” অভিনয় শেখা যায় না, ওটা ভেতর থেকে আসে ” – বৃত্তান্তের সাথে আলাপচারিতায় অভিনেতা সুরজিত চৌধুরী

0
652

জি বাংলার জনপ্রিয় সিরিয়াল ‘করুণাময়ী রানী রাসমনি’র নিশিকান্ত মামাকে চেনেন? রাসমনির জামাই মথুরের মামাবাবু তিনি। এই মামাবাবুর চরিত্রে রূপদান করেছেন যিনি, অভিনেতা সুরজিত চৌধুরী, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিকের দৌলতে অন্দরমহলের পরিচিত মুখ। ব্যাঙ্কিংয়ের মত সফল পেশা ছেড়ে শুধুমাত্র ভালোলাগাটুকু সম্বল করে চলে এসেছেন অভিনয়ের মত পেশায়।সামনে রয়েছে বেশ কিছু বিগবাজেট বাংলা ও হিন্দি ছবির রিলিজ। মাত্র তিন বছরেই সিরিয়াল, সিনেমা, ওয়েব সিরিজ সব মাধ্যমে কাজ করে ফেলেছেন। স্ক্রিন শেয়ার করেছেন বড়মাপের অনেক তারকার সাথে। শ্যুটিং য়ের চাপে সামনের অক্টোবর পর্যন্ত নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই তার। কিন্তু হাসিখুশি দিলখোলা মানুষটি আড্ডা মারতে যে বেজায় ভালোবাসেন তা টের পাওয়া গেল কথা শুরু করতেই। মিটু মুভমেন্ট থেকে সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনের মত আলোচনাও বাদ পড়ল না এই সংক্ষিপ্ত আড্ডায়।ব্যস্ত শিডিউলের থেকে সময় বের করে কথা বললেন আমাদের প্রতিনিধি দেবলীনা ব্যানার্জীর সাথে।

দেবলীনা : ‘করুণাময়ী রানী রাসমনি’ দিয়েই শুরু করি।এখানে তোমার চরিত্রটা কি?

সুরজিত: রাসমনির মেজো জামাই মথুরের মামাবাবু আমি। উত্তম কুমারের নাতি গৌরব মথুরের চরিত্রটা করছে এখানে।মামাবাবু মথুরকে খুব ভালোবাসে, যদিও মাঝেমধ্যেই মথুরের ওপর খুব রেগে যায়, কিন্তু আদতে মথুরের ভালো চায় ও তাকে সাপোর্ট করে। নিশিকান্ত মামা চরিত্রটা রাগী হলেও খারাপ মানুষ না।মথুরও মামার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে।

দেবলীনা : রানি রাসমনি তো খুবই জনপ্রিয় সিরিয়াল

সুরজিত : হ্যাঁ, একবছর ধরে এই সিরিয়ালে আমি কাজ করছি। সত্য ঘটনার ওপর নির্ভর করে তৈরি বলেই হয়ত এতটা জনপ্রিয় হয়েছে। এখন তো গল্পে পরবর্তী জেনারেশনটা বড় হয়েছে। দেখা যাক এরপর কি হয়।

দেবলীনা : তোমার অভিনয়ের শুরুটা কি টেলিভিশনেই?

সুরজিত : আমি আগে একজন ব্যাঙ্কার ছিলাম। অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ও আই সি আই সি আই ব্যাঙ্কের মত দুটো হাইপ্রোফাইল ব্যাঙ্কের সাথে যুক্ত ছিলাম। তারপর তিন বছর আগে এই দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিলাম।ভালোর জন্য নিয়েছি না খারাপের জন্য সেটা এখনো জানি না। সেটা ছাড়ার পর আমি ফিল্মে আসি।আমার প্রথম ছবি এস কে মুভিস এর ‘নবাব’, ভারত বাংলাদেশ যৌথ ভেঞ্চার। শাকিব খান, শুভশ্রী, অপরাজিতা আঢ্য, রজতাভ দত্ত ছিলেন। ছবিটা সুপারহিট হয়েছিল।

দেবলীনা : চাকরি একেবারে ছেড়ে দিয়েছ?

সুরজিত : একদম পাকাপাকি ছেড়ে দিয়েছি। দুদিকে পা দিয়ে ঠিকঠাক চলা তো যাবে না। ‘নবাব’ এর পর আমি ‘চৌধুরী রাজবাড়ি’ আর এস ভি এফ এর ‘ল্যাবোরেটরি’ (হইচই রিলিজ) তে কাজ করেছি।

দেবলীনা : আর সিরিয়াল?

সুরজিত : ফিচার ফিল্ম দিয়ে শুরু করলেও সিরিয়ালের কথা একেবারেই অগ্রাহ্য করা যাবে না। কারণ আজ আমার যেটুকু পরিচিতি সেটা অবশ্যই ‘রানি রাসমনি ‘ র কারনে। আমার প্রথম সিরিয়াল ‘কুসুম দোলা’। তারপর একে একে ‘জড়োয়ার ঝুমকো’, ‘রাখীবন্ধন’, ‘স্ত্রী’,’খোকাবাবু’, ‘গোপাল ভাঁড়’। আর গত একবছর ধরে জি বাংলায় ‘রানি রাসমনি’ তে নিশিকান্ত মামা। তবে পুজোর পর স্টার জলসায় একটা ধামাকার সাথে নতুন সিরিয়ালে আসছি, কথাবার্তা চলছে।

দেবলীনা : আগামীতে কি কি কাজ করছ?

সুরজিত : সামনেই মুক্তি পাচ্ছে পরিচালক অতনু বোসের ছবি ‘ বিপ্লব আজ ও কাল’। আমার চরিত্রটার নাম রাহুল কুমার যাদব, একজন অফিসার। ঋতুপর্ণা, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, কৌশিক সেন আছেন এই ছবিতে। তারপর রাজর্ষি দের ‘শুভ নববর্ষ ‘। এখানে আমি এক জ্যোতিষীর চরিত্র করছি।সাথে আছেন অর্পিতা চ্যাটার্জি, কৌশিক সেন,রুদ্রনীল, তনুশ্রী, কমলেশ্বর মুখার্জি, সুদীপ্তা।

দেবলীনা : সব কাজই তো বেশ ইন্টারেস্টিং

সুরজিত : হ্যাঁ, আশা রাখছি আগামীতে বেশ কিছু ভালো চরিত্রে দর্শক আমাকে দেখতে পাবেন। পরিচালক সৌরভ দত্তর ছবি ‘ দ্য ফোর্থ ডাইমেনশন’ এ কাজ করছি, আমার চরিত্রের নাম প্রবীর সেন। গল্প নিয়ে বেশি কিছু বলব না, শুধু এইটুকু বলে রাখি কিছুদিন আগে ভাগাড় কান্ড নিয়ে যে শোরগোল পড়েছিল, এই গল্পের পটভূমি সেটাই। এছাড়াও সত্যজিৎ দাসের ‘ পেইন্টিং ইন দ্য ডার্ক ‘ এ একটা ছোট্ট চরিত্র করেছি। কিছুদিন পরেই শ্যুটিং শুরু হবে আড্ডা টাইমস এ ‘সেনাপতি ২’ এর। পরিচালক রিংগো ব্যানার্জি। গল্পটা হচ্ছে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ে, হাজি মস্তানের সময়টার । কিভাবে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কালো টাকা ঢুকলো সেই সমস্ত ব্যাপার নিয়ে। এখানে আমি কলকাতার বিখ্যাত মেট্রো সিনেমার তৎকালীন মালিকের রোল করছি।শ্যুটিং শুরু হবে জুনে। এছাড়া আরও দুটো বাংলা ও একটা হিন্দি ছবির শ্যুটিং হবে রাজস্থানে। যেগুলো সম্পর্কে এখন বেশি কিছু বলা যাবে না।

দেবলীনা : অভিনয়ের কোনো প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছ?

সুরজিত : আমি অভিনয়ের ‘অ’ ওবধি শিখি নি। অভিনয়ের কিচ্ছু জানতাম না, এখনো কিছুই জানি না। কিন্তু যাদের সাথে কাজ করছি সেই পরিচালকরা বলেন, অভিনয়টা আমি নাকি ভালোই পারি। অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন, সত্যি কথা বলতে আমি কোনোদিনই অভিনয় কোথাও শিখতে যাইনি। আমার মনে হয় অভিনয় ভেতরের জিনিস, সেটা ভেতর থেকেই আসে। হাজার শিখলেও তুমি যদি ঠিক ঠাক সেটার বহিঃপ্রকাশ না ঘটাতে পারো তাহলে কিছুই লাভ হবে না। প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই আমার অভিনয়ের শিক্ষা চলছে।

দেবলীনা : পছন্দের পরিচালক কারা? ভবিষ্যতে কার পরিচালনায় কাজ করার ইচ্ছে আছে?

সুরজিত : আমি কমার্শিয়াল ছবিতে কাজ করতে খুব একটা ইচ্ছুক নই। তবে অবশ্যই শিবপ্রসাদ, সৃজিত, অনিকেত চ্যাটার্জি এদের মত পরিচালকের সাথে কাজ করার ইচ্ছে আছে। আর যদি পছন্দের পরিচালক বলো তাহলে প্রথম তিনে থাকবে শিবপ্রসাদ মুখার্জি, সৃজিত মুখার্জি আর কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।

দেবলীনা : আর হিন্দিতে?

সুরজিত : এমন তো নয় যে আমি হিন্দিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছি। তাই সেসব নিয়ে ভাবনাচিন্তা কিছু করি নি। তবে যেকোনো অভিনেতারই ইচ্ছে থাকেই করন জোহর বা যশ চোপড়ার মত ব্যানারে কাজ করার। তাই আমিও যদি বলতে হয় করন জোহরের নাম বলব।

দেবলীনা : আজ পর্যন্ত যে কাজগুলো করেছ তার মধ্যে কোন চরিত্রটা তোমার নিজের সবচেয়ে কাছের?

সুরজিত : সব চরিত্রই তো আমি ভালোবেসে করেছি। তবে যদি নির্দিষ্ট করে বলতেই হয় তাহলে রানি রাসমনির মামাবাবু চরিত্রটার কথাই বলব। জি বাংলায় অনেকেই দেখে বলেছেন যে চরিত্রটা খুব ভালো। তাই অন্যরকম একটা ভালোলাগা আছেই মামাবাবুকে ঘিরে। আমার থেকে অনেকটাই বয়সে বড় এই চরিত্রটা। মেক আপ দিয়ে তাই বেশ বয়স্ক একটা লুক তৈরি হয়েছে, বেশ রাশভারি গোছের।
আর তাছাড়া সৌরভ দত্তর ফোর্থ ডাইমেনশনে যে চরিত্রটা করলাম, ইনভেস্টার প্রবীর সেন, সেটাও খুব উপভোগ করেছি। হইচই এর ল্যাবরেটরিতে একটা ছোট্ট চরিত্র করলাম, ছোটকর্তার চরিত্র। কৌশিক সেনের ভাই। ওটাও খুব ভালো লেগেছে।

দেবলীনা : এবার একটু অন্যরকম প্রসঙ্গে আশা যাক। সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে তোমার কি মতামত?

সুরজিত : কি যে বলি? আসলে সব দলের নেতাদের সাথেই আমার ভালো যোগাযোগ আছে। তৃণমূলের প্রায় সব নেতাকেই আমি চিনি, সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক। । সিপিএমের নেতাদের সাথেও ভালো সম্পর্ক, সুজন চক্রবর্তী দাদার সাথে তো আমার রেগুলার কথা হয়।সৌমেন মিত্র দা আমাকে খুব ভালোবাসেন। বিজেপির ও আমাকে অনেকেই চেনেন। বিশেষ করে রাহুল সিনহা দার সাথে কথা হয়। তাই লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কি আর বলব। শুধু এটুকুই বলতে চাই মানুষের যদি ভালো হয়৷ তাহলে যেদলই ক্ষমতায় আসুক আমি তাদের সাথে আছি।

দেবলীনা : সক্রিয় রাজনীতিতে আসতে চাও?

সুরজিত : একদম না।আমি রাজনীতির কিছুই বুঝি না।অনেকেই প্রশ্ন করেন, আগামী দিনে আমি নাকি তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে অংশ নেব। সেটা একদম ভুল। সক্রিয় রাজনীতিতে একদমই উৎসাহী নই। প্রচারে হয়ত গেছি, কিন্তু কোনো দলকে বিশেষ পছন্দ করি, এরকম কিছু না। সবার সাথেই আমার র‍্যাপো আছে।মানুষের ভালো হলে পশ্চিমবঙ্গে বা দিল্লিতে যেই থাকুক না কেনো, আমি তাকে সাপোর্ট করব।

দেবলীনা : বহু আলোচিত মিটু মুভমেন্ট নিয়ে তোমার কি মত? ইন্ডাস্ট্রিতে এরকম কিছু তোমার নজরে কখনো এসেছে?

সুরজিত : ইন্ডাস্ট্রিতে এই সমস্ত ব্যাপার বিগত ৫০ বছর ধরেই চলে আসছে। হলিউড, বলিউড, টলিউড সব জায়গাতেই আছে। নানারকম খবর কানে আসে। এখন আমার পরিচিত বা বান্ধবীরা অনেক সময়ই বলে যে তাদের একটা সুযোগ করে দিতে। আমি কিন্তু কোনো পরিচালক বা প্রযোজকের কাছে তাদের রেফার করতে ভয় পাই। কারন এটা আমার কাজের জায়গা। আমি সকলকে চিনি ঠিকই কিন্তু ভেতরে কে কিরকম তা কি করে জানব। সেটা সম্ভব ও নয়। তাছাড়া আরো একটা কথা আমি বিশ্বাস করি যে শর্টকাট পদ্ধতিতে সাফল্য কখনো আসে না। ট্যালেন্ট থাকলে কম্প্রোমাইজ করার কোনো অর্থ নেই। এতে আজ হয়ত আমি তাৎক্ষণিকভাবে বড় ব্যানারে কাজ পেলাম না, কিন্তু ট্যালেন্ট যদি থাকে সুযোগ আসবেই। ধৈর্য থাকাটা দরকার। নিজের কথা বলি, ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর প্রথম আট নমাস আমিও তো কোনো কাজ পাই নি। তারপর সময়ে সুযোগ এসেছে। তাই প্রতিবাদ করতে হলে প্রথমেই করতে হবে। আর এটাও বিশ্বাস করি কেউ যদি নিজেকে সঁপে দিতে না চায়, তাহলে অন্য কেউ তার ফায়দা ওঠাতে পারবে না।এই ইন্ডাস্ট্রিতেই তো অনেকে খুব ভালো ভাবে বহুদিন ধরে কাজ করছে। আসলে সাফল্যের শেষ কথা সবসময়ই ট্যালেন্ট।

দেবলীনা : অভিনয় ছাড়া আর কি পছন্দ?

সুরজিত : আমি বেড়াতে প্রচন্ড ভালোবাসি। বিশেষ করে পাহাড় আর নর্থবেঙ্গল আমার সবচেয়ে বেশি পছন্দ। নর্থ বেঙ্গলে শ্যুটিং করার জন্য আমি বসে রয়েছি। আগামী দুটো ফিল্মের শ্যুটিং খুব সম্ভবত ওখানেই হতে চলেছে। আই সি আই সি আই ব্যাঙ্কে কাজ করার সময় আমি শিলিগুড়িতে পোস্টেড ছিলাম অনেকদিন। তাই নর্থ বেঙ্গল আমার সেকেন্ড হোম।দার্জিলিং আমি বাইশবার গেছি। কার্শিয়াং, কালিম্পং, সিকিম ও বহুবার গেছি। শিলিগুড়ি, ডুয়ার্স, নর্থ বেঙ্গল আমার প্রিয় জায়গা।

দেবলীনা : ইন্ডাস্ট্রিতে তোমার প্রিয় বন্ধু কে বা কারা?

সুরজিত : ইন্ডাস্ট্রিতে তো সেভাবে কোনো বন্ধু হয় না, এখানে সবাই প্রফেশনাল। যতক্ষণ কাজ ততক্ষণ আশ। কারো সাথেই আমার কোনো ঝামেলা নেই, সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক। তবুও কেউ কেউ বিশেষ বন্ধু হয়ে যায়। সেরকম বলতে গেলে এক দুজন পরিচালক আমার ভালো বন্ধু।তাদের সাথে কাজ করিনি এখনো, হয়ত করব। একজন হলেন পরিচালক অর্ণব পাল।সম্প্রতি যার ‘বৃষ্টি তোমাকে দিলাম’ একশো দিন পূর্ণ করল।আর একজন ভালো বন্ধু পরিচালক অনির্বাণ তাঁতিয়া।আগামী দিনে এই দুই বন্ধুর সাথে যখন কাজ করব তখন বন্ধু থাকব না, একদম প্রফেশনালি কাজ করব। এই দুজনের সাথেই আমার খুব ভালো বন্ধুত্ব। অনেকরকম গল্প হয় আমাদের মধ্যে।

দেবলীনা : এবারে শেষ একটা কথা জিজ্ঞেস করব, আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছ সেখান থেকে নিজের ছোটবেলাকে যদি ফিরে দেখো, কি দেখতে পাও?

সুরজিত : ছোটবেলায় আমার স্কুল ছিল সাউথ পয়েন্ট। এই স্কুল আমার কাছে সত্যি খুব গর্বের বিষয়। আজও যখন পুরনো শিক্ষকদের সাথে দেখা হয় নস্টালজিক হয়ে যাই। এখান থেকে মাধ্যমিক পাশ করে সাউথ সিটি কলেজ। বিকম অনার্স নিয়ে গ্রাজুয়েশন। আর তারপর চাকরিতে ঢুকে যাই ১৯৯৬ সাল নাগাদ। প্রায় ১৭ – ১৮ বছর চাকরি করেছি। ব্যাঙ্কিং আর মিডিয়াতেই মূলত চাকরিজীবন কেটেছে। ছোটবেলায় বাবা মা খুব স্ট্রাগল করে মানুষ করেছেন। আজ যখন বাবা আমার কাজের প্রশংসা কারো মুখ থেকে শোনেন খুব খুশি হন। কিন্তু দুঃখ একটাই, মা আমার এই সাফল্য দেখে যেতে পারলেন না। ষোলো বছর আগে ক্যান্সার মাকে কেড়ে নিয়েছে। মা সবসময় বলতেন, এমন কিছু করবি যাতে লোকে তোর প্রশংসা করে। মনে হয় মায়ের কথার একটু হলেও মর্যাদা রাখতে পেরেছি।

#সুরজিত চৌধুরী #surajit#actor#television

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here