শীতের মরসুমে ডুয়ার্সের চাবাগানে চা গাছের পরিচর্চার কাজ চলছে

0
355

 মালবাজার : শীতের মরসুমে ডুয়ার্সের চাবাগানে চা গাছের পরিচর্চার কাজ চলে।চা গাছ কলম করা।গাছের গোড়া পরিষ্কার করা সেচ দেওয়া ইত্যাদিরর কাজ চলে। প্রথম দুটি কাজ সারে চাবাগানের শ্রমিকরাই। সার ও ওষুধ চাবাগান গুলি বাইরে কিনে আনে।এই তিনটি কাজে চাবাগান কে খুব বেশী সমস্যায় পড়তে হয় না।কিন্তু, সেচের কাজের জন্য ডুয়ার্সের চাবাগান গুলিকে সমস্যায় পড়তে হয়।শীতের মরসুমে ডুয়ার্সের আকাশ মেঘহীন থাকে।

বৃষ্টি প্রায় হয় না বললেই চলে।ভরসা ভুগর্ভস্থ জল।সেই জল পাম্প দিয়ে তুলে পাইপলাইনের মাধ্যমে আবাদি এলাকায় নিয়ে সেচের জন্য ব্যবহার করা হয়।এই কাজ একদিকে যেমন ব্যায়বহুল পাশাপাশি কষ্টকর। তাছারা গত কয়েক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে ডুয়ার্স ভুগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমাগত নিচে নামছে।স্বাভাবিক ভাবে বছর বছর চাবাগান গুলি খরচের বহর বাড়ছে।

তাছাড়া ভুগর্ভস্থ জল সব জায়গায় প্রতুল নয়।এই সমস্যা এড়াতে ডুয়ার্সের বেশকিছু চাবাগান নদী এবং ঝোড়ার জল সংগ্রহ করে সেচের কাজে ব্যবহার করে।লক্ষ লক্ষ গ্যালন জল সংগ্রহ করার জন্য বেশকিছু চাবাগান জেসিবি মেশিন দিয়ে নদী বা ঝোড়ার বুকে বড় বড় গর্ত খুড়ে নদীরর স্বাভাবিক জলধারা পাথরের বাধ দিয়ে আটকে সেচের জন্য ব্যবহার করে। এই কাজের ফলে বিভিন্ন রকম প্বার্শ প্রতিক্রিয়া ঘটতে শুরু হয়েছে। চাবাগান গুলি নদীর আপ স্টিম থেকে জল সংগ্রহ করে।

ফলে ডাউন স্টিমে নদীতে আর জল থাকেনা।স্বাভাবিক ভাবে ডাউন স্টিমে অবস্থিত কৃষি নির্ভর গ্রামাঞ্চলে এই সময় তীব্র জল সংকট দেখাদেয়।এমনকি পানীয় জলের কুয়ো পর্যন্ত শুখিয়ে যায়। গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান নিয়ে দেখা গেছে, মাল নদীর অববাহিকা অঞ্চলের আপস্টিমে রয়েছে ডলিমকোট,মালনদী,গুড়জংঝোড়া,সোনগাছি র মতো চাবাগান।এরা সেচের জন্য নদী থেকে জল সংগ্রহের ফলে ডাউন স্টিমে অবস্থিত মাল পুর এলাকা,তেশিমলা ও কুমলাই গ্রামাঞ্চলে এই শুখার মরসুমে মারাত্মকভাবে জল সংকট সৃষ্টি হয়।কুয়োর জল শুখিয়ে যায়।

বাধ্য হয়ে পুরসভা সংকট কাটাতে গত কয়েক বছর ট্যাংকে করে জল সরবরাহ করে আসছে।শহরের মাঝে মাঝে গভীর নলকুপ বসিয়েছে।তেশিমিলা ও কুমলাই গ্রামাঞ্চলে নলকুপের মাধ্যমে পানীয় জলের ব্যবস্থা হলেও কৃষির জন্য জল কিন্তু অধিরা থেকে যায়। এভাবে ডুয়ার্সের ডায়না,জলঢাকা,মুর্তি,কুরতি,নেওড়া মাল,ধবিঝোড়া, নদী থেকে জল তুলে নেওয়ার জন্য নিম্ন অববাহিকা অঞ্চলে শুখার মরসুমে তীব্র জল সংকট দেখা দেয়।

এনিয়ে ডুয়ার্সের বিশিষ্ট পরিবেশ প্রেমী নফসর আলি বলেন,এভাবে জল সংগ্রহ শুধু আইন বিরোধী নয়,পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর। নিচু এলাকায় জলের সংকট হয়।নদীর জল শুখিয়ে যাওয়ার ফলে বহু ব্যাক্টেরিয়া সহ কীটানু মারা যায়। জলের স্তর নিচে নেমে যায়। গত বছর আমরা লিখিত ভাবে মহকুমাশাসক সহ অন্যান্য দপ্তরে জানিয়ে ছিলাম।সেচ ব্যবস্থা নিয়েছিল।এবছর আবার একই প্রবনতা শুরু হয়েছে।এটা মারাত্মক। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এনিয়ে সেচ দপ্তরের এস ডি ও কেশব রায় বলেন,এভাবে জল সংগ্রহ আইন সিদ্ধ নয়।এরা কেউ আমাদের থেকে এন ও সি নেয় নি।গত বছর আমরা অভিযোগ পেয়ে মুর্তি এজাতীয় ডাম ভেংগে দিয়ে ছিলাম।এই প্রবনতা বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ছিলাম।এবছর সে রকম অভিযোগ পাই নি।তবে খোজ নিয়ে দেখছি। ব্যবস্থা নেব দেখা গেছে  ইতিমধ্যে এভাবে জল তোলার প্রবনতা শুরু হয়েছে।