উইকেন্ড ডেস্টিনেশন ‘ইচ্ছে গাঁও’

0
616

কৌশিক চট্টোপাধ্যায় : জমাটবাঁধা কুয়াশার চাদর ছিঁড়ে দিনের প্রথম আলো এসে পৌঁছায় হিমালয়ের কোলে মুখ লুকিয়ে থাকা পাহাড়ি গ্রামে। ঘুম ভাঙে নাম না জানা লাল,নীল, হলুদ পাখির । সোনালী রোদ হরিণখেলা করে দেওদারু আর পাইনের বনে ৷একবুক নতুন স্বপ্ন নিয়ে ইচ্ছেরা ডানা মেলে দেয় হারিয়ে যাওয়ার নীল আকাশে। এখানে মেঘের দেশ থেকে উঁকি মারে কাঞ্চনজঙ্ঘা। এখানে আকাশের নীল থেকে স্বপ্নেরা একে একে নেমে এসে, বাসা বাঁধে বাস্তবের প্রস্তর ভূমিতে। প্রতিদিনের ছোটছোট ইচ্ছেগুলোকে সঙ্গী করেই ঘুম ভাঙে ‘ইচ্ছে গাঁওয়ের’ ৷

সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৮০০ ফুট উঁচুতে হিমালয়ের কোলে আত্মগোপন করে থাকা পাহাড়ি গ্রাম “ইচ্ছে গাঁও”। প্রায় কুড়ি পঁচিশ ঘর মানুষের বসবাস। একটা সময়ে কৃষিকাজ, পশুপালনের মধ্য দিয়েই জীবনযাপন করলেও বর্তমানে ভিলেজ ট্যুরিজমের হাত ধরে একটু একটু করে পর্যটন মানচিত্রে জায়গা করে নিচ্ছে পাহাড়ি গ্রামটি৷ চাহিদার হাত ধরে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন হোম স্টে৷ রঙবেরঙের নাম না জানা রঙিন পাখি, পাহাড়ি ফুল আর কুয়াশা মাখা পাইনের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে ভালুখপ ফরেস্টের পাহাড়ি পথ ধরে ২-৩ কিলোমিটার ট্রেক করেই পৌঁছে যাওয়া যায় সিলেরি গাঁও এ। এখানেও থাকার জন্য বেশ কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে। গ্রামদুটি ছোট্ট হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরিসীম। নানা রঙের কাঠের ঘর আর ছোট্ট বারান্দার টবে রাখা ত্রিমুলা,পপি,জিরেনিয়াম ফুলের মেলা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেল জঙ্গলে হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ার, লেপার্ড,সজারু থাকলেও খুব একটা দেখা মেলেনা তাদের। তবে ভাগ্য ভালো থাকলে দেখা মিলতে পারে রেড পান্ডার।

সাধারণত সিকিমের সিল্করুটের পর্যটকেরা জুলক যাওয়ার পথে ইচ্ছে গাঁওয়ে এক রাত্রি থেকে পরের দিন জুলুকের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ফলে একদিকে যেমন শিলিগুড়ি থেকে জুলুক যাওয়ার একটানা জার্নি থেকে অনেকটাই রেহাই মেলে, অন্যদিকে ছোট্ট সুন্দর এই পাহাড়ি গ্রামের মানুষদের সুন্দর আতিথেয়তা চলার পথের আনন্দকে আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। আর সন্ধ্যে নামার মুখে পড়ন্ত সূর্যের আলোয় ঘুমন্ত পাহাড়ের ছায়া যখন একটু একটু করে গ্রাস করতে থাকে গোটা গ্রামকে। তখন ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকে রাত নামে। বিন্দু বিন্দু আলোয় রাতের আকাশে একে একে জেগে ওঠে কালপুরুষ, সপ্তর্ষি মন্ডল। আকাশ গঙ্গার গড়িয়ে পড়া আলোয় ভেসে যায় ইচ্ছে পূরনের দেশ৷ গরম কাপড় জাপটে ধরে শরীরকে। ধোঁয়া ওঠে কফির কাপ থেকে আর অন্ধকারে জমাট কুয়াশায় আচ্ছন্ন পাহাড়ি উঠোনে জ্বলে ওঠে ক্যাম্প ফায়ারের আগুন। একটুকরো আনন্দে জেগে ওঠে রাতের পাহাড়।

কিভাবে যাবেন : শিলিগুড়ি থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘন্টার পথ পেরিয়ে পৌঁছে যান ইচ্ছে গাঁওয়ে। দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে রিজার্ভ গাড়ি ভাড়া করে নেওয়াটাই ভালো। এক্ষেত্রে ভাড়া পরবে প্রায় ৩০০০ থেকে ৪০০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন : থাকার জন্য বেশ কয়েকটি হোম স্টে রয়েছে এখানে। থাকা-খাওয়া সহ প্রতিদিন প্রতিজন হিসেবে পরবে ৭০০ – ১০০০ টাকা। যোগাযোগ করুন – রূপেশ তামাং ফোন -7407627807, ক্রিম ইন অল টেস্ট অ্যাণ্ড ট্রাভেলস ফোন – 9474443080,9733302204

ভীনদেশী কুয়াশার পথ ধরে দুদিনের পাহাড়ি অবকাশ ‘মাইরুন’

সিল্করুটের পাহাড়ি পথ বেয়ে অনন্ত মেঘেরদেশ ‘জুলুক’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here