সা আটকে রয়েছে। নতুন কাজ এলে সন্দিগ্ধ হয়ে পড়ছি টাকা আটকে থাকবে না তো।

দেবলীনা : ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই কি এরকম?

অমিত : না না সবাই এরকম নয়। যে বিশেষ কেউ সম্পর্কে আজকাল আলোচনা চলছে, তার কথাই আমি বলছি। আলাদা কারো কথা বলছি না। এটা বাজে ব্যাপার। ওদের হাউজে আমাকে আবার কাজের জন্য ডাকা হয়েছিল, কিন্তু আমি এই ব্যাপারটা জানতাম বলে আর কাজ করিনি। এবার অনেকের বাধ্যতা থাকে বলে কাজ করে, আবার অনেকে না জেনে কাজ করে ফেঁসে যায়। লোকের তো এটা করেই সংসার চলে, তাই পেমেন্ট আটকে রাখাটা খুবই বাজে ব্যাপার।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here