সূর্যমুখী চাষে নতুন দিশা দেখালেন ইসলামপুরের কৃষক

0
159
সুশান্ত নন্দী,ইসলামপুর: ইসলামপুরে বলঞ্চার বাইপাসের ধারে সূর্যমুখী চাষ করে কৃষি ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান দিলেন কৃষক মহম্মদ ইসরাইল। ইসলামপুরের এক এনজিওর পরামর্শে ও কৃষি দপ্তরের সহযোগিতায় তিনি এবার এই ফুলের চাষ করলেন। তিন মাস অতিবাহিত হবার পর চার মাসের মাথায় আর কয়েকদিন পরই তিনি এই ফুল গুলি কেটে নেবেন। তিনি আশা করছেন সব ঠিক মতন হলে ভালো লাভ পাওয়া যাবে এই চাষে। অপাতত এবার সাত কাঠা জমিতে চাষ করেছেন। কিন্তু এর পরের বার তিনি কয়েক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুল চাষ করবেন।
অনেকেই উৎসাহিত হয়ে এই ফুল চাষ দেখতে আসছেন। উৎসাহিত লোকেরা সেই সঙ্গে দেদার সেলফিও তুলছেন।আগে আলু ও পটলের চাষ করতেন তিনি। কিন্তু একদম কম খরচে এই লাভজনক চাষের কথা শুনে তিনি প্রথমে কৌতুহলী হয়ে উঠলেন।পরে পরীক্ষামূলক ভাবে শুরু করলেন এই চাষ।খবর পেয়ে একদিকে যেমন উৎসাহী অন্যান্য কৃষকরা খোঁজ নিতে শুরু করলেন তেমনি শহুরে মানুষরাও গাড়ি নিয়ে ছুটে এলেন ফুলের সৌন্দর্য চাক্ষুষ দেখতে। এই চাষে খরচ প্রায় নেই বললেই চলে।সারও তেমন প্রয়োজন নেই।রাসায়নিক সারের তো দরকারই নেই।সার প্রয়োগে গাছের মরে যাবার সম্ভাবনা প্রবল।
ফুল চাষি মহম্মদ ইসরাইল জানান,এই চাষে ভালো দাম পাবেন।কারণ এটি একটি অর্থকরী ফসল।ইসলামপুর মহকুমার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি এই চাষ দেখার জন্য কলকাতা থেকেও লোক এসেছিল দুইবার।বীজ ফেলা হয় ডিসেম্বরে। এপ্রিল বা মে মাসে ফসল তোলা হয়।উদ্যান পালন দপ্তরে এই বিষয়ে সহযোগিতা করছেন।তবে আগামীতে ওই এলাকার অনেক চাষীই এই ফসলের চাষ করবার ক্ষেত্রে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সুর্যমুখী চাষের ক্ষেত্রে এই এলাকার ভৌগোলিক পরিবেশ ও অবহাওয়া যে উপযুক্ত তা পরিষ্কার। ইসলামপুর ব্লক কৃষি আধিকারিক দ্বীপ সিনহা জানান,ওই চাষের জন্য প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহ সহ অন্যান্য  সহযোগিতা কৃষি দপ্তর থেকে করা হয়েছে।তবে আগামীতে ব্যাপক হারে এই চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করবার পাশাপাশি সমস্ত রকম সহযোগিতা করা হবে।তবে এর জন্য কৃষি দপ্তরের পরামর্শ মেনে কৃষকরা চাষ করলে আরও ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here