এবার শীতে দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের সম্ভাবনা প্রবল, চলুন বড়দিনের ছুটি কাটাতে যাই শৈলশহরে

0
2964
শ্রেয়সী কুণ্ডু : দার্জিলিংয়ে এবছর তুষারপাত শুধু সময়ের অপেক্ষায়। শুক্রবার যে হারে পাহাড়ে শিলাবৃষ্টি হয়েছে তাতে তুষারপাতের বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত করে দিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। কারণ ২০০৬ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ঠিক একইভাবে শিলাবৃষ্টির পরে শৈলশহর দার্জিলিং শহরে তুষারপাত হয়েছিল। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ পাহাড়ে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। একই সঙ্গে ঘুম, জোড়বাংলো, সীমানা, সুখিয়াপোখরিতে প্রবল শিলাবৃষ্টি হয়।
যার জেরে গোটা এলাকা শিলে ঢেকে যায়। এক ঝলকে দেখলে মনে হয়েছিল একদফা তুষারপাতই হয়ে গিয়েছে। তাই এবার শীতে দার্জিলিংয়ে তুষারপাতের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না পাহাড়ের বাসিন্দারাও। টাইগার হিলের প্যাভিলিয়ন ম্যানেজার প্রদীপ লামা জানিয়েছেন, দার্জিলিংয়ের তাপমাত্রা বৃষ্টির পর দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। সন্ধ্যার পরেই তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
যা পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে তাতে এবার তুষারপাত দেখতে পারবেন পাহাড়ের বাসিন্দারা। গত কয়েকদিন ধরেই পাহাড়ের তাপমাত্রা নামছিল। শিলাবৃষ্টির জেরে তা আরও নেমে গিয়েছে। এদিকে শিলাবৃষ্টি ও বৃষ্টির জেরে সমতল শিলিগুড়িতেও ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। এদিন সকাল থেকে শিলিগুড়িতে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকে। সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডায় কাঁপছে শিলিগুড়ি। অন্যদিকে, সিকিমের উত্তরাংশে দার্জিলিং জেলার সান্দাকফু, ফালুটেও তুষারপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সিকিমের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ শনিবার এই তাপমাত্রা আরও নামতে পারে। আর তার জেরেই সমতল শিলিগুড়িতে কনকনে ঠান্ডা পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। এদিকে তুষারপাত তৈরি হওয়ার আশায় দিন গুনছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বড়দিনে পর্যটন  মরশুম শুরু হচ্ছে ১৮ ডিসেম্বর থেকে।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইস্টার্ন হিমালায়া টুর এন্ড ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই অনেকে বড়দিনের ছুটি কাটাতে পাহাড়ে আসার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। পাহাড়ের ব্যবসায়ীরাও তুষারপাতের সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে সমতল শিলিগুড়ি থেকে হিটার কিনে নিয়ে যেতে শুরু করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here