বিজ্ঞানের চোখ দিয়ে মানব সভ্যতা প্রথমবার চাক্ষুষ করল সত্যিকারের কৃষ্ণগহ্বর

0
1013

নিউজ ডেস্ক : এমনই তার অমোঘ আকর্ষণ যে তার সেই আকর্ষণের মায়াবী জাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে পারেনা এক কণা আলোও। তাই আমাদের চোখে সে অদৃশ্য। অদৃশ্য সেই কুহকময় আকর্ষণের নাম “কৃষ্ণগহ্বর”। যার ইংরেজি নামে আমরা তাকে বেশি জানি “ব্ল্যাকহোল” বলে। ব্ল্যাকহোল বা কৃষ্ণগহ্বর মহাজাগতিক এমনই এক বিস্ময়কর বস্তু যার অস্তিত্ব, বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মানুষ এতদিনে অনেকাংশে জানলেও তাঁকে কোনও দিন চাক্ষুষ করেনি।

এ পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে তার শুধু ছবি এঁকে গেছি। কিন্তু এতদিন মানুষের চোখকে ফাঁকি দিলেও এবারে সে ধরা দিয়েছে মানুষের তৈরি “দীর্ঘচক্ষু” অর্থাৎ টেলিস্কোপের যান্ত্রিক চোখে। বুধবার ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ বা ইএইচটি-র গবেষক বিজ্ঞানীরা ব্ল্যকহোলের সেই প্রথম প্রত্যক্ষ দৃশ্যমান প্রমাণ পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসেন এবং তার সাথে এই সংক্রান্ত তথ্য প্রথম প্রকাশ করে জানান, ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ বা ইএইচটি নামে সারা পৃথিবী জুড়ে অবস্থিত আটটি রেডিও টেলিস্কোপের একটি নেটওয়ার্ক ব্ল্যাকহোলের সর্বপ্রথম এই ছবিটি তুলতে সক্ষম হয়। আকারে আমাদের সৌরজগতের চেয়েও বৃহৎ এই ব্ল্যাকহোলটি পৃথিবী থেকে ৫৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে অবস্থান করছে। যা পৃথিবীর আকারের তুলনায় ৩০ লক্ষ গুণ বড়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন “এম ৮৭” নামে এক নক্ষত্রপুঞ্জ বা গ্যালাক্সির অন্তর্গত এই ব্ল্যাকহোলটি একটি নিখুঁত গোলাকার এবং বিশাল আকৃতির যা ৪০০ লক্ষ কিলোমিটার জুড়ে অবস্থিত। এইকারণে একে “মনস্টার” বা দানব বলে অভিহিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।

ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ বা ইএইচটি-র থেকে প্রকাশিত ব্ল্যাকহোলটির ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে অতিউজ্জ্বল এক আগুনের বলয় ঘিরে রেখেছে ব্ল্যাকহোলটিকে। বিজ্ঞানীদের মতে সেই আগুনের আলোর উজ্জ্বলতার কাছে হার মানবে কোনও নক্ষত্রপুঞ্জ বা গ্যালাক্সির লক্ষ লক্ষ নক্ষত্রের একত্রিত উজ্জ্বলতাও। বিজ্ঞানীদের মত ব্ল্যাকহোলটির চারিধারের এই অতি উজ্জ্বল আগুনের বলয়টি অতি উত্তপ্ত গ্যাসের ফলে তৈরি হয়েছে যা ওই ব্ল্যাকহোলটির তীব্র আকর্ষণের কারণে তার কেন্দ্রের মধ্যে আপতিত হচ্ছে, এবং এই উজ্জ্বলতার কারণেই এতদূর পৃথিবী থেকে তাকে দেখা যাচ্ছে। প্রকৃত ব্ল্যাকহোলের এই ছবি প্রসঙ্গে এই গবেষণার অন্যতম গবেষক ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের জিরি ইউনসি বলেন, ব্ল্যাকহোলের এই ছবি আমাদের তাত্ত্বিক পদার্থবিদের গণনা এবং হলিউড চিত্র পরিচালকদের কল্পনার সাথে বহুলাংশে মিলে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন এই ছবি মানুষকে সাহায্য করবে ব্ল্যকহোলের মত এক রহস্যময় মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে আরও বিশদভাবে জানতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here