জওয়ানদের বিক্ষোভে উত্তাল হল শিলিগুড়ির আইআরবি ব্যারাক

0
155
শ্রেয়সী কুণ্ডু, শিলিগুড়ি: রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত দফায় দফায় শিলিগুড়ির আইআরবি’র (ইন্ডিয়ান রিজার্ভ ব্যাটেলিয়ন) অম্বিকানগর ব্যারাক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেখানকার এক রিজার্ভ ইন্সপেক্টর প্রশিক্ষণ নিতে আসা জওয়ানদের মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এনিয়ে গভীর রাত থেকেই তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। এদিন সকালে আইআরবি’র ডিআইজি জয়ন্ত পাল ঘটনাস্থলে এসে জওয়ানদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ডিআইজি জানিয়েছেন, গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এবিষয়ে রিপোর্ট হাতে এলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা যাবে।
আইআরবি’র ওই ব্যারাকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র‌্যাফ) প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওই ব্যারাক সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসে জওয়ানদের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা প্রায় ৬০০ জওয়ানকে এক বছর ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কিন্তু জওয়ানদের প্রথম থেকেই অভিযোগ, সরকারি ন্যূনতম সুবিধা তাঁরা এখানে পাননি। পারিবারিক সমস্যার কারণে ছুটি চাইলেও দেওয়া হতো না। ব্যারাকের দূরাবস্থা নিয়ে তাঁরা সোমবার বিক্ষোভ চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তাঁরা বলেন, নিয়মিত শৌচাগার পরিষ্কার করা হয় না।
তাঁদেরই শৌচাগার সাফাই করতে হয়। এমনকী ঘর তাঁদেরকেই মুছতে হয়। খাওয়ার জল ঠিকমতো পাওয়া যায় না। মাঝরাতে বাঁশি বাজিয়ে লাইন আপ করানো হতো। এই নিয়ে প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহার করা হয়। গত কয়েক মাস ধরেই এই কারণে জওয়ানদের মধ্যে ক্ষোভ জমছিল। তাঁরা বলেন, রবিবার রাতে এক আরআই মদ্যপ অবস্থায় ব্যারাকে হাজির হন। রাতে কেন রুটি বানানো হয়নি এনিয়ে তিনি জওয়ানদের অকথ্যভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। কয়েকজন প্রতিবাদ করলে তিনি এক জনের কপালে বন্দুক ঠেকিয়ে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেন।
তাঁর মারধরে কয়েকজন জাওয়ান জখম হন। রাতেই তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। তাঁদের উপর নির্মম অত্যাচারের প্রতিবাদে রবিবার গভীর রাতে জওয়ানদের ক্ষোভ রাস্তায় এসে পড়ে। তাঁরা রাতে ব্যারাক সংলগ্ন রাস্তায় ধর্নায় বসেন। আইআরবি’র পদস্ত কর্তারা তাঁদের বুঝিয়ে ব্যারাকে পাঠালেও এদিন সকাল থেকে পরিস্থিতি আবার বিগড়ে যায়। তাঁদের দাবি, প্রশিক্ষণ শেষ হলেও আটকে রাখা হয়েছে। যদিও এবিষয়ে ডিআইজি এদিন কিছু বলতে চাননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here