‘কিয়া অ্যান্ড কসমস’ এ আসছে এক কিশোরী গোয়েন্দা, ছবি নিয়ে কথা বললেন পরিচালক সুদীপ্ত রায়

0
1856
দেবলীনা ব্যানার্জী

ছর পনেরোর কিশোরী কিয়া আর তার প্রিয় বিড়াল কসমস, এই দুজনকে ঘিরে এসেছে এক রহস্যের বাতাবরণ। এই রহস্য সত্যিই রহস্য নাকি গোয়েন্দা গল্পের পোকা এক কিশোরী মনের কল্পনা সেটাও এক রহস্য বটে। ব্যোমকেশ-ফেলুদা পড়তে পড়তে বড় হওয়া কিয়া যে সবকিছুতেই রহস্যের গন্ধ পায়। কিয়ার মা দিয়া সিঙ্গল মাদার, মা মেয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের ছবিও এসেছে গল্পে। এই প্রসঙ্গে বলি কিয়া কিন্তু সাধারণ কোনো কিশোরী নয়, সে স্পেশাল চাইল্ড।‘পারভেসিভ ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার’-এ আক্রান্ত সে। যেকারণে তার মানসিক বিকাশ বয়সের তুলনায় কম। এই ছোট্ট কিয়া তার মতো করেই প্রিয় বেড়াল কসমসের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত শুরু করে।

সম্প্রতি মুক্তি পেল ছবির ট্রেলার।বোঝাই যাচ্ছে টানটান উত্তেজনা ও অন্য স্বাদের রহস্যে ভরা গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে নবাগত পরিচালক সুদীপ্ত রায়ের ছবি ‘কিয়া অ্যান্ড কসমস’।পেশায় সাংবাদিক সুদীপ্ত ইতিপূর্বে বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি বানিয়েছেন, এটিই তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি।ইতিমধ্যেই কান, গ্লাসগো, বার্সেলোনা, মিলানের ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রশংসিত হয়েছে এ ছবি।এ রাজ্যে মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২৯ মার্চ। মুক্তির ঠিক আগে পরিচালক নিজের ছবি নিয়ে কথা বললেন আমাদের প্রতিনিধি দেবলীনা ব্যানার্জীর সাথে।

পরিচালক সুদীপ্ত রায়

দেবলীনা : ‘কিয়া অ্যান্ড কসমস’ নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ আগ্রহ জন্মেছে, এটাই তো তোমার প্রথম ছবি?

সুদীপ্ত : হ্যাঁ এটাই আমার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি, এর আগে আমি দুটো শর্ট ফিল্ম করেছি।

দেবলীনা : ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবিগুলো এখন বেশ নতুন নতুন ভাবনাচিন্তা তুলে ধরছে, তোমার ছবিও বিষয়গত ভাবে বেশ অভিনব

সুদীপ্ত : হ্যাঁ ‘কিয়া অ্যান্ড কসমস’ কেও ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম বলতেই ভালোবাসি আমি। প্রথমে ছবিটি শুরু হয়েছিল ক্রাউড ফান্ডিং করে। পরে অবশ্য ছবিটা প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছেন AVA ফিল্মসের তরফে পবন কানোরিয়া, এবং প্রাচী কানোরিয়া ছবিটি প্রেজেন্ট করছেন।

দেবলীনা : ছবির গল্প সংক্ষেপে কিছুটা আমাদের বলো

সুদীপ্ত : একটা পনেরো বছরের বাচ্চা মেয়ের গল্প, যে মেয়েটা বেড়াল ভালোবাসে।সে তার সিঙ্গেল মাদারের সাথে কলকাতায় থাকে। রাস্তার এক বেড়াল কসমস,তাকে কেউ একটা খুন করে ফেলে।কিয়া ব্যোমকেশ ফেলুদা পড়তে পড়তে বড় হয়েছে, তার মধ্যে একটা গোয়েন্দাসত্ত্বার উপস্থিতি তাই রয়েছে। সে খুঁজতে বেরোয় তার প্রিয় বেড়াল কসমস, যে প্রেগন্যান্ট ছিল, তাকে কে খুন করল?

দেবলীনা : তাহলে এটা তো থ্রিলার।

সুদীপ্ত : আমি এটাকে ড্রামা বলব। থ্রিলার ড্রামা বলা যেতে পারে।

দেবলীনা : এরকম একটা গল্প মাথায় এল কিভাবে?

সুদীপ্ত : এই গল্পটা মাথায় অনেকদিন আগেই এসেছিল। ২০১২ সালে এই স্ক্রিপ্টটা আমি লিখি। গল্পটা অনেক জায়গা থেকে অনুপ্রাণিত। একটা ব্রিটিশ নভেল আছে মার্ক হেডেনের লেখা ‘ দ্য কিউয়িয়াস ইন্সিডেন্ট অফ দ্য ডগ অ্যান্ড দ্য নাইটটাইম’ । এটা থেকে গল্পটা অনেকটা প্রভাবিত তবে কলকাতা চরিত্রে গল্পটা আমার। এছাড়া রবীন্দ্রনাথের রানুর প্রথম ভাগ ও বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বিড়াল’ প্রবন্ধের প্রভাব রয়েছে এই গল্পে। গল্পটা প্রথমে ছবি করব বলেই লিখেছি এমন নয়, স্ক্রিপ্ট আরো কিছু ছিল, কিন্তু এ গল্পটা সকলের বেশ পছন্দ হয়। তাই প্রথম ছবি হিসেবে এটিকেই বেছে নেওয়া।

দেবলীনা : ছবিটা কোথায় কোথায় দেখানো হয়েছে বা হবে

সুদীপ্ত : কানে ছবিটির ওয়ার্কিং প্রোগ্রেস কার্ড দেখানো হয়েছিল আগের বছর। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ছবিটি দেখানো হয়েছে, যেমন স্পেনের বার্সেলোনা, ইটালির মিলান, স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো। এরপরে দেখানো হবে স্পেনের মাদ্রিদ, স্টকহোম সুইডেনে। এছাড়াও মে মাসে দেখানো হবে নিউ ইয়র্কে। আর ২৯শে মার্চ ছবি মুক্তি পাচ্ছে কলকাতায় ও কিছু বাইরের শহরে।

দেবলীনা : ছবির অভিনেতা অভিনেত্রী

সুদীপ্ত : ঋত্বিকা পাল কিয়ার চরিত্রে। কিয়ার মায়ের চরিত্রে স্বস্তিকা মুখার্জি, চরিত্রের নাম দিয়া। কিয়ার বাবার চরিত্রে জয় সেনগুপ্ত। শ্রমণ চট্টোপাধ্যায় ও জাহিদ হোসেন রয়েছেন মুখ্য চরিত্রে।

দেবলীনা : ছবির সঙ্গীত কে করেছে?

সুদীপ্ত : সঙ্গীত পরিচালনা করেছে নীল অধিকারী। দুটো গান রয়েছে, একটি ইংরেজি আর একটি বাংলা। দুটোই গেয়েছে নীল অধিকারী নিজেই।

দেবলীনা : ছবির নেপথ্যে আর কারা আছেন?

সুদীপ্ত : ছবির সম্পাদনা করেছেন অনির্বাণ মাইতি।ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফার মুম্বাইয়ের আদিত্য বর্মা, সাউন্ড ডিজাইনিং করেছে অভিনব অগ্নিহোত্রী (মুম্বাই)।

দেবলীনা : ছবির শুটিং কোথায় হয়েছে?

সুদীপ্ত : ছবিটার অনেকটা অংশই কালিম্পং এ শুট করা। আপনাদের উত্তরবঙ্গের কালিম্পং কে আমরা একটু অন্যরকম ভাবে দেখানোর চেষ্টা করেছি ছবিতে, আশা করি ভালো লাগবে। কলকাতা ও কালিম্পং এই দুজায়গাতেই ছবির শুটিং হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here